তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা এই মহাদেশে একের পর এক ভেঙে যাচ্ছে আবহাওয়ার বহু বছরের রেকর্ড। তীব্র গরমের কারণে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ইতালিসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সর্বোচ্চ রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার ফলে ইউরোপের জল সরবরাহের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে এবং গরমে স্বস্তি পেতে পানিতে নেমে ডুবে মরার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বাড়ছে।
ফ্রান্সে বুধবার (২৪ জুন) দেশের জাতীয় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯৪৭ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির ইতিহাসের উষ্ণতম দিন। প্যারিসসহ পশ্চিমাংশের তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছে। তীব্র তাপের কারণে প্যারিসের ঐতিহাসিক লুভর মিউজিয়াম ও আইফেল টাওয়ার স্বাভাবিক সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে এবং মেইন-এট-লোয়ার অঞ্চলের বনাঞ্চলে লাগা ভয়াবহ আগুন নেভাতে ১৫০ জনেরও বেশি দমকলকর্মীকে মোতায়েন করতে হয়েছে। ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী জঁ-পিয়ের ফারান্দু সতর্ক করে বলেছেন, সমাজকে এখন এই উষ্ণ জলবায়ুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হবে।
যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও এই তাপপ্রবাহ জুন মাসের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারে ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ডের মাধ্যমে জুন মাসের উষ্ণতম দিন পার করেছে দেশবাসী, যা আরো বেড়ে ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্পেনে ১৯৫০ সালের পর জুন মাসের সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং উত্তর স্পেনের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছোঁয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ইতালির ১৬টি অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই দেশটির উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
তাপপ্রবাহটি এখন ক্রমশ পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। নেদারল্যান্ডসে বিপজ্জনক আবহাওয়ার সংকেত ‘কোড অরেঞ্জ’ জারি করা হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বেলজিয়ামের বেশিরভাগ এলাকাও সতর্কতার অধীনে রয়েছে। জার্মানিতেও তীব্র গরমের কারণে নদী ও লেকে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং ব্র্যান্ডেনবার্গ ও হেসের মতো অঞ্চলগুলোতে খরার আশঙ্কায় জনগণকে পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে বলা হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকি এড়াতে স্টুটগার্টসহ বেশ কয়েকটি শহরে বারবিকিউ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে পশ্চিম ইউরোপে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও, আগামী কয়েকদিনে এই তাপপ্রবাহ পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরির মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে তীব্র রূপ নিতে পারে।






