• ই-পেপার

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব

ত্রিপুরার সংস্কৃতি বোমা মেরে উড়াতে চেয়েছিল মুঘলরা

ইথিওপিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৩১

অনলাইন ডেস্ক
ইথিওপিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৩১
ছবি : সংগৃহীত।

ইথিওপিয়ায় একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরো ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সম্প্রচারকারী সংস্থা আমহারা মিডিয়া করপোরেশন জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় আমহারা অঞ্চলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি দেসি থেকে রাজধানী আদ্দিস আবাবার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি খাড়া পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যাওয়ায় চালকসহ ৩১ জন নিহত এবং ৩৩ জন গুরুতর ও সামান্য আহত হয়েছেন। এর আগে মৃতের সংখ্যা ২৮ বলে জানানো হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, আহতদের দেসি ও কম্বোলচা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সংস্থাটির অনলাইনে পোস্ট করা ছবিতে একটি বিধ্বস্ত বাসও দেখা গেছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

ইথিওপিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ঘটনা। দেশটিতে দুর্বল সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের খারাপ রক্ষণাবেক্ষণ প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়। ২০২৪ সালে দক্ষিণ সিদামা অঞ্চলে একটি ট্রাক নদীতে পড়ে গেলে অন্তত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

চীনের ইস্পাত বাজারে মন্দা

অস্ট্রেলিয়ার খনি কম্পানিগুলো ভরসা এখন ভারত-দক্ষিণ এশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার খনি কম্পানিগুলো ভরসা এখন ভারত-দক্ষিণ এশিয়া
ছবি: রয়টার্স

ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইস্পাতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার লৌহ আকরিক খনি কম্পানিগুলো বলছে, এই বাড়তি চাহিদা তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে তাদের সবচেয়ে বড় বাজার চীনে চাহিদা কমে যাওয়ার যে প্রভাব পড়ছে, তা কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি শিল্প সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ খনি কম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। 

বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদক দেশ। তবে দেশটির আবাসন ও নির্মাণ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে ইস্পাতের চাহিদা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে লৌহ আকরিক ও ধাতব কয়লার বাজারেও। অস্ট্রেলিয়ার খনি কম্পানিগুলো শুধু চাহিদা কমার সমস্যাতেই নেই, তারা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ (সিএমআরজি)-এর চাপের মুখেও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কাঁচামাল কিনতে এবং সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আরো সুবিধাজনক শর্ত আদায় করতে চেষ্টা করছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ভারত। বর্তমানে দেশটির বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ টন। ভারত সরকার ২০৩৫-২০৩৬ সালের মধ্যে এই উৎপাদন বাড়িয়ে ৪০ কোটি টনে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য চীনের বর্তমান প্রায় ১০০ কোটি টন উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। তবে এত বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ লৌহ আকরিক এবং ধাতব কয়লার প্রয়োজন হবে। 
ধাতব কয়লা ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এই ক্ষেত্রে ভারত নিজের চাহিদার বেশির ভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। বিশ্বের অন্যতম বড় ধাতব কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচপি। সিঙ্গাপুরের সম্মেলনে কম্পানিটির গ্রুপ বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা মিশিয়েল হোভার্স বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ধাতব কয়লার চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ভবিষ্যতে বিশ্ব ইস্পাত শিল্পের অন্যতম বড় প্রবৃদ্ধির বাজার হয়ে উঠবে। রিও টিন্টোর প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা বোল্ড বাতারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে ইস্পাতের চাহিদা বাড়ায় চীনের মন্দার বাজারের প্রভাব কিছুটা কমে আসবে।

চীনের ভূসম্পত্তি খাতের সংকট এখন টানা পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এক সময় এই খাতই দেশটির ইস্পাতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল। কিন্তু নির্মাণ খাতের ধীরগতির কারণে ইস্পাতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে চীনের ইস্পাত উৎপাদন সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ আরো বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমআরজির কঠোর ক্রয়নীতি।

চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য কম দামে কাঁচামাল নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, চলতি বছরও চীনের বাজারে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা কম। সিঙ্গাপুরের ওই সম্মেলনে চীনের এক শিল্প সংগঠনের উপমহাসচিব জিনকুই ঝাও বলেন, এ বছরও দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা কমতে পারে।

সব মিলিয়ে চীনের বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে রাশিয়া : বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক
স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে রাশিয়া : বিবিসি
ছবি : বিবিসি

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাশিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।

গাড়ি ও কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন রোমান লাভরিনোভিচ এবং স্ট্যানিস্লাভ কার্পিউক।

২২ বছর বয়সী রোমান লাভরিনোভিচ ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং ২৭  বছর বয়সী স্টানিস্লাভ কারপিউক ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রোমানীয় নাগরিক। তাদের লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতের জুরি দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর লন্ডনে স্টারমারের আগে ব্যবহার করা একটি টয়োটা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর আরো দুটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। এর একটি বাড়ির মালিক ছিলেন স্টারমার, যেখানে তার শ্যালিকা ভাড়ায় থাকতেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রুশ ভাষায় টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ‘এল মানি’ অনলাইনে রোমান লাভরিনোভিচকে নিয়োগ করেন এবং তাকে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপরই তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ঘটান।

বিবিসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ইউক্রেনীয় যুবক রোমান লাভরিনোভিচ সম্ভবত জানতেন না যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘ইএল’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি তাকে অনলাইনে নির্দেশনা ও অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাভরিনোভিচ গ্রেপ্তার হন। বিবিসির দাবি, এই ঘটনা রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বড় অভিযানের অংশ হতে পারে। তদন্তে আরো বলা হয়েছে, ‘ইএল’ সম্ভবত ২৩ বছর বয়সী রুশ কূটনীতিক ইয়েভজেনি লিউকশিন।

বিবিসি জানতে পেরেছে, রুশ এজেন্টরা সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে দূর থেকে নাশকতা ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়েছে। তারা অনলাইনে ভুয়া উগ্র-ডানপন্থী ও মুসলিমগোষ্ঠী তৈরি করে যুক্তরাজ্যে ভাঙচুর, বিভেদ ও ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল।

রাশিয়াভিত্তিক অ্যাকাউন্টগুলো স্টারমারকে লক্ষ্য করে চালানো অগ্নিসংযোগ ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিথ্যা পোস্ট করেছিল। আর এগুলো ছড়িয়ে দিত উগ্র-ডানপন্থী ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের মতো ব্যক্তিরা।

আদালতে উল্লেখ করা ‘ইএল মানি’ নামে উল্লেখ করা ব্যক্তি টেলিগ্রামের মাধ্যমে রোমান লাভরিনোভিচকে খুঁজে বের করে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দেন। শুরুতে পোস্টার লাগানো ও গ্রাফিতি আঁকার মতো কাজ দিলেও পরে অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে জড়ান। তদন্তে দেখা গেছে, ইএল (ইএল মানি) রুশ ভাষায় যোগাযোগ করতেন এবং তার উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট ছিল।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘ইএল’ নামে পরিচিত ব্যক্তি বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে রাশিয়া ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশংসা করতেন, ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন এবং রুশপন্থী প্রচারণা চালাতেন। তিনি ইউক্রেনে হামলা ও অগ্নিসংযোগে উসকানি দিতেন। এসব কাজের জন্য ১ হাজার ডলার ও রুশ নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া নিজের পরিচয় সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, তার বাবা ইউরোপে কাজ করেন এবং ন্যাটো ও সিআইএ সংক্রান্ত কিছু নথি তার কাছে পৌঁছায়।

