• ই-পেপার

‘ওয়াহাবিবাদের প্রচার করেছিল পশ্চিমারাই’

দার্জিলিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে কোচিংয়ের উদ্যোগ শ্রিংলার

অনলাইন ডেস্ক
দার্জিলিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে কোচিংয়ের উদ্যোগ শ্রিংলার

ভারতের উত্তরবঙ্গের তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দার্জিলিং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (ডিডব্লিউএস)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। এ উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিংয়ের সুযোগ পাবেন। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

সোমবার সংগঠনটি ‘ডিডব্লিউএস উৎকর্ষ’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্ল্যাটফরম ফিজিকস ওয়ালা-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে এটি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কাঠামোগত কোচিং প্রদান করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথি। তাদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার সংসদ সদস্য জয়ন্ত কুমার রায়, নর্থবেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মহেন্দ্র নাথ রায় এবং সাবেক আইপিএস এবং ফিজিকস ওয়ালার সিইও কে. সত্যনারায়ণ।

এই কর্মসূচির আওতায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ১৬টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নিবীর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এসআই ও কনস্টেবল, এসএসবি/সিআইএসএফ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা, কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস (সিডিএস), ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (এনডিএ), এয়ার ফোর্স কমন অ্যাডমিশন টেস্ট (এএফসিএটি), সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (সিএপিএফ), স্টাফ সিলেকশন কমিটি (এসএসসি), ডব্লিউবিপিএসসি এবং ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা।

ডিডব্লিউএস উৎকর্ষের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফিজিকস ওয়ালার প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফরমে পূর্ণাঙ্গ কোচিং সুবিধা পাবেন। মেধাবী শিক্ষার্থীকে মানসম্মত প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধাগুলো সহজতর করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। সাধারণত এসব কোচিংয়ের খরচ ১৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

ভর্তির ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করা হবে। একজন প্রার্থী শুধু একটি কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন, এতে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী সুবিধা পেতে পারে। রেজিস্ট্রেশন ও আধার কার্ড যাচাইয়ের পর নির্বাচিত প্রার্থীরা বিনা মূল্যে তাদের নির্ধারিত কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, উত্তরবঙ্গের তরুণদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা, দৃঢ়তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে অনেক পরিবার মানসম্মত কোচিংয়ের খরচ বহন করতে হিমশিম খায়।

তিনি বলেন, ডিডব্লিউএস উৎকর্ষ সেই ব্যবধান কমানোর একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সুযোগকে আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল না রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শ্রিংলা আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের সরকারি চাকরি, প্রতিরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা। তরুণদের ওপর বিনিয়োগ মানেই আমাদের অঞ্চলের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ।

ভিডিও বার্তায় ফিজিকস ওয়ালার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলাখ পান্ডে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার। ভৌগোলিক বা আর্থিক অবস্থার কারণে এটি সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের তরুণদের জন্য বিনা মূল্যে উচ্চমানের কোচিং প্রদান করতে ডিডব্লিউএসের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তারা গর্বিত।

এই উদ্যোগটি ডিডব্লিউএসের তরুণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নতুন পর্বের সূচনা করেছে। গত দুই বছরে সংগঠনটি বিনা মূল্যে ইউপিএসসি কোচিং পরিচালনা করেছে। সেখানে ১২০ জনের বেশি প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, আরবিআই এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে চাকরি পেয়েছেন।

৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া
ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হনেছে। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একাংশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর শক্তিশালী আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। 

ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনিটি মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু শহরে এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এ ঘটনায় বিক্ষিপ্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পালু শহর থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.২, ৫.০ এবং ৪.৯।

ইন্দোনেশিয়া বেশ কয়েকটি সক্রিয় ভূকম্পন চ্যুতির ওপর অবস্থিত। তাই দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয় এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও একটি সাধারণ ঘটনা।

এর আগে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন এবং আফটারশকের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়েছিলেন। 

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও এর পর সৃষ্ট প্রায় ৩ মিটার উঁচু সুনামিতে পালু এবং আশপাশের এলাকায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
 

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি টিকিয়ে রাখতে অর্থ দিচ্ছে ইউরোপ- প্রতিবেদন

অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি টিকিয়ে রাখতে অর্থ দিচ্ছে ইউরোপ- প্রতিবেদন
ছবি: রয়টার্স

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে অর্থের জোগান দিতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছে ইউরোপ। তদন্তে দেখা গেছে, দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমির অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ফল ও সবজি নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে উৎপাদিত বলে ঘোষণা করেন ইসরায়েলি রপ্তানিকারকেরা। এরপর সেগুলো ইউরোপের বাজারে পাঠানো হয়।

