• ই-পেপার

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন সফরে

রাশিয়া চাপে পড়লেও পুতিন অনড়

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়া চাপে পড়লেও পুতিন অনড়
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে এসে নতুন মোড় নিয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে বাধ্য করতে ইউক্রেন ৪০ দিনের বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে একের পর এক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ হামলায় ক্রেমলিন কিছুটা চাপে পড়লেও পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অনড়।

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বসার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে নিজেদের শক্তি আরো সুসংহত করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাবে রাশিয়াও আকাশ এবং স্থলপথে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়া বেছে বেছে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবস্টেশন এবং হিটিং প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার কৌশল নিয়েছিল। এ কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলে বেসামরিক নাগরিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। এখন ইউক্রেন পাল্টা সেই কৌশলই প্রয়োগ করছে রাশিয়ার ওপর।

ইউক্রেন এখন বেছে বেছে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল, নৌযান, অস্ত্র কারখানা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রের মত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। নতুন কৌশলে তারা যথেষ্ট সফলও। যুদ্ধের উত্তাপ দরজায় দেখে রাশিয়ার জনগণও এখন উদ্বিগ্ন, শঙ্কিত। ৫ বছরের যুদ্ধ এমনিতেও রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর প্রচল চাপ সৃষ্টি করেছে। সেই চাপ এখন আরো প্রবল হয়েছে। ইউক্রেন চাইছে, রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ আরো বাড়াতে, যাতে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয় অথবা যুদ্ধের জন্য তাদের আরো বেশি মূল্য দিতে হয়।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানী উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় তেলের পাম্পে এখন লম্বা লাইন, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। তেলের জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে; যা তাদের বিরক্ত করছে, উদ্বিগ্ন করছে। ইউক্রেনের কাছ থেকে দখল করা ক্রিমিয়ায় জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে এবং উপদ্বীপটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

শুরুতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাকে পাত্তা না দিলেও এখন এমনকি পুতিন নিজেও জ্বালানী সঙ্কটের কথা স্বীকার করেছেন। জ্বালানী সঙ্কট মোকাবেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কথাও ভাবছেন পুতিন। গত সপ্তাহে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে পুতিন স্বীকার করেন, জ্বালানী তেলের মজুদ অস্বস্তিকর মাত্রায় নেমে এসেছে।

রাশিয়ার কৃষি খাত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্বীকার করে পুতিন বলেছেন, ‘আমাদের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও অবকাঠামোয় সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।’

যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেন রাশিয়ার ওপর এখনকার মত চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। কারণ তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা অনেকটাই পশ্চিমা সমর্থন নির্ভর ছিল। কিন্তু ইউক্রেন এখন ড্রোনের এক বিশাল অভ্যন্তরীণ শিল্প গড়ে তুলেছে। তারা এখন বছরে ৬০ থেকে ৭০ লাখ ড্রোন উৎপাদন করছে। সীমান্ত এলাকায় স্থলযুদ্ধে পারা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার অনেক ভেতরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে সুনিপুণভাবে আঘাত হানতে পারছে।

সামরিক শক্তিতে পাল্লা দেয়া সম্ভব নয় জেনে ইউক্রেন এখন  ‍যুদ্ধে মনস্তাত্বিক ও কৌশলগত ভাবে এগিয়ে থাকতে চাইছে। যুদ্ধে ইউক্রেনের এ আপাত সাফল্য জেলেনস্কিকে কিছুটা এগিয়ে দিয়েছেও।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি একসময় জেলেনস্কির ওপর বিরক্ত ছিলেন, তিনিও এখন তার সাহসের প্রশংসা করছেন। ন্যাটোও আরো দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনের পাশে দাড়ানোর কথা বলছে। নিজের নতুন কৌশলে আত্মবিশ্বাসী জেলেনস্কি বলছেন, ’সঠিক সমর্থন পেলে ইউক্রেন দ্রুত এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে রাশিয়া শান্তি বেছে নিতে বাধ্য হবে।’

কিন্তু ইউক্রেনের ড্রোন কৌশলের কাছে পুতিন নতি স্বীকার করবেন, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। পুতিনকে যারা চেনেন, তারা জানেন অন্তত চাপ দিয়ে তাকে ভাঙ্গা যাবে না। ইউক্রেনের পাল্টা হামলার মুখে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা কিছুটা মন্থর হলেও থেমে নেই।

রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং গ্লাইড বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ নতুন গতি পেলেও তা বন্ধের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার সর্বেসর্বা ভ্লাদিমির পুতিন। কেজিবি থেকে ক্রেমলিন- সর্বত্র তার একাধিপত্য। সামরিক বাহিনী এবং প্রশাসনকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে ভেতর থেকে কোনো ঝুঁকি  নেই বললেই চলে। 

পশ্চিমাদের নানামুখী অবরোধ থেকে রাশিয়ার অর্থনীতিকে রক্ষায় পুতিন চীন, ভারত, ইরানের সাথে মিলে বিকল্প রাস্তা বের করেছেন। তারচেয়ে বড় কথা পুতিন জানেন, তার হাতে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রই তার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। পশ্চিমারা দূর থেকে যতই জেলেনস্কিকে উসকানি দিক, অস্ত্র দিক; সরাসরি রাশিয়ায় হামলা চালিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধানোর ঝুঁকি কেউ নেবে না।

৮০ বছর পর থাইল্যান্ডে মার্কিন পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
৮০ বছর পর থাইল্যান্ডে মার্কিন পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন পাইলটের দেহাবশেষ ৮২ বছর পর থাইল্যান্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ম্যাককিনি নামের ওই পাইলট ১৯৪৪ সালের ৫ নভেম্বর চীনের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হন। ১৯৪৬ সালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্যাংককে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, উত্তর থাইল্যান্ডের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাককিনির বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

২০০৮ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী একাডেমির তৎকালীন ক্যাডেট ড্যান জ্যাকসন এবং থাই বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা এই নিখোঁজ বিমানের সূত্র খুঁজতে শুরু করেন। ২০১১ সালে ব্যাংককের এক বন্যার পর আর্কাইভের পুরোনো নথিপত্র গোছানোর সময় ১৯৪৪ সালের একটি সামরিক লগবুক পাওয়া যায়। সেখানে উত্তর থাইল্যান্ডে একটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এবং স্থানীয়দের একটি মাথার খুলি পাওয়ার রেকর্ড ছিল।

এর সূত্র ধরে ২০১৭ সালে গবেষকরা দুর্ঘটনাস্থলের মে কুয়া গ্রামের ৯৪ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী ফং ইনমার খোঁজ পান। তিনি জানান, ১৯৪৪ সালে বজ্রঝড়ের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং তার বাবা (তৎকালীন গ্রামপ্রধান) পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে সেখানেই সমাহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বনাঞ্চলটি কেটে ধানক্ষেত বানানো হয়। ২০২২ সাল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিখোঁজ সৈনিক অনুসন্ধান সংস্থা ওই ধানক্ষেতে সুনির্দিষ্ট খননকাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা স্তরের পর স্তর মাটি খুঁড়ে এবং তা চালুনির মাধ্যমে চেলে অবশেষে কিছু হাড়ের টুকরো ও বিমানের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত হাড়গুলো নিখোঁজ পাইলট ম্যাককিনির বলে নিশ্চিত করা হয়। এরপর ব্যাংককে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার দেহাবশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সৈনিককে পেছনে ফেলে না যাওয়ার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পূরণ হলো।

