ভোরের আলো ফোটার পরপরই গোয়ার ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে হাজির বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেই সময়েও এখানে গরমের তীব্রতা ছিল অসহনীয়। এর মাঝেই প্রায় ঘণ্টা দুয়েক ঘাম ঝরালেন পিটার বাটলারের শিষ্যরা। রানিং, স্ট্রেচিংয়ের পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে ম্যাচ আবহে প্রস্তুতি সারলেন মারিয়া মান্দা-মনিকা চাকমারা।
প্রস্তুতির অধিকাংশ সময়েই চলল সেট পিস অনুশীলন। কখনো কর্নার আবার কখনো ফ্রি কিকে শানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়রদের। অনুশীলনের পুরোটা সময়ই খুব সিরিয়াস দেখা গেছে ফুটবলারদের। কারণ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ।
দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রুপসেরা কে হবে সেটা নির্ধারণ হবে এই ম্যাচে। ভারত গোল ব্যবধানে (+১১) অনেক এগিয়ে বাংলাদেশের (+২) চেয়ে। সেক্ষেত্রে গ্রুপসেরা হতে গেলে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
তাই এই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ দেখছেন কোচ বাটলার, 'আপনি নেপালের বিপক্ষে খেলুন বা ভারতের বিপক্ষে, বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি সেমিফাইনালে আছেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য এক ধাপ করে এগিয়ে যাওয়া। আমি বহুবার এমন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। ভারত হোক, নেপাল হোক—আমি কোনো দলকেই ভয় পাই না। বরং এমন দলের মুখোমুখি হতে পেরে আমি খুশি। কারণ তারা আপনার পরীক্ষা নেয়। মেয়েদের জন্য এটি নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর আরেকটি সুযোগ।'
মালদ্বীপের বিপক্ষে অনেক সু্যোগ নষ্ট করেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। তাতে বড় জয়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ম্যাচ জিতলেও মেয়েদের মধ্যে হতাশা ছিল। এটা শেখারই অংশ বলে মনে করেন বাটলার, ‘আমি মনে করি না তারা ভেঙে পড়েছিল বা হতাশ ছিল। তারা হয়তো শুধু হতাশ হয়েছিল কারণ আমাদের অনেক বড় ব্যবধানে জেতার কথা ছিল। আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ বলের দখল ছিল। কিন্তু তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। ঋতুপর্ণার দিনটা ভালো যায়নি, আরো কয়েকজনেরও ভালো যায়নি।’
বাটলার আরো বলেন, ‘এমন দিন আসতেই পারে। এটা শেখারই অংশ। আমার মতে ঋতুপর্ণা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উইঙ্গারদের একজন। তার অনেক সম্ভাবনা আছে, সে তরুণী এবং অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি তার সঙ্গে কাজ করা খুব উপভোগ করি। সে একেবারে সতেজ বাতাসের মতো। মনিকাও ফিরে এসেছে, যা ভালো খবর। আগামীকাল সকালে আমরা দল চূড়ান্ত করব।’
ভারতের বিপক্ষে মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সঙ্গে আরো কয়েকজনকে সু্যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এই ম্যাচ আমাদের জন্য কিছু খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ করে দেবে। মনিকা ফিরছে। আজ সকালে আমি কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। পরিকল্পনা ‘এ’, পরিকল্পনা ‘বি’—যাই বলুন না কেন, আমাদের কিছু বিকল্প আছে। তবে আমরা জানি, আমরা একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। আমরা অবশ্যই তাদের নিয়ে হোমওয়ার্ক করব। এখান (অনুশীলন) থেকে ফিরে আমরা আগের ম্যাচের বিশ্লেষণে বসব এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব।’
ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ। ২০২২ সাফে ৩-০ এবং ২০২৪ আসরে জয় ছিল ৩-১ ব্যবধানে। এবার ভারতের মাঠ জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তাদের হারানোর পরিকল্পনা আঁটছে বাংলাদেশ। জিততে পারলে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে এগিয়ে যাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচ। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।




