• ই-পেপার

ব্যক্তিগত স্পনসর না থাকার আক্ষেপ সাবিনার

সমর্থকদের তোপ ও সরকারি তদন্ত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পালালেন’ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
সমর্থকদের তোপ ও সরকারি তদন্ত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পালালেন’ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ
হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

অনেক আশা নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছে পুরো দল।

সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ দলটির সদ্য সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোর ওপর। এমন পরিস্থিতিতে দেশে নিরাপত্তা অভাব বোধ করায় হং যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন দাবি করেছে জানিয়েছে জংআং ডেইলি, চোসানবিজ, স্টার নিউজ কোরিয়াসহ দেশটির আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। 

ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযান শেষে দেশে ফিরতেই তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হং মিয়ুং-বো। সমর্থকরা বিমানবন্দরে জড়ো হয়ে ‘হং আউট’ স্লোগান দিতে থাকেন। ‘হংয়ের বেতন ফেরত নেওয়া হোক’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতেও কয়েকজনকে দেখা যায়। এমনকি কেউ কেউ তাকে গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত গালি দিতে থাকেন।

Korea
নিরাপত্তার শঙ্কায় তাড়াহুড়ো করে দেশ ছাড়েন দক্ষিণ কোরিয়ার সদ্য সাবেক কোচ হং মিয়ং-বো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে হং মিয়ং-বো এরই মধ্যে পদত্যাগও করেছেন। তবু সমর্থকরা শান্ত না হওয়ায় দেশে ফেরার দুদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছেন।

স্টার নিউজ কোরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া সব ম্যাচ খেলেছে মেক্সিকোয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি তারা দেশে ফিরেছে। এরপর কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও বিপদ আঁচ করতে পেরে হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন, যেখানে তার পরিবার আগে থেকেই আছে। 

বিশ্বকাপে দলের এমন ভরাডুবি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং। তার মতে, যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াতেই এমন পরিণতি হয়েছে। দেশটির জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অঙ্গনে অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক চাপ এবং সরকারি তদন্তের শুনানি এড়াতেই হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের অনেক কথাই বলতে চাই। তবে সেগুলো বলার জন্য উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি।’ জাতীয় দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জনও নাকচ করে দেন হং মিয়ুং-বো।

তবে সংবাদমাধ্যমের দাবি, হং মিয়ুং-বো লস অ্যাঞ্জেলেসে পরিবারের কাছে গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই সফরকে ‘বিদেশে পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের জন্য ঘটনাটি ‘আন্তর্জাতিক লজ্জা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মৃত ফুটবল’ জাগিয়ে তুলতে সমর্থকদের আলটিমেটাম

ক্রীড়া ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মৃত ফুটবল’ জাগিয়ে তুলতে সমর্থকদের আলটিমেটাম
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা। ছবি: এক্স

‘দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল মৃত’—ক্ষুব্ধ জনতার মাথার ওপর ভাসতে থাকা প্ল্যাকার্ডের লেখাটিই যেন পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছিল।

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু দেশবাসীর প্রত্যাশার চাপেই কি না দলটি চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে ফিরেছে। বাজে পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা।

দল দেশে ফেরার পর রাজধানী সিউলের ইনচন বিমানবন্দরের বাইরে কয়েক হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘মৃত ফুটবল’ জাগিয়ে তুলেতে দেন আলটিমেটাম। 

সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোর ওপর। তাদের একাংশ ‘হং আউট’ স্লোগান দেন, এমনকি কেউ কেউ তাকে গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত কথা শুনিয়ে দেন। 

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং মিয়ুং-বো। দলের ভরাডুবি দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং গুরুত্ব সহকারে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মতে, যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াতেই এমন পরিণতি হয়েছে।

হং মিয়ুং-বো একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের বড় তারকা ছিলেন। ঘরের মাঠে ২০০২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন হং মিয়ুং-বো। পরে কোচ হিসেবেও বয়সভিত্তিক দলে সাফল্য পান। কিন্তু ২০২৪ সালে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়।

সমর্থকদের বড় একটি অংশের অভিযোগ ছিