সিয়াটলে ম্যাচ শেষ হতে তখন কয়েক মুহূর্ত বাকি ছিল। এরপরেই ভাগ্যের খেলায় মাতলেন সেনেগাল-বেলজিয়ামের ফুটবলাররা। টাইব্রেকারের কথা বলছি আরকি।
কিন্তু, না। অতিরিক্ত সময় শেষ হয়ে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ম্যাচ জয়ের এমন সুবর্ণ সুযোগ মিস করলেন না ইউরি টিলেমান্স। সফল স্পটকিক নিয়ে বেলজিয়ামকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন অধিনায়ক।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রেফারি হেক্টর মার্তিনেজ পেনাল্টি দেওয়া—তা নিয়ে এখন চলছে বিতর্ক। অনেকের মতে, টিলেমান্সকে যখন ফাউল করেন লামিনে কামারা তখন স্পর্শটা হালকা ছিল। ম্যাচের এমন মুহূর্তে সিদ্ধান্তটা না দিলেই পারতেন রেফারি।
ভিএআরে দেওয়া পেনাল্টি নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল বলেছেন, ‘আমার সত্যিই মনে হয় না ওটা পেনাল্টি। টিলেমান্স যদি বল স্পর্শ করার পর লাথি খেতেন, তাহলে পেনাল্টি দেওয়া যেত।’
বিপরীতে পেনাল্টি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন জন ওবি মিকেল। নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়কের মতে, পেনাল্টি এখন দল দেখে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘কারা খেলছে, তার ওপর যেন এখন খেলার নিয়ম নির্ভর করছে। একই কাজ অন্যরা করলে পেনাল্টি দেওয়া হতো না।’
তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলতে চাইলেন না সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। তিনি শুধু বললেন, ‘এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করতে চাই না। পেনাল্টির ব্যাপারে আমাদের একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি বা মতামত একেক রকম। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য না করে, এ নিয়ে আমি কথা না বাড়ানোই ভালো মনে করছি।’
অথচ, বিতর্কিত পেনাল্টির আগে ম্যাচটা সেনেগালের হাতেই ছিল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ৩ মিনিটের ব্যবধানে দলকে সমতায় ফেরান রোমেলু লুকাকু ও টিলেমান্স। আর অতিরিক্ত সময়ের ১২৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন টিলেমান্স।
শেষ বাঁশি বাজার পর তাই আনন্দে আত্মহারা হলেন লুকাকু-টিলেমান্সরা। বিপরীতে সেনেগালের শিবিরে তখন কান্নার রোল। হারের দায়ে যেন কামারা বেশিই কাঁদলেন। সতীর্থরা অবশ্য নিজেদের আবেগ সামলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলেন। তবুও থামছিল না তার চোখের পানি।




