• ই-পেপার

জানা গেল ফ্রান্স-ইরাক স্থগিত ম্যাচ শুরুর সময়

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যারা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যারা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল্ডেন বুটের লড়াইটা যে এতটা জমজমাট রূপ নেবে, তা হয়তো অতি বড় ফুটবল রোমান্টিকও কল্পনা করেননি। যেন কেউ কাউকে এক চুল ছাড় দিতে রাজি নন! ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডদের গোল করার এই অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতা টুর্নামেন্টকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। মাত্র দুই ম্যাচ শেষেই এখন গোল্ডেন বুটের দৌড় রূপ নিয়েছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে।

আপাতত ৫ গোল নিয়ে তালিকার সবার উপরে আছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই ৪টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দুই ম্যাচ শেষেই তিনজন খেলোয়াড় ৪ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন। এর আগে সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে এমন গোলবন্যা দেখা গিয়েছিল।

গত কয়েক ঘণ্টায় ফুটবল বিশ্ব দেখেছে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের গোল করার এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। গোল উৎসবের শুরুটা করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন ‘এলএম-টেন’।

মেসির এই কীর্তির জবাব দিতে সময় নেননি কিলিয়ান এমবাপ্পেও। আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে বিঘ্নিত ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এই ফরাসি তারকা। আর এই ম্যাচ দিয়েই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এমবাপ্পে।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এমন পারফরম্যান্সের পর চুপ করে বসে থাকেননি নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডও। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে শেষ ৩২-এ তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শুরুটা এর চেয়ে দুর্দান্ত বোধহয় হতেই পারত না হালান্ডের।

একজন গোল করলে যেন অন্যজন তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পণ করেছেন। বিশ্বমঞ্চে সেরাদের এই দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের এক অন্যরকম রোমাঞ্চ দিচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের উত্তাপ আরও বাড়তে পারে আজ মঙ্গলবারই। ঘানার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে জোড়া গোল করা ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন আজ আবার মাঠে নামছেন নিজের গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে।

সেরাদের এই অবিশ্বাস্য গোলক্ষুধা নিয়ে ফরাসি ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনস বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন, ‘বড় তারকাদের তাড়নাটাই আলাদা, তারা সবসময় বল নিজের পায়ে চায়। আমার মনে হয়, তারা কেবল এবারের গোল্ডেন বুটের পেছনেই ছুটছেন না; তাদের মধ্যে কয়েকজন বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যেই মাঠে নামছেন।’

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের মাত্র শুরু, তাতেই যেভাবে রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চুরমার হচ্ছে, তাতে গোল্ডেন বুটের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

হঠাৎ ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা আর্জেন্টাইন তারকার, বার্সা-পিএসজি-রিয়ালের লড়াই

ক্রীড়া ডেস্ক
হঠাৎ ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা আর্জেন্টাইন তারকার, বার্সা-পিএসজি-রিয়ালের লড়াই
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মাঝেই নিজের ‘স্বপ্নপূরণ’ করতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এমন মন্তব্যের পর ইউরোপিয়ান ফুটবল বাজারে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যে বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মতো জায়ান্ট ক্লাবগুলো তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে, চলতি জুনের শুরুর দিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে আসা ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ১৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) একটি বিশাল প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে বিশ্বকাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলভারেজ। গোড়ালির চোট কাটিয়ে ওঠার পর টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছেন তিনি।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সোমবার রাতে আর্জেন্টিনার জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খোলেন এই তারকা।

আলভারেজ বলেন, ‘অ্যাতলেতিকোর যেসব কর্মকর্তার সাথে আমার কথা বলা প্রয়োজন ছিল, আমি বলেছি। সবার জন্যই এখন সেরা সিদ্ধান্ত হবে একটি দলবদল। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও এখন এসব নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় নয়, তবে আমি বিষয়টি লুকিয়েও রাখতে পারি না। আমি একজন সৎ মানুষ হিসেবেই থাকার চেষ্টা করি।’

২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ৮১.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক এই রিভার প্লেট ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১০৬ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৯ গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৭টি গোল।

