নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইবাদানে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান। যমজ দুই ভাই তাইও ও কেহিনদে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ দুই বোন তাইও ও কেহিনদে আদেদিরানকে। বিরল এই বিয়ে দেখতে গির্জায় জড়ো হয়েছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং অসংখ্য অতিথি।
স্থানীয়দের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, যমজ সন্তানের সংখ্যা এই অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি হলেও, যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের একসঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী ইয়োরুবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যমজ সন্তানের জন্মের হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে যমজ সন্তানকে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে যমজ সন্তানদের জন্য বিশেষ নামও আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। বড় সন্তানের নাম রাখা হয় 'তাইও'(অর্থ- যে পৃথিবীকে পরীক্ষা করে) এবং ছোট সন্তানের নাম 'কেহিনদে' (অর্থ- যে পরে এসেছে)।
বিয়ের দিন তাইও ওগুনতোয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ও তার ভাই যমজ কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আরো বলেন, তারা চান ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্ম নিক।
এই চারজনের প্রেমের গল্প শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তখন তারা সবাই ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওগুনতোয়ে ভাইদের এক শিক্ষক তাদের জানান, তিনি এমন দুই যমজ বোনকে চেনেন, যাদের সঙ্গে তাদের পরিচিত হওয়া উচিত। এরপর দুই ভাইয়েরও আগ্রহ তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, এর আগেও তারা অন্য যমজ বোনদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে আদেদিরান বোনেরাও শুরুতে পরিচিত হতে আগ্রহ দেখাননি। এমনকি ওই শিক্ষকের ফোন কলেরও উত্তর দেননি। পরে অবশ্য চারজনের দেখা হয়। তাইও ওগুনতোয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক কথাও হয়েছিল। কিন্তু তখন আদেদিরান বোনেরা কোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।
প্রথম সাক্ষাতের পর প্রেম নয়, বরং চারজনের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন পথে এগিয়ে যায়। আদেদিরান বোনেরা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। অন্যদিকে ওগুনতোয়ে ভাইরা কাজের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও কর্মজীবন কাটান। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও পরে আবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরাও এই সম্পর্ককে সাদরে গ্রহণ করেন। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও তাদের খুব দ্রুতই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই দম্পতি একই ধরনের পোশাক পরেছিলেন। এতে অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরো কয়েক জোড়া যমজ উপস্থিত ছিলেন। কারণ, ওগুনতোয়ে ভাইরা স্থানীয়ভাবে যমজ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। তারা 'ওগুনতোয়ে টুইনস' নামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। যদিও দুই ভাই অভিন্ন যমজ নন এবং তাদের চেহারায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের স্ত্রীরা দেখতে প্রায় একই রকম। কেহিনদে ওগুনতোয়ে মজা করে বলেন, তাদের স্ত্রীরা এতটাই একই রকম দেখতে যে, তাদের পরিবারের সদস্যরাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যান। তবে তারা কখনো ভুল করেন না। তারারা নিজ নিজ স্ত্রীকে খুব ভালোভাবেই চিনতে পা্রেন
দুই ভাই জানান, তাদের ও তাদের স্ত্রীদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো শান্ত, আবার কখনো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সম্পর্ক খুব গভীর হলেও, বিয়ের পর দুই দম্পতি আলাদা থাকবেন বলে জানান তাইও ওগুনতোয়ে।
এখন নতুন জীবনের শুরুটা উপভোগ করছেন এই নবদম্পতিরা। দীর্ঘদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার পথ পেরিয়ে অবশেষে চারজনের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিরল এই বিয়ে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো ইবাদান শহরের মানুষের কাছেও এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।




