• ই-পেপার

ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করল তুরস্ক

প্রেমের জয়গান গাইলেন জাস্টিন ট্রুডো

অনলাইন ডেস্ক
প্রেমের জয়গান গাইলেন জাস্টিন ট্রুডো
সংগৃহীত ছবি

প্রেম কখনো কখনো মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বোধ-বুদ্ধি ভুলিয়ে দেয়, ফেলে দেয় দারুণ বিপাকে। তেমনি এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। 

গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে একই সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি ম্যাচ ছিল। টরন্টোতে বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্বাগতিক কানাডা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র মাঠে নেমেছিল প্যারোগুয়ের বিপক্ষে। সাধারণ বিবেচনায় ট্রুডোর টরন্টোতেই থাকার কথা, থাকা উচিত। কিন্তু বাগড়া দিয়েছে প্রেম।

যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের ম্যাচের আগে যে স্টেডিয়ামে গাইবেন ট্রুডোর প্রেয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরি। কানাডা না পেরি, দেশ না প্রেম—এই দ্বন্দ্বে পড়েন বিশ্বের বহু তরুণীর ক্রাশ জাস্টিন ট্রুডো। শেষ পর্যন্ত প্রেমেরই জয় হয়েছে। কানাডার ম্যাচ ফেলে প্রেমিকার গান শুনতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ছুটে যান ট্রুডো। প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই যখন সেলিব্রেটি; তখন প্রেমটা যে গোপনে করবেন, সে উপায়ও থাকে না। ক্যামেরা বারবার খুঁজে নিয়েছে এই তারকা জুটিকে। 

কেটি পেরি মঞ্চ থেকে ছুটে এসে ট্রুডোকে চুমু খাচ্ছেন, সে দৃশ্য দেখেছেন বিশ্বের কোটি মানুষ। ম্যাচজুড়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্লিপে এ জুটিকে গ্যালারিতে বসে বিয়ার পান করতে ও ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সঙ্গে, এই দৃশ্য সবারই ভালো লাগার কথা। কিন্তু কানাডিয়ানদের কাছে এটা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

ট্রুডো-পেরির প্রেমের দৃশ্য ভাইরাল হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনলাইনে অনেক কানাডিয়ান নাগরিক বিরক্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক কানাডিয়ান একে ‘দেশের মুখে চপেটাঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে ‘এটি কতটা কুরুচিপূর্ণ তা বলে বোঝানো যাবে না।’ অনেকে ট্রুডোকে ‘প্রতারক’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।

তীব্র সমালোচনায় জর্জরিত জাস্টিন টুডো অবেশেষ মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে কানাডার পতাকার ইমোজি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘মাঝে মাঝে আপনাকে সাপোর্টিভ প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে, আপনারা জানেন কাপ জেতার জন্য আমি কাকে সমর্থন করছি।’ প্রেমের এ দোহাই ট্রুডোকে কতটা রক্ষা করবে কে জানে।

৫৩ বছর বয়সী জাস্টিন ট্রুডো এবং ৪১ বছর বয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরিকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশিদিন ডুবে ডুবে জল খাননি তারা। ওই বছরের ডিসেম্বরেই ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেন।

এর আগে টিভি উপস্থাপক সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে ট্রুডোর ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয় ২০২৩ সালে। কেটি পেরিও ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংলিশ কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সংসার করেন।

কানাডিয়ানরা যতই গালাগাল করুক, কেটি পেরি নিশ্চয়ই এমন দায়িত্ববান, সাপোর্টিভ প্রেমিক পেয়ে খুশি।

‘গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক ইরান’

অনলাইন ডেস্ক
‘গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক ইরান’
রয়টার্স ছবি

ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশটিকে ‘গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক’ বলে অভিহিত করেছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানায়, তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের কাছে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ইরান বাধ্য করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির প্রথম এবং মৌলিক শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা।’

নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে এসেছি, ইরান হিজবুল্লাহ, প্রতিরোধ আন্দোলন এবং লেবাননের জনগণকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই নেয়নি। তারা আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে, আমাদের ভূমি মুক্ত করার শক্তি দিয়েছে, সমাজের ক্ষত সারিয়ে তুলতে এবং জনগণকে সহায়তা করতে সাহায্য করেছে।’

ইরানের সাম্প্রতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘আজ ইরান রক্ত দিচ্ছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলার জবাবে জায়নবাদী সত্তার বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে এবং যুদ্ধের হুমকিসহ নানা পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বিপুল ত্যাগও স্বীকার করছে।’

কাসেম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ইরান গর্ব ও মর্যাদার এক প্রতীক।’

প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
রয়টার্স ছবি

ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো কোনো বড় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

মঙ্গলবার ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানায়, ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য এনইইটি-২০২৬ পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রতারণার জন্য সংগঠিত চক্রগুলো টেলিগ্রাম ব্যবহার করছিল। এ কারণেই অ্যাপটির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এনটিএর ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ২২ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

২৩ লাখ পরীক্ষার্থীর ফল বাতিল

গত মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিত এনইইটি স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের স্বার্থে ভারত সরকার পরীক্ষাটি বাতিল করে এবং প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর ফলাফলও বাতিল করা হয়।

সরকারের দাবি, টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনে অংশ নেয়।

নিষেধাজ্ঞা

ভারত সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি ধারা ব্যবহার করে টেলিগ্রামের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওই আইনে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে’ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। 

তবে ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, টেলিগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি অপ্রতুল এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংগঠনটির মতে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রকৃত অপরাধীদের বদলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তিতে ফেলবে এবং প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ দূর করতে পারবে না।

এদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধে আগের পদক্ষেপগুলো কার্যকর না হওয়ায় শেষ উপায় হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার এক বিবৃতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

পারমাণবিক শক্তিধর হতে গেলে ইরানের ‘সর্বনাশ’ হবে : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
পারমাণবিক শক্তিধর হতে গেলে ইরানের ‘সর্বনাশ’ হবে : ট্রাম্প
রয়টার্স ছবি

ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে জানান, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগোয়, তাহলে দেশটির ওপর ‘সর্বনাশ’ নেমে আসবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘চুক্তির মূল বিষয় হচ্ছে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আর যদি তারা তা করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন অর্থনৈতিক সহায়তা বা বিনিয়োগের আলোচনা চললেও ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ওয়াশিংটন এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে চুক্তির অন্যান্য শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ বা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।