‘বিজয়’ পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান হলেন ধীরজ শেঠ

অনলাইন ডেস্ক
‘বিজয়’ পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান হলেন ধীরজ শেঠ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সেনাবাহিনীর ৩১তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আধুনিক একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই পরিকল্পনার ভিত্তি হলো তার ‘বিজয়’ (VIJAY) কাঠামো, যেখানে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও রূপান্তরের জন্য পাঁচটি মূল দিক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে জেনারেল শেঠ বলেন, এই মুহূর্ত তাঁর জন্য 'অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগের'। তিনি বলেন, তিনি সব সময় 'কর্তব্য, সম্মান এবং সবার আগে দেশ'- এই নীতিতে অটল থাকবেন।  তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, তাঁকে দেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। নতুন সেনাপ্রধান দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের সেনাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জেনারেল শেঠ বলেন, বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন একটি 'যুদ্ধ-প্রস্তুত ও অভিজ্ঞ বাহিনী', তবে যুদ্ধের ধরন বদলেছে। তাই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সমন্বয়ের ওপর এখন বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এই লক্ষ্যেই তিনি তাঁর ‘বিজয়’ কাঠামো ঘোষণা করেন। এতে প্রতিটি অক্ষর আলাদা একটি মূল দিককে নির্দেশ করে।

ভি- সতর্কতা ও প্রস্তুতি (Vigilance and Preparedness)

তিনি বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা এবং যেকোনো হুমকির জন্য প্রস্তুত থাকা হবে প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় সর্বোচ্চ মাত্রার প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে, যাতে যেকোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কার্যকর জবাব দেওয়া যায়।

আই- উদ্ভাবন ও পরিবর্তন (Innovation and Transformation)

সেনাপ্রধান জানান, সামরিক নীতি ও প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবন জরুরি। যুদ্ধের বাস্তবতা বদলাচ্ছে, তাই সেনাবাহিনীর চিন্তা, সক্ষমতা এবং পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

জে- যৌথ কার্যক্রম ও সমন্বয় (Jointness and Integration)

তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষেত্রের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাতের সমন্বিত কাজ জরুরি।

এ- আত্মনির্ভরতা (Atmanirbharata)

জেনারেল শেঠ বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধীরে ধীরে দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য হবে নিজস্ব সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ জেতা। বিদেশি সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ওয়াই- যোদ্ধাই মূল শক্তি (Yodha First)

তিনি সেনাসদস্যদের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অগ্নিবীর থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য- সবাইকে তিনি ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সেনার প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও পেশাগত মান উন্নত করা হবে তার অঙ্গীকার। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সেনা এবং শহীদ পরিবারের কল্যাণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেনারেল শেঠ তার পূর্বসূরি জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীসহ সাবেক সেনাপ্রধানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, তাঁর ‘বিজয়’ কাঠামো প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত যৌথ কার্যক্রম, উদ্ভাবন ও আত্মনির্ভরতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই নীতিগুলোই সেনাবাহিনীর রূপান্তরের দিকনির্দেশনা দেবে। নিজের ও সেনাবাহিনীর জন্য স্লোগান হিসেবে তিনি বলেন, 'জয় সে বিজয়'- অর্থাৎ আহ্বান থেকে বিজয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া। 'জয় হিন্দ, জয় ভারত' বলে তিনি তার ভাষণ শেষ করেন।


 

পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালাল আফগানিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালাল আফগানিস্তান
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে সীমান্তবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক হুঁশিয়ারিতে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

তালেবান সরকারের দাবি, তাদের বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তান থেকে আসা চারটি সাধারণ ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানির ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়া হবে।

যদিও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আফগানিস্তানের দাবি করা এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

গত রবিবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালানোর পরই নতুন করে উত্তেজনার শুরু হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পরে দাবি করে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৬০ জনেরও বেশি। তাদের অভিযোগ, হামলায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। 

দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, নিরীহ মানুষের ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পরিচালিত অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, উভয় পক্ষই হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে আফগানিস্তান এমন জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার ধারাবাহিকভাবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত অক্টোবরে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজিও হয়েছিল। কিন্তু দুই দেশের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

দুই দেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মার্চে কাবুলের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। 

এর আগে জুনে পাকিস্তান এক বিমান হামলায় ২৬ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করলেও তালেবান সরকারের ভাষ্য, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন সফরে | কালের কণ্ঠ