আইনি সহায়তাভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ইকো’ ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি রপ্তানি নথি পরীক্ষা করেছে। এসব নথি বিদেশে পাঠানো ৬ হাজার ৮০০টির বেশি চালানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে পাঠানো প্রতি প্রায় ছয়টির মধ্যে একটি চালানে বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ছিল। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঠানো প্রতি প্রায় পাঁচটি চালানের মধ্যে  একটিতে এমন পণ্য পাওয়া গেছে। এর বড় অংশই ইসরায়েলে উৎপাদিত বলে ভুল তথ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

কানাডার আইন বিশেষজ্ঞ এবং ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মাইকেল লিংক এই সমস্যাকে ‘পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বসতিতে উৎপাদিত পণ্য প্রকাশ্যেই লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে সেগুলো অন্য পথে পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেক সময় ইসরায়েলের স্বীকৃত সীমান্তের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের আসল জায়গা গোপন করার ফলে রপ্তানিকারকেরা ইসরায়েলি পণ্যের জন্য নির্ধারিত কম বা শূন্য শুল্কের সুবিধা দাবি করতে পারেন। এর মাধ্যমে যে আয় হয়, তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, ইউরোপের আমদানিকারকেরা ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখতে’ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ইউরোপের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এসব ঠেকাতে খুব কম পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গ্লোবাল ইকো জানিয়েছে, তারা এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।


 

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপিআই ঝড়!

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপিআই ঝড়!

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররা ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নামে একটি দল গঠন করে, সাধারণে যা জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেঁধে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসন লাভ করে এনসিপি। আসন সংখ্যা যাই হোক, এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। কিন্তু ভারতেও যে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া-এনসিপিআই নামে একটি দল আছে, রবিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষই সেটা জানতেন না। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সদস্যের এক যোগে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার ঘোষণায় ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন ঝড় উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তছনছ হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর-বাহির। এক যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সংসদ সদস্যের এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার ঘটনা সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করলো।

এমপিদের কেনাবেচা বন্ধে জাতীয় সংসদে দলবদল বা ফ্লোর ক্রসিং ঠেকাতে বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া আছে। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। সরকার স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ভারতের সংবিধানের দশম তফশিলেও বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো দলত্যাগ বিরোধী আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মতো ভারতেও কেউ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়।

তবে এই আইনেরও একটি ফাঁক আছে, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যৌথ সিদ্ধান্তে চাইলে অন্য কোনো দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। ছোট্ট ফাঁক গলে লখিন্দরের বাসর ঘরে যেমন সাপ ঢুকেছিল। আইনের এই ফাঁক গলে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আর পার্থ ভৌমিকরা এখন তৃণমূলের মূল ধরেই টান দিয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ২৮। দুই-তৃতীয়াংশ মানে ১৯ জন হলেই তারা অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারতেন। সেখানে তাদের দলে একজন বেশিই আছে।

কাগজে-কলমে এনসিপিআই’তে যোগ দিলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতা। কেন্দ্রে না হলেও এতদিন তবু রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। গত নির্বাচনে ভরাডুবির পর কাকলী ঘোষদের মনে হলো, ‘ক্ষমতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’। কিছুটা আইনি ঝুঁকি থাকলেও তারা সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিতে পারতেন। বিজেপিতে না গিয়ে এনসিপিআইতে কেন, এটা নিয়েই সবার কৌতুহল। এখানেই লুকিয়ে আছে রাজনীতির কূটচাল আর কূটকৌশলের খেলা। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ আর বিজেপি মিলেই যে এনসিপিআই আবিষ্কার করেছে, তা এখন একেবারে সংবিধান না বোঝা ভারতের শিশুটিও বোঝে।

সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই নিয়ে বিজেপির পাশেই মানে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটেই থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরাসরি যোগ দিলে তারা আসলে বিজেপির সর্বভারতীয় বিশাল সমুদ্রে বিলীন হয়ে যেতো। আলাদা কোনো অস্তিত্বই থাকতো না। তাই তারা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তৃণমূলকে একীভূত করেছে। দুই-তৃতীয়াংশের যৌথ সিদ্ধান্তে অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সুযোগ আছে। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে মূল রাজনৈতিক দল ও সংসদীয় দলকে আলাদা সত্ত্বা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে হলে মূল দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত লাগবে। মমতা-অভিষেক নিশ্চয়ই দল ভাঙ্গার অনুমতি দেবেন না। তাই বিজেপিতে যোগ দিলে সেটা নিছক দলবদল হিসেবেই চিহ্নিত হতো, একীভুত হওয়া নয়। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এরই মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে এ কথা বলেছেন। তবে এনসিপিআইতে যাওয়ার একটা বড় সুবিধাও আছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হলেও এনসিপিআইতে কোনো মাতব্বর নেই। এনসিপিআই মূলত ত্রিপুরাভিত্তিক একটি পারিবারিক দল। একসময় শিউলি কুন্ডু দলটির প্রধান ছিলেন, এখন তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডু দল চালান। দল ভাড়া দিতে পেরেই নিশ্চয়ই তারা খুশি থাকবেন। তাই কাকলী ঘোষরা এখানে নিজেদের মতো ছড়ি ঘোড়াতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এমনকি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করতে পারবেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরার দুটি আসনে নির্বাচন করে যে দল সাকুল্যে ভোট পেয়েছে ৮৮২, তারাই এখন এনডিএ জোটে বিজেপির পর সবচেয়ে বড় দল। ৮৭০ জন অনুসারীর ফেসবুক পেজ আর হাওড়ায় জনমানবহীন ভুতুড়ে অফিস ছাড়া যাদের কিছু ছিল না, তারা এখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। আসলেই রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

