প্রাথমিক ধারণার চেয়েও আরো অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার (৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) সংগ্রহ করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) সম্পন্ন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পানি স্পেসএক্স। নিউইয়র্কের নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে কম্পানির মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা লক্ষ কোটিপতির মর্যাদা লাভ করেছেন।
স্পেসএক্স-এর শেয়ারের জন্য বাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এই বিপুল চাহিদা সামাল দিতে আইপিও-র দায়িত্বে থাকা গোল্ডম্যান স্যাক্স, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগ্যানের মতো বড় ব্যাংকগুলো ‘গ্রিনশু’ নামক একটি বিশেষ আর্থিক ধারা প্রয়োগ করে। এই নিয়মের অধীনে ব্যাংকগুলো সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৩ লাখ শেয়ার কিনে নেয়, যার ফলে মূল পরিকল্পনার চেয়েও এই ১০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
আইপিও চালুর পর সোমবার (১৫ জুন) শেয়ার বাজারে স্পেসএক্স-এর জয়জয়কার বজায় ছিল। প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কোম্পানির বাজার মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় সোমবার কম্পানির শেয়ারের দাম ১৯ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতিটির মূল্য ১৯২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।
যেহেতু ইলন মাস্কের সম্পদের বেশিরভাগ অংশই সরাসরি স্পেসএক্স-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করা, তাই তার এই নতুন ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পুরোপুরি শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। শেয়ারের দাম কমলে তিনি দ্রুত এই খেতাব হারাতেও পারেন। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে দিন দিন প্রতিযোগিতা এবং সরকারি নজরদারি বাড়ছে। এই অবস্থায় কম্পানিটি তাদের এই আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি কতদিন ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।




