• ই-পেপার

শিক্ষার্থীদের মনে নজরদারি চালাতে প্রতিদিন ডায়রি রাখবে স্কুল

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে হিজবুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে হিজবুল্লাহ
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের পথও এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এক বিবৃতি দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

সোমবার (১৫ জুন) এই বিবৃতি প্রকাশ করে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি

বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানায়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত রয়েছে। 

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে গেল রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আল জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে ইরাকে মার্কিন দূত

অনলাইন ডেস্ক
আল জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে ইরাকে মার্কিন দূত

দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে ইরাকে। গত মাসে নতুন সরকার গঠন করে দেশটি। আল জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে বাগদাদে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া ও ইরাক বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক। 

সোমবার (১৫ জুন) সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক্সে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। 

এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যারাক বলেছেন, বাগদাদে ফিরে এসে আনন্দিত ও সম্মানিত। ইরাকের দূত হিসেবে এটি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। তিনি প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। 

ব্যারাক আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্ককে পারস্পরিকভাবে সমঝোতায় নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

নতুন ইরাকি সরকার গঠিত হওয়ার পর এটিই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো ব্যক্তির সফর এটি।

ইসরায়েল ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নয় : বেন-গভির

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নয় : বেন-গভির
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়।’ তিনি জানান, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অধীন নয়। ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।

আজ সোমবার সকালে এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী  ইতামার বেন-গভির বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল বাধ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিতে আমরা অংশীদার নই, কারণ এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। আমাদের যোদ্ধারা লেবাননে যেকোনো এলাকা দখল করেছে, সেখান থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে চুক্তি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, আমরা তার অংশ নই এবং তা আমাদের ওপর কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার চেয়ে কম কিছুতে আমরা আপস করব না। আমাদের যোদ্ধারা যে এলাকা দখল করেছে এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে মুক্ত করেছে, সেখান থেকে আমরা পিছু হটব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘উত্তরের বসতিগুলোর কাছে আবার হাজার হাজার সন্ত্রাসী অবস্থান নেবে, এমন পরিস্থিতিতে আমরা ফিরব না। ইসরায়েলের দিকে গুলি ছোড়া হলে আমরা নীরব থাকব না।’

সোমবার সকালে এক্স-এ আরো কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান জানান। তাদের মধ্যে বিরোধী দল ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা ইয়ার গোলান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এমন একটি চুক্তিতে আত্মসমর্পণ করেছেন, যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। গোলানের অভিযোগ, ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য, যা পাইলট ও সেনাদের সাহস ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, তা যখন মুছে ফেলা হচ্ছে, তখন নেতানিয়াহু নীরব ছিলেন।

তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলা অপরিচিত দল এনসিপিআই সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলা অপরিচিত দল এনসিপিআই সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামে যে কোনো রাজনৈতিক দল আছে, সেটা গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্তও প্রায় কেউ জানতেন না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা এই এনসিপিআই দলটি তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলেছে। কারণ তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা যোগ দিচ্ছেন এ দলে।

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাদের ব্লক এনসিপিআইতে যোগ দেবে, তখনই দলটির নাম প্রথম শোনা যায়।

জনকৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এনসিপিআই হঠাৎ করেই ফেসবুক পেজ খুলে ফেলে। পেজটিতে সর্বশেষ ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ৮৭০। এই সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। দলটির ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, এর প্রধান কার্যালয় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁকরাইল থানার হাটগাছা গ্রামে। ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সংগঠনিক দায়িত্বে আছেন হাটগাছার বাসিন্দা শিউলি কুন্ডু।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, পেশায় আইনজীবী শিউলি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন। তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডুও এ কাজে সহযোগিতা করেন। এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়ে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে।

এর মধ্যে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্টও করা হয়েছিল। তবে পরে সেটি মুছে ফেলা হয়।

আরেকটি পোস্টে এনসিপিআই দাবি করে, লোকসভায় বিধায়কের সংখ্যার বিচারে তারাই পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। ওই পোস্টে প্রকাশিত একটি গ্রাফিকে দেখানো হয়, রাজ্যে বিজেপির ১২ জন, তৃণমূলের ৮ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন বিধায়ক রয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০। 

পোস্টে লেখা হয়, ‘লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় পর্যায়ে রাজ্যের কণ্ঠস্বর।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) ২০২৩ সালে নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল (আরইউপিপি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়, কৈলাসহর ও চউমানুতে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিল কলমের নিব ও সাতটি রশ্মি। তবে কোনো প্রার্থীই জয়ী হতে পারেননি। কৈলাসহর আসনে দলের প্রার্থী জাহাঙ্গির আলি ২৮৬ ভোট পান এবং চউমানু আসনে বড়জেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট।

জল্পনা থাকলেও রবিবার লোকসভার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ নতুন দল এনসিপিআই-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিধানসভায় আগের বিদ্রোহ ও জটিল পরিস্থিতি দেখে লোকসভার বিদ্রোহীরা সতর্ক অবস্থান নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বিধানসভায় দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। তিনি পরে বিরোধী দলনেতা হন। তবে এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালতে পৌঁছায়। 

তৃণমূলের দাবি, বহিষ্কৃত কেউ কিভাবে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, এই প্রশ্ন তুলে মামলা এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। এই আইনি জটিলতা মাথায় রেখেই লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদেরা ঝুঁকি এড়িয়ে নতুন অবস্থান নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

স্থানীয়দের মতে, ২০২২ সাল থেকে হাটগাছায় এনসিপিআই-এর কার্যালয় রয়েছে। দলটি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে পরে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। আলোচনায় আসার পরেই দলটির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে সেখানে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এনসিপিআই-এর কার্যালয়ের সামনে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়ার ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি আসনে এনসিপিআই প্রার্থী দেওয়ার পরই তারা প্রথম এই দলের নাম শোনেন। তবে এরপর লোকসভা ও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

আনন্দবাজারকে এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক জাতীয় সংগঠক সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে বলেন, ‘আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আজ যা ঘটেছে, সে সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আগে জানলে আমি এর বিরোধিতা করতাম। এখনো আমি এর বিরোধিতা করছি।’

তিনি আরো জানান, দলের সভাপতি উত্তীয় কুন্ডু। উত্তীয়র জানান, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চান না। তবে শান্তনুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তার দলের যে কার্যকালের মেয়াদ ছিল তা শেষ হয়ে গিয়েছে।’

দলের আরো এক নারী সদস্য শিউলি কুন্ডু বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলাম। পদত্যাগ করেছি, এই মুহূর্তে আমি কিছু বলব না, যা বলার পরে বলব।’ তৃণমূলের এই যোগদানে তিনি খুশি কি না জানতে চাওয়া হলে সংক্ষিপ্ত ভাবে ‘হ্যাঁ’ বলেন এবং তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন বলে জানান। তবে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি।

 

শিক্ষার্থীদের মনে নজরদারি চালাতে প্রতিদিন ডায়রি রাখবে স্কুল | কালের কণ্ঠ