• ই-পেপার

বিশ্বকাপে ঘানার ডাগআউটে রিয়ালের সাবেক কোচ

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলুক, কাপ নিয়ে আসুক : কায়সার হামিদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলুক, কাপ নিয়ে আসুক : কায়সার হামিদ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ। ছবি: ফেসবুক

ব্রাজিল ফুটবল দলের পাঁড় ভক্ত কায়সার হামিদ, তা অনেকেরই জানা। ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে দেশের পতাকার সঙ্গে ব্রাজিলের পতাকাও রেখেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

সামনেই আরেকটি বিশ্বকাপ। স্বাভাবিকভাবেই কায়সার হামিদ ব্রাজিলকে সমর্থন দিচ্ছেন। তার আশা, নেইমার-ভিনিসিয়ুসরাই এবার চ্যাম্পিয়ন হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবেন বলে আশাবাদী তিনি। 

কায়সার হামিদ বলেন, ‘ব্রাজিল ছন্দময় ফুটবল খেলে। আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। আমি চাই ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলুক, কাপ নিয়ে আসুক। তবে তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারুক আর না পারুক প্রতি বছর নতুন নতুন যে টেকনিক নিয়ে আসে, সেটা ভালো লাগে।’

আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গোলখার গ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কায়সার হামিদ এসব কথা বলেন। ওই গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

কায়সার হামিদ বলেন, ‘প্রতি বিশ্বকাপেই নতুন নতুন তারকা আসে। মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পে, সালাহর খেলা ভালো লাগে। এইবারের বিশ্বকাপেও নতুন তারকা উঠে আসবে বলে আমি মনে করি। তবে নতুন কোন দল এবার ভালো করবে, এটা বলা মুশকিল।’

বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডার আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই বিভিন্ন দলের পতাকা উড়ানো দেখেই বুঝা যায়, এ দেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। ফুটবল আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ইদানীং র‌্যাংকিয়েও আমাদের উন্নতি হয়েছে। হামজা চৌধুরীর মতো খেলোয়াড়েরা আসার পর উন্নতি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ কখনোই ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এ নিয়ে কায়সার হামিদের কণ্ঠে ঝরল আক্ষেপ, ‘একটি জেলার সমান দেশও বিশ্বকাপে খেলে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশও খেলে। কিন্তু আমরা কেন পারি না? এ নিয়ে পরিকল্পনার একটা ব্যাপার আছে। বাংলাদেশের গ্রামে অনেক মেধাবী খেলোয়াড় আছে। তাদেরকে উঠিয়ে আনতে হবে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে আমাদেরকে জোর দিতে হবে। নয়তো যত ভালো কোচ কিংবা বিদেশি কোচ আনা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বাংলাদেশ আগামীতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বলে আশা করি।’

কায়সার হামিদ গোলখার গ্রামে আসার পর স্থানীয় লোকজন তাকে স্বাগত জানান। তাকে একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়। এ সময় ধরখার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ হুমায়ুন কবির জীবন, মো. জয়নাল আবেদীনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মনির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। আমরা ওনাকে খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছি। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি এসেছেন। এলাকার মানুষ তাকে স্বাগত জানায়।’

সালাহকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা মিসরের, আছে চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
সালাহকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা মিসরের, আছে চমক
ছবি : রয়টার্স

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন মিসর। যথারীতি দলের নেতৃত্বে লিভারপুলের তারকা উইঙ্গার মোহাম্মদ সালাহ বলে জানিয়েছেন কোচ হোসাম হাসান। পুরো স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার হামজা আবদেল কারিম।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণ প্রতিভাবনা কারিম মিশরের জায়ান্ট দল আল আহলি থেকে ধারে স্প্যানিশ তৃতীয় স্তরের ফুটবল লীগের দল  বার্সেলোনা আতলেতিকে খেলছেন। তবে অনভিজ্ঞ ও তরুণ হওয়া সত্ত্বেও বার্সার যুব একাডেমিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে কোচ হোসাম হাসান এই কিশোর প্রতিভার ওপর ভরসা রেখেছেন।

এদিকে আক্রমণভাগে সালাহর সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। যিনি এই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৩৬ ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন।

তবে আক্রমণভাগের অন্যতম নিয়মিত মুখ ফরাসি ফুটবল ক্লাব এফসি নঁতের ফরোয়ার্ড মোস্তফা মোহামেদ দল থেকে বাদ পড়েছেন। ৬ জুন ওহাইওতে ব্রাজিলের বিপক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচ খেলবে মিশর।

মিশর এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ জি-তে খেলবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও ইরান। আগামী ১৫ই জুন সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দেশটি।

মিসরের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক : মোহাম্মদ এল-শেনাউই, মোস্তফা শোবেইর (আল আহলি), এল-মাহদি সোলিমান (জামালেক), মোহাম্মদ আলা (এল গাউনা)।

ডিফেন্ডার : মোহাম্মদ আবদেলমোনেম (নাইস), মোহাম্মদ হ্যানি, ইয়াসির ইব্রাহিম (আল আহলি), হোসাম আবদেলমাগুইদ, আহমেদ ফাতুহ (জামালেক), তারেক আলা (জেডইডি), রামি রাবিয়া (আল আইন), হামদি ফাথি (আল ওয়াকরাহ), করিম হাফেজ (পিরামিড)।

মিডফিল্ডার : মোহাম্মদ সালাহ (লিভারপুল), মারওয়ান আত্তিয়া, আহমেদ মোস্তফা “জিজো”, মাহমুদ হাসান “ট্রেজেগুয়েট”, এমাম আশুর (আল আহলি), মোস্তফা আবদেল রউফ, মোহান্নাদ লাশীন (পিরামিড), হাইথাম হাসান (রিয়াল ওভিয়েডো), মাহমুদ সাবের (জেডব্রাহিম), ইমরানল্যান্ড (জেড)। (আল-নাজমা)।

ফরোয়ার্ড : ওমর মারমাউস (ম্যানচেস্টার সিটি), হামজা আবদেল করিম (বার্সেলোনা আতলেতিক)

বাংলাদেশের বিপক্ষে সেরা তারকাকে পাচ্ছে না ভারত

গোয়া থেকে প্রতিনিধি
বাংলাদেশের বিপক্ষে সেরা তারকাকে পাচ্ছে না ভারত
ভারতীয় দলের তারকা ফরোয়ার্ড মনিষা কল্যাণ। ছবি : সংগৃহীত

গত মার্চে বাংলাদেশের পাশাপাশি এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলেছে ভারতও। তিনটি ম্যাচই হেরেছে তারা। তবে বড় মঞ্চে দুইটি গোলও পেয়েছে। এর একটি মনিষা কল্যাণের। চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ফ্রি কিকে দুর্দান্ত গোল করে নজর কেড়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

শুধু ওই গোলই নয়, গত ৫-৬ বছর ধরে ভারতের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা মনিষা। ভারতের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচও। খেলেছেন ইউরোপের দুইটি ক্লাবে। এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফুটবলারকে আগামীকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে পাচ্ছে না ভারত।

পেরুর ক্লাব আলিয়াঞ্জা লিমার হয়ে খেলা মনিষা জাতীয় দলে যোগ দেবেন ১ জুন। সেদিনই শুরু হবে ফিফা উইন্ডো। উইন্ডোর আগেই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়ে যাওয়ায় মনিষাকে ছাড়েনি তার ক্লাব। বাংলাদেশের বিপক্ষে গোলও আছে মনিষার। ২০১৯ সাফে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে ম্যাচে একটি গোল করেছিলেন তিনি।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া মনিষা পেরুর লিগ ছাড়াও খেলেছেন সাইপ্রাস ও গ্রিসের ক্লাবে। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ছিলেন সাইপ্রাসের অ্যাপোলোন ক্লাবে। সেখানে ৪৬ ম্যাচে করেন ১৬টি গোল। জিতেছেন দুইটি লিগ শিরোপা।

