• ই-পেপার

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ছে : সিএনএন জরিপ

১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন

অনলাইন ডেস্ক
১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির জবাবে প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) খাতের সঙ্গে জড়িত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বৈঠকের এক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওই বৈঠকে দুই দেশ শুল্ক কমানোর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হলেও প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একটি নতুন কালো তালিকা প্রকাশ করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে। তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও রয়েছে।

এর জবাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান’ তালিকা সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়া। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মার্কিন কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স, ওশকোশ ডিফেন্স, এমপি মেটেরিয়ালস এবং  ইউএসএ রেয়ার আর্থ।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান সব ধরনের সংশ্লিষ্ট রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের তথাকথিত চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান তালিকায় আরো প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার জঘন্য কর্মকাণ্ডের জবাবে আনা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এই পদক্ষেপ ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার’ জন্যও নেওয়া হয়েছে।

এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স (যার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মহাকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে) এবং ওশকোশ ডিফেন্স, যা সামরিক যানবাহনের বহর তৈরি করে। এই তালিকায় মার্কিন বিরল মৃত্তিকা উৎপাদক এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থও রয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানিকারকদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে চলমান যেকোনো প্রাসঙ্গিক রপ্তানি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যেকোনো দেশ বা অঞ্চলের সংস্থা বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে... যারা চীন থেকে উদ্ভূত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানান্তর বা সরবরাহ করে।’

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থাগুলো এখন থেকে ৪৬টি মার্কিন কম্পানির তৈরি পণ্য কিনতে পারবে না। এই তালিকায় রয়েছে বড় প্রতিরক্ষা কম্পানি লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা বিভাগ।

এ ছাড়া জেনারেল ডাইনামিক্স এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি প্রধান সামরিক ঠিকাদার ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনে কর্মরত মার্কিন বিনিয়োগ থাকা কম্পানিগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কারণে এসব কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

এদিকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিরাপত্তায় সমর্থন দিয়ে আসছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ এখন পর্যালোচনাধীন। মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
 

মস্কোতে ৬০ ড্রোন ভূপাতিত, ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
মস্কোতে ৬০ ড্রোন ভূপাতিত, ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৫
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের হামলায় একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক দিন পর সোমবার ভোরে মস্কোর দিকে আসা কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। এ সময় নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ ড্রোনের হামলায় একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা একজন মিশরীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের একই পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, রাজধানীর দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা দল পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দোমোদেদোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঝুকোভস্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর মোট ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই সংখ্যার মধ্যে ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর শহরটিতে অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলায় গত সপ্তাহে মস্কোর একমাত্র তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই সর্বশেষ হামলাগুলো ঘটল।

আঞ্চলিক প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক ১৩ বছর বয়সী বালক, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী নানি নিহত হয়েছেন এবং বালকটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। সোমবার টেলিগ্রামে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের শহর জাপোরিঝিয়ায় ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলেও একটি ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলাটি একটি কৃষি স্থাপনায় আঘাত হানার পর যানবাহন এবং জ্বালানি মজুতের ট্যাংকে আগুন লেগে যায়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহর সোমবার সমস্ত উন্মুক্ত জনসমাগম বাতিল করেছে এবং রাস্তার বাতি বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছেন এর গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ। তিনি জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ানদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ক্রিমিয়া, সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এর সরবরাহ পথ এবং অন্যত্র জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায়, শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে।

রুশ ড্রোন হামলায় তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রুশ ড্রোন পানামার পতাকাবাহী একটি তুর্কি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ ‘ভিকট্রেস’-কে আঘাত হেনেছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা বলেছেন, ৫৮ বছর বয়সী একজন মিশরীয় রাঁধুনি নিহত হয়েছেন এবং তুর্কি ও ভারতীয় নাগরিকসহ আরও আটজন নাবিককে লাইফবোটে করে জাহাজ থেকে নামতে হয়েছে। কুলেবা টেলিগ্রামে বলেন, জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, ভিকট্রেস জাহাজটির পরিচালক তুরস্কের রানা দেনিজচিলিকের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুলেবা বলেন, পালাউ এবং বেলিজের পতাকাবাহী জাহাজগুলোও রাতারাতি হামলার শিকার হয়েছে, কিন্তু কেউ আহত হয়নি এবং জাহাজগুলো তাদের যাত্রা পুনরায় শুরু করেছে। রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের সামুদ্রিক রপ্তানি পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য জাহাজ ও বন্দরগুলোতে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের নৌবাহিনীর দাবি, রুশ ড্রোন হামলায় পানামার পতাকাবাহী তুর্কি মালবাহী জাহাজ ভিকট্রেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানান, হামলায় ৫৮ বছর বয়সী এক মিশরীয় রাঁধুনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া তুরস্ক ও ভারতের নাগরিকসহ আরও আটজন নাবিককে লাইফবোটে করে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কুলেবা টেলিগ্রামে বলেন, হামলায় জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তথ্য সংস্থা এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির পরিচালনাকারী তুর্কি প্রতিষ্ঠান রানা দেনিজচিলিক-এর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুলেবা আরো জানান, পালাউ ও বেলিজের পতাকাবাহী আরো দুটি জাহাজও রাতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরে তারা আবার যাত্রা শুরু করেছে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে রপ্তানি কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। এসব হামলায় ইউক্রেনের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা যুদ্ধকালীন অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে আসার পর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কয়েক দিনের তীব্র চাপের মুখে কেয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী পদ থেকেই নন, একইসঙ্গে লেবার পার্টির প্রধান পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে তিনি জনসম্মুখে এই ঘোষণা দেন।

তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি ও উল্লাসে তাকে বিদায় জানান। স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম এর কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি হয়েছে। 

এর আগে, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী হয়। এর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের আসন নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হয়। এরপর থেকেই তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্নহাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। সম্প্রতি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠলে বার্নহাম মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। 

ঐতিহাসিক এই নির্বাচনী জয়ের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য নিজ দলের এমপিদের চাপের মুখে পড়তে হয়। অনেক এমপি আশঙ্কা করছিলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমার বলেছিলেন, নেতৃত্বের জন্য কোনো প্রতিযোগিতা হলে তিনি লড়াই করবেন। তবে সপ্তাহান্তে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা এবং চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি মত পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ছয়জনেরও বেশি ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এর মধ্যেই স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা শনিবার থেকে তার পদত্যাগ ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর লেবার পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহামকে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরেছেন।

তবে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও হতে পারে। যদি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা, যেমন ওয়েস স্ট্রিটিং প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করতে না পারেন বা বার্নহামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান, তাহলে তিনি সহজেই নেতৃত্ব পেতে পারেন। নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।

তবে লেবার পার্টির ভেতরে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু এমপি মনে করেন, বার্নহামকে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া উচিত, যাতে তার সক্ষমতা যাচাই করা যায়। অন্যদিকে অনেকের মতে, দীর্ঘ প্রতিযোগিতা দলটির জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তারা দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে।

গত কয়েক মাস ধরে নেতৃত্ব নিয়ে চলা তীব্র চাপের পর কেয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্ব প্রথম বড় সংকটে পড়ে ফেব্রুয়ারিতে, যখন আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। সে সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কম থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছিল। তবে এপ্রিলে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়। তখন জানা যায়, ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও নিয়োগ পেয়েছেন।

লেবার পার্টির অনেক নেতা ও এমপি মনে করেন, এই নিয়োগ স্টারমারের ধারাবাহিক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তেরই অংশ। এর মধ্যে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্তও ছিল, যা জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেয়। পরে এসব সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে তার অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক এমপি তাকে ক্রমশ দুর্বল ও অকার্যকর নেতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এ ছাড়া তার যোগাযোগ ও জনসংযোগ দক্ষতা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ ছিল।

মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে অনেক লেবার এমপি বুঝতে পারেন যে কেয়ার স্টারমার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে, তিনি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনঅসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লেবার পার্টির সামনে থাকা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে যখন ওয়েস স্ট্রিটিং  নেতৃত্বের দৌড়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পেরে সরে দাঁড়ান। একই সময়ে মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদে ফিরে আসেন এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে চলে আসেন।

এরপর স্টারমার তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকেও হারান। সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তার অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। লেবার পার্টির অনেক এমপি তখন বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, স্টারমারের নেতৃত্ব আর টেকসই নয়। তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে চাইলেও ডাউনিং স্ট্রিটে তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, এমন ধারণা দলটির ভেতরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

স্টারমারের বিদায়ের মাধ্যমে একটি নাটকীয় রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তিনি লেবার পার্টির চতুর্থ নেতা হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলকে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন, যা টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আর কোনো লেবার নেতা অর্জন করতে পারেননি।

বৈঠক শেষে সুইজারল্যান্ড ছাড়লেন ইরানের শীর্ষ আলোচকরা

অনলাইন ডেস্ক
বৈঠক শেষে সুইজারল্যান্ড ছাড়লেন ইরানের শীর্ষ আলোচকরা
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার টানা বৈঠক শেষ করে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা দেশে ফিরছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠক শেষে নিজ দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী হামিদ বুর্দ এবং অভিজ্ঞ পারমাণবিক আলোচক আলি বাকরি।

আলোচনায় ইরানের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এবং তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মূল রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করলেও কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। 

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দলটি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। সমঝোতার বিভিন্ন দিক, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক পর্যায়ের বৈঠক শেষ হলেও বিভিন্ন বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সমন্বয় প্রয়োজন। সে কারণেই বিশেষ দলকে সুইজারল্যান্ডে রেখে দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের এই বৈঠকের পর ইরানের শীর্ষ আলোচকরা দেশে ফিরলেও আলোচনা প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং কৌশলগত পর্যায়ে তা এখনো চলমান রয়েছে।
 

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ছে : সিএনএন জরিপ | কালের কণ্ঠ