বিবিসি বলছে, ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ নামে টেলিগ্রাম চ্যাটে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ইয়েভজেনি লিউকশিনকে শনাক্ত করা হয়।’ এর আদ্যক্ষর ‘ইএল’ হামলার নির্দেশদাতার সঙ্গে মিলে যায়। তাকে ‘রেডিও সাউথপোর্ট’ ও ‘ওয়াগনার গ্রুপ’ সমর্থিত একটি চ্যাটেও পাওয়া গেছে। ওয়াগনার গ্রুপ হলো রাশিয়ার একটি সামরিক সংস্থা, যার প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভজেনি প্রিগোঝিন রাইবার চ্যানেলকে অর্থায়ন করতেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাস বলেছে, ‘আমরা রাশিয়া বা তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করি।’ তারা আরো বলেছে, ‘রাশিয়া যুক্তরাজ্য বা তার জনগণের জন্য কোনো হুমকি নয় এবং ব্রিটেনের প্রতি কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য পোষণ করে না।’

বিবিসির প্রশ্নের জবাব দেননি রুশভাষী লুকশিন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্কিত প্রচার চ্যানেলটি অনলাইনে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। 
 

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের

গাছের কার্বন শোষণ নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এল যেসব তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
গাছের কার্বন শোষণ নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এল যেসব তথ্য
সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা্ কী পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, এ নিয়ে আগের বিভিন্ন গবেষণায় যে ফলাফল উঠে এসেছে সেগুলো সঠিক ছিল না বলে দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। 

তারা জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা আগে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করত বলে মনে করা হত, বাস্তবে তার চেয়ে কম শোষণ করে। এই ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণা এবং বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ সাময়িকীতে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক রিসার্চের আর্থ অবজারভিং ল্যাবরেটরি'। গবেষণাটির সহলেখক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ড. মাইকেল বার্তোলাচ্চি। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার স্কুল অব ফিজিক্স, ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ের গবেষক। তিনি ‘উলংগং মেথডোলজি ফর বায়েসিয়ান অ্যাসিমিলেট অব ট্রেস-গ্যাসেস’ বা ‘উমব্যাট’-এ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের একটি দলের নেতৃত্ব দেন।

এই দলটি নাসার সমন্বয়ে চলা একটি বড় প্রকল্পে কাজ করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বায়ুমণ্ডলে কত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে এবং কতটা শোষিত হচ্ছে, তার হিসাব বের করা।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, গাছপালা ও অন্যান্য জীব প্রতিনিয়তই বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড আদান-প্রদান করছে। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় সরাসরি এই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই তারা সরাসরি সব জায়গায় মাপার বদলে একটি অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তারা বাতাসে থাকা CO₂ কত আছে তা মাপে। তারপর বাতাসের গতিপথ (বায়ু প্রবাহ) ব্যবহার করে বুঝে নেয় যে এই CO₂ কোথা থেকে এসেছে।

নাসার এই প্রকল্পে উমব্যাট দলের পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য গবেষক দলের তথ্যও যুক্ত করা হয়। এর সঙ্গে সমুদ্র থেকে নির্গত কার্বন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে হওয়া নির্গমনের তথ্যও যোগ করা হয়। এ ছাড়া উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় বিমান থেকে সংগ্রহ করা নতুন পর্যবেক্ষণ তথ্যও বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, ফলাফলে দেখা গেছে, উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা অনেক গবেষণা ও মডেলের পূর্বাভাসের তুলনায় কম কার্বন শোষণ করে। এমনকি কার্বন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এই অঞ্চল প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ বা সমান অবস্থাতেও থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন বাস্তুতন্ত্র বেশি কার্বন শোষণ করে সাহায্য করছে এবং কোনগুলো বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ছে, তা জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, এই গবেষণা দেখিয়েছে, নতুন পরিমাপভিত্তিক কর্মসূচি কার্বন চক্র সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে কার্বন চক্রবিষয়ক গবেষণার অর্থায়ন অনেক কমে গেছে- এমন সময়ে।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে কার্বন চক্র এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে আরো নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
 

ত্রিপুরার সংস্কৃতি বোমা মেরে উড়াতে চেয়েছিল মুঘলরা | কালের কণ্ঠ