এরপর নাম লেখান গ্রিক ক্লাব পিএওকেতে। এক মৌসুমে ২৩ ম্যাচে তার গোল ছিল আটটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার গোল ১৫টি।

২০২১ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৬-১ গোলে ভারত হারলেও একমাত্র গোলটি ছিল মনিষা কল্যাণের। ভারতীয় ফুটবলের বর্ষসেরার পুরস্কারও জিতেছেন দুইবার। এমন একজন ফরোয়ার্ডকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে না বলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে বাংলাদেশ।

গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আগামীকাল স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু রাত ৮টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

বাংলাদেশ দলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন আনিকা

রানা শেখ, গোয়া থেকে
বাংলাদেশ দলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন আনিকা
বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে

গোয়ার ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুশীলন শেষে অন্যরা যখন টিম বাসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও মাঠে ব্যস্ত আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পেনাল্টি শটে একের পর এক পরাস্ত করতে দেখা গেল সুইডিশ প্রবাসী এই স্ট্রাইকারকে।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে মর্যাদার ম্যাচ সামনে রেখে আজ মিনিট দশেক অতিরিক্ত অনুশীলন করেছেন আনিকা। এতেই বোঝা যায়, ম্যাচটা নিয়ে কতটা সিরিয়াস তিনি! কোচ পিটার বাটলারও তার এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করলেন, ‘আমি তাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকি। এটাও বলেছি, উন্নতি করতে হলে এটার (অতিরিক্ত পরিশ্রম) বিকল্প নেই। শুধু তার ক্ষেত্রে নয়, সবার জন্য।’

উইঙ্গার হিসেবে গত মার্চে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এসে নতুন ভূমিকায় আনিকা। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন গোল। শারীরিকভাবে শক্তিশালী এই ফুটবলার দলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বলে জানালেন বাটলার, ‘আমরা এখন ভিন্ন একটি দল। আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলি। আমাদের দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় উঠে এসেছে। তবে আমি কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই না। আমার মনে হয় আমাদের দলে অনেক ম্যাচজয়ী ফুটবলার আছে। আনিকা আমাদের খেলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।’

ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, উমেহ্লা মারমাদের সঙ্গে আনিকা থাকায় আক্রমণভাগেও শক্তি বেড়েছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে ভারতের আক্রমণভাগেও আছে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো ফুটবলার। তবে এই ম্যাচে স্বাগতিকরা পাচ্ছে না দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মনীষা কল্যাণকে। পেরুর ক্লাব আলিয়াঞ্জা লিমার হয়ে খেলা এই ফুটবলার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ১ জুন।

সেদিনই শুরু হবে ফিফা উইন্ডো। উইন্ডোর আগেই সাফ শুরু হয়ে যাওয়ায় মনীষাকে ছাড়েনি তার ক্লাব। এএফসি এশিয়ান কাপে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ফ্রি কিকে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন তিনি। ইউরোপের ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনীষার না থাকা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি দেবে বাংলাদেশকে।

তবে বাকি যারা আছেন—সৌম্য গুগুলাথ, কাভিয়া পাক্কিরিসামি, গ্রাস দাংমেইরাও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।

এ নিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘ভারতের আক্রমণ যতই শক্তিশালী হোক, আমাদেরও আক্রমণভাগ আছে। প্রয়োজন হলে আমরা ভালোভাবে রক্ষণ সামলাতে পারি, প্রয়োজন হলে লড়াই করে রক্ষণ করতে পারি। আমরা প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে উঠতে পারি, সুযোগ তৈরি করতে পারি—সেটা আমরা আগেও দেখিয়েছি। এখন মূল বিষয় হলো সেই সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দেওয়া।’