লা লিগায় নিজের প্রথম মৌসুমে ১৭ গোল করে আলো ছড়ালেও, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে কিছুটা ফর্মহীনতায় ভুগেছেন আলভারেজ, করতে পেরেছেন মাত্র ৮ গোল। তবে ঘরোয়া লিগে নিষ্প্রভ থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছিলেন দুর্দান্ত। ইউরোপের শীর্ষ এই প্রতিযোগিতায় ১০ গোল করে আতলেতিকোকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, যদিও সেমিফাইনালে আর্সেনালের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তার দলকে। 

হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে
জোড়া গোল করে নরওয়ের জয়ের নায়ক হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

লিওনেল মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পেরা জালের দেখা পেলে তো আর মন ভরবে না আর্লিং হালান্ডের। মনের খোরাক মেটানোর জন্য তারও দরকার গোল। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে যেন গোলের পণ করেই মাঠে নামেন নরওয়ের তারকাও।

মেসি-এমবাপ্পের ম্যাজিকাল রাতে তাই ভাগ বসালেন হালান্ড। দুই কিংবদন্তির মতোই ম্যাচে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনিও। তার জোড়া গোলে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে নরওয়ে। এতে করে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে খেলবে নরওয়ে। ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও জোড়া গোল করেন হালান্ড। 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজায় নরওয়ে। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত এক সেভ দেন তিনি। কর্নার থেকে নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ার গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। তবে তার হেড জালে জড়ানোর আগে অবিশ্বাস্যভাবে পা দিয়ে সেভ করেন সেনেগালের গোলরক্ষক।

৩৭ মিনিটে নরওয়েকে লিড এনে দেওয়ার সুর্বণ সুযোগ পেয়েছিলেন মার্টিন ওডেগার্ডও। বক্সের মধ্যে আর্লিং হালান্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরাল ভলি নিয়েছিলেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার। তবে গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসা গোলরক্ষক মেন্ডির শরীরে লাগায় গোল আর পাওয়া হয়নি তার।

বিরতিতে যাওয়ার ২ মিনিট আগে অবশ্য নরওয়েকে আনন্দে ভাসান মার্কাস পেডারসেন। ৪৩ মিনিটে তার নেওয়া ডান পায়ের শট এবারও অনেকটা ঠেকিয়েই দিয়েছিলেন মেন্ডি। তবে বলে পাওয়ার থাকায় হাতে লাগার পরেও জালে জড়ায়।

যোগ করা সময়ে ২-০ লিড পেতে পারত নরওয়ে। তবে হতাশ করে পোস্ট। ডান প্রান্ত থেকে গোলে শট নিয়েছিলেন আর্লিং হালান্ড। কিন্তু তার শট কাছের পোস্টে লাগায় গোল আর পাওয়া হয়নি। একই আক্রমণে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সতীর্থর ক্রসে হেড নিয়েছিলেনও তিনি, তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেন মেন্ডি।

হতাশা নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পান হালান্ড। সতীর্থ ওডেগার্ডের পাসে ৪৮ মিনিটে জোরাল শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া সেনেগাল ম্যাচে ফেরে ৫৩ মিনিটে। সাদিও মানের পাস থেকে ব্যবধান কমান ইসমাইলা সার।

তবে গোল ব্যবধান কমানোর আনন্দ বেশিক্ষণ উপভোগ করা হয়নি সেনেগালের। ৫৮ মিনিটে যে জোড়া গোল করেন হালান্ড। প্যাট্রিক বার্গের ক্রসকে পেনাল্টি স্পট থেকে সাইড-ফুটেড ভলিতে গোলটি করেন হালান্ড।

৮৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের খুব কাছে গিয়েছিলেন হালান্ড। তার শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ে ব্লক না হলে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকটা পেয়েই জেতেন তিনি। ৯০ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সেভ দেন সেনেগালের আরেক ডিফেন্ডার পাথে চিস। অস্কার ববের জোরাল এক শট গোল লাইন থেকে হেডে বাঁচিয়ে দেন।

বিপরীতে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরেকটি গোল করে ম্যাচ জমানোর ইঙ্গিত দেন সার। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে বক্স থেকে গোল করে। তবে গোলটিতে ব্যবধান ৩-২ হলেও সমতায় ফেরা হয়নি সেনেগালের।

এ জয়ে ফ্রান্সের পর গ্রুপ ‘আই’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। উভয় দলই টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে। তবে পয়েন্ট সমান ৬ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স শীর্ষে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কারা হবে সেটা নির্ভর করবে আগামী ২৭ জুনের ম্যাচে। সেদিন বোস্টনে মুখোমুখি হবে নরওয়ে-ফ্রান্স।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
ফ্রান্সের জয়ের নায়কদ্বয় এমবাপ্পে-দেম্বেলে ছবি : রয়টাস।

