• ই-পেপার

কাতার সফরে সৌদি যুবরাজ

পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের উদ্যোগ আইএমও-র

অনলাইন ডেস্ক
পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের উদ্যোগ আইএমও-র
ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে স্বস্তির আলো দেখা যাচ্ছে পারস্য উপসাগরে। সেখানে আটকে পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ১১,০০০-এরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেয়েছে। এখন ওমান, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উপকূলীয় দেশ এবং সামুদ্রিক শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। কয়েক মাসের অচলাবস্থার কারণে পারস্য উপসাগরের এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন আটকে থাকায় জাহাজগুলোতে জ্বালানি ও রসদ ফুরিয়ে আসছিল। একই সাথে তীব্র মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভুগছিলেন আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিক। এই সংঘাত চলাকালীন দুর্ভাগ্যবশত ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযান শুরু করার আগে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি নিহত সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। সারা বিশ্বে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার এবং জাহাজ কোম্পানিগুলো এখন এই উদ্ধার অভিযানের দিকে গভীর নজর রাখছে।

সংগীত উৎসব যেন ‘দুঃস্বপ্ন’ : ‘সিরিঞ্জ হামলা’-ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
সংগীত উৎসব যেন ‘দুঃস্বপ্ন’ : ‘সিরিঞ্জ হামলা’-ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল ফ্রান্স
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সের বার্ষিক সংগীত উৎসব ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’-এ বছর রাতভর সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, সিরিঞ্জ হামলার অভিযোগ এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। দেশজুড়ে আয়োজিত এই উৎসবে দুই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে সিরিঞ্জ দিয়ে খোঁচা দেওয়ার ঘটনাও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এই জনপ্রিয় পথসংগীত উৎসবে লাখো মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। তবে উৎসব চলাকালে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটায় আনন্দের পরিবেশ দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় রাজধানী প্যারিসে। রাতভর বিভিন্ন এলাকায় মারামারি, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে অন্তত ২৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ প্যারিস থেকে আটক করা হয়েছে।

উৎসব ঘিরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল সিরিঞ্জ দিয়ে খোঁচা দেওয়ার অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে থাকা অবস্থায় কয়েকজন নারী হঠাৎ শরীরে সিরিঞ্জের খোঁচা অনুভব করেন। এক নারীকে প্যারিসের বুলভার দ্য লা মাদেলেন এলাকায় সিরিঞ্জ দিয়ে খোঁচা দেওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরীক্ষা করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সিরিঞ্জের মাধ্যমে কোনো মাদক বা অন্য কোনো পদার্থ শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে।

এদিকে উৎসব চলাকালে যৌন নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত দুই নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া আরো কিছু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে কম বয়সীরাও থাকতে পারেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। শুধু যৌন নির্যাতন নয়, বিভিন্ন এলাকায় ছুরিকাঘাত এবং দলবদ্ধ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকা শাতলে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। সেখানে রাস্তায় মারামারি, আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সরু রাস্তাগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি সেবাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

স্টিভ নামে এক ব্রিটিশ প্রত্যক্ষদর্শী ডেইলি মেইলকে বলেন, উৎসবের পরিবেশ ছিল ‘অত্যন্ত জনাকীর্ণ এবং বিপজ্জনক’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে বিভিন্ন স্থানে মারামারি ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয় এবং মানুষের চাপে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়। দেশজুড়ে হাজারো পুলিশ সদস্য, অগ্নিনির্বাপণকর্মী এবং জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়। যদিও সরকার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে যথাযথ বলে দাবি করেছে, তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় জনসমাগমের আগে আরো শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত কি না। বিশেষ করে অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বড় ধরনের ভিড়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে যৌন নির্যাতন, সিরিঞ্জ হামলা, ছুরিকাঘাত এবং সহিংসতার অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ বলছে, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সংসদে বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সংসদে বিল পাস
ছবি : রয়টার্স

ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির আইনসভা। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট সম্প্রতি এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করার অথবা নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর আগে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়।

ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানের কয়েকজন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি সহজেই অনুমোদিত হয়, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একই বিল পাস হয়েছিল। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হলেও এই প্রস্তাবটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এটি শুধু কংগ্রেসের মনোভাব বা ইচ্ছার প্রকাশ ঘটায়। এটি প্রেসিডেন্টের কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে না এবং এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড বিবিসিকে বলেন, এটি ট্রাম্পকে হাতকড়া পরানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি মৃদু তিরস্কার মাত্র। তবে এর বড় তাৎপর্য হলো, এটি মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী অনুভূতিরই আসল প্রতিফলন।

জনগণের কাছে এই যুদ্ধটি দিন দিন অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর পর পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এই প্রস্তাবটি যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউসের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, গত ৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ায় আইনি সময় গণনার ঘড়িটি আবার নতুন করে (রিসেট) চালু হয়েছে। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের দাবি, ৭ এপ্রিলের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো সংঘাত এখন আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিন সময় পেয়েছে। তবে একই দিনে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে আরো ৮০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট চেয়েছে, যার বড় অংশই ইরানের পেছনে যুদ্ধব্যয় মেটাতে খরচ হবে। 

সেনা সদস্য হত্যায় পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
সেনা সদস্য হত্যায় পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালে একটি বিক্ষোভে আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। 

একই মামলায় বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) আরেক কর্মী সিবঘাতুল্লাহকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দুজনই একটি অবৈধ সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য শাব্বির আহমেদকে হত্যার ঘটনায় তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। 

অভিযোগপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালে বন্দরনগরী গোয়াদারে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্যের পর উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে লাঠি ও পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় শাব্বির আহমেদ অন্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করে হত্যা করে।

তবে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, তারা কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তাদের আইনজীবীরাও বিচার বর্জন করেছিলেন। রায়ের পাশাপাশি আদালত দুই আসামিকে নিহত শাব্বির আহমেদের পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ কারাগারে রয়েছেন। রায়ের পর পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি দ্রুত এই মামলার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে রাষ্ট্র এমন আচরণ করছে, যেন তারা উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। এর ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। মাহরাং বেলুচের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচও এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, মামলাটি একটি ‘অজ্ঞাত আদালতে’ পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের যথাযথভাবে জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের। 

এই বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ এক বিবৃতিতে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ন্যায়বিচারের প্রহস ‘ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। 

অন্যদিকে বেলুচিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগপক্ষের হাতে ‘অখণ্ডনীয় প্রমাণ’ রয়েছে। তার দাবি, এই রায়ের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

মাহরাং বেলুচ বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ২০২৪ সালে তাকে বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার ব্যক্তিগত জীবনও এই আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছর পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাহরাং বেলুচের নেতৃত্বে শত শত নারী রাজধানী ইসলামাবাদে পদযাত্রা করেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তারা নিখোঁজ স্বজনদের বিচার এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। মাহরাংয়ের সংগঠন বিওয়াইসি দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রচার চালিয়ে আসছে।

তবে পাকিস্তান সরকার বারবার অভিযোগ করেছে, সংগঠনটির সঙ্গে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও বিওয়াইসি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে।


 

কাতার সফরে সৌদি যুবরাজ | কালের কণ্ঠ