এনসিপিআই কাকলী ঘোষদের ডেসটিনেশন নয়, ট্রানজিট মাত্র। তাদের আসল লক্ষ্য তৃণমূল দখল নেওয়া। সরাসরি বিজেপিতে গেলে সে সুযোগ আর থাকতো না। একীভূত হওয়ার পর তারা এখন নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করবে এবং তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ কেড়ে নিতে চাইবে, দখল নিতে চাইবে তৃণমূলের অফিসের। মাথার ওপর বিজেপির হাত থাকলে আসলে কিছুই অসম্ভব নয়।

সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তারা চিহ্নিত হতো ক্ষমতালোভী, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। যাতে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারতো। আর এত বড় ডিগবাজি দেওয়ার মতো সক্ষমতাও প্রবীণ নেতাদের অনেকের নেই। তারচেয়ে বড় কথা, তাদের লক্ষ্য তো অনেক দূরে। তাই লম্বা ডিগবাজি দিয়ে হাত পা ভেঙ্গে এখনই রাজনীতিতে ইতি ঘটানোর ঝুঁকি তারা নিতে চাননি। তাছাড়া এতদিন অসাম্প্রদায়িকতা আর বাঙালিয়ানার গল্প বলে এখন সরাসরি বিজেপির কোলে চড়ে বসলে তাদের নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তো। তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও উঠছে। তবে চক্ষুলজ্জাটা অন্তত আছে। আর এই চক্ষুলজ্জার খাতিরেই তারা ত্রিপুরাভিত্তিক বাঙালিদের দল এনসিপিআইকে আবিষ্কার করেছে। এখন তারা বলতে পারবেন, আমরা মমতাকে ছেড়েছি, কিন্তু বিজেপিতে তো যাইনি।

তাছাড়া তৃণমূলের ঘর ভাঙ্গার পাশাপাশি বিজেপিকে নিজেদের ঘরের দিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। একসঙ্গে তৃণমূলের ২০ জন হেভিওয়েট নেতার যোগ দেওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি শিবিরের ভেতরেই তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ ছিল। নতুন নেতারা এলে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের পদপদবী, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভাগ বসতো। তার চেয়ে দূরে থেকে কাছে থাকাই ভালো। সাপ মরে ভুত, কিন্তু লাঠির কিচ্ছু হয়নি। 

এনসিপিআইয়ের আবিষ্কার করে কাকলী ঘোষরা এক ঢিলে অনেক পাখি মারলেন। নিজেদের সদস্যপদের আইনি সুরক্ষা পেলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে তছনছ করার সুযোগ নিলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ সুগম রাখলেন আর এনডিএ জোটের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ক্ষমতার কাছাকাছিই রইলেন। 

এনসিপিআই এতদিন নিজেদের ‘সমাজসেবামূলক দল’ হিসেবে দাবি করতো। সংগঠনের পুরোনো এক বিবৃতিতে লেখা, ‘দল বদলানো রাজনৈতিক মুখ নয়; আপনি এগিয়ে আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে’। এখন কোথায় মুখ লুকাবে এনসিপিআই। বিজেপির প্রযোজনায় কাকলী ঘোষ আর সুদীপ বন্দোপাধ্যায়রা সংবিধানকে যেভাবে পাশার বোর্ড বানালেন, রাজনীতিকে বানালেন ছেলেখেলায়; তার শেষ কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগেও অনেক চালাকি করেছে বিজেপি। এবার চালাকিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে মনে হয়। এখন অতি চালাকের গলায় দড়ি পড়বে না মমতা-অভিষেককে একেবারে হটিয়ে শুভেন্দু-সুদীপরাই পশ্চিমবঙ্গে রাজ করবেন; তা দেখতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

‘ওয়াহাবিবাদের প্রচার করেছিল পশ্চিমারাই’ | কালের কণ্ঠ