প্রতিপক্ষ বদলালেও গোল ঠিকই আদায় করে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেটিও একটি নয়, দুটি। অর্থাৎ, সেনেগালের বিপক্ষে করা জোড়া গোলের পারফরম্যান্সের হাইলাইটসই যেন দেখালেন তিনি। তার জোড়া গোলে ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ফ্রান্স। বাকি গোলটি করেছেন উসমান দেম্বেলে।

ফিলাডেলফিয়ায় জোড়া গোল করে কীর্তিও গড়েছেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলে রোনালদো নাজারিওর পাশে বসার পর দ্বিতীয় গোল তাকে পেছনে ফেলে মিরোস্লাভ ক্লোসার কীর্তি স্পর্শ করেছেন। জার্মান কিংবদন্তির ১৬ গোলের কীর্তি ছুঁয়েছেন।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে করা এমবাপ্পের গোলটি ছিল অবিশ্বাস্য। বিশ্বাস না হলে ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে করা তার গোলটি একবার হাইলাইটস দেখলেই বুঝতে পারবেন। বাঁকানো শটটি যতই দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। গোলটির এমনি শক্তি।

ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ রাঙানোর জন্য আর কি-ই-বা লাগে। তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইরাকের বিপক্ষে বিরতিতে যায় ফ্রান্স। 

৪১ মিনিটে জোড়া গোল পেতে পারতেন এমবাপ্পে। শরীরকে দারুণভাবে স্পিন করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন তিনি। তবে শট নেওয়ার মুহূর্তে হুসেইন আলি স্লাইড দিয়ে বলকে থামালে আর গোলটি পাওয়া হয়নি এমবাপ্পের।

দলকে লিড এনে দেওয়া গোলে একটা কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় রোনালদো নাজারিওকে ছুঁয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইরাকের বিপক্ষে করা তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপে ১৫তম। সমান গোল ব্রাজিল কিংবদন্তিরও। 

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় ২ ঘণ্টা পর ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়। ম্যাচ শুরু হতেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের অধিনায়ক গোলটা অনেকটা উপহারই পান প্রতিপক্ষ ইরাকের কাছ থেকে। ৫৪ মিনিটে ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম গোলরক্ষক বাসিলকে বল দিলে, তা ধরতে না পারায় উসমাল দেম্বেলের পায়ে যায়। বক্সের মধ্যে থেকে ফাঁকা পোস্টে বল জালে জড়াতে ভুল করলেন না এমবাপ্পে।

তাতে রোনালদোকে (১৫ গোল) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় দুইয়ে জায়গা করে নেন এমবাপ্পে। তার সঙ্গে অবশ্য দুইয়ে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। দুজনের গোল এখন ১৬। সবার ওপরে আছেন ১৮ গোলের মালিক লিওনেল মেসি।

জোড়া গোলের নায়ক এমবাপ্পের নামের পাশে ৫৮ মিনিটে একটা অ্যাসিস্টও থাকতে পারত। মাইকেল ওলিসে বুটের মাথা দিয়ে দারুণ এক চিপও করেছিলেন। তবে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বার। 

৬৬ মিনিটে অবশ্য সতীর্থ দেম্বেলেকে দিয়ে গোল করিয়ে নিজের হতাশা কিছুটা কমান ওলিসে। বক্সের মধ্যে থাকা দেম্বেলেকে পাস বাড়ালে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে ডান পায়ে জোরাল শট নেন পিএসজির ফরোয়ার্ড। তাতে ৩-০ লিড পায় ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেই মাঠ ছাড়েন দেম্বেলে। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামে দেজিরে দুয়ে।

৭৫ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। তবে আল হামাদির ভলি অল্পের জন্য বাঁ পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। বিপরীতে ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন এমবাপ্পে। যদি ঠিক মতো ভলিটা ইরাকের জালে রাখতে পারতেন। 

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তেও হ্যাটট্রিক পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। সতীর্থর কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে দৌড়ে পরাস্ত করে শুধু ফিনিশিংটা করতে পারলেন না। বাঁ পায়ের শটটা পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে উড়ে গেল। সেই শটের পর নিজেও বদলি হন।

পরে আর গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলের জয় পায় ফ্রান্স। এ জয়ে নকআউটও নিশ্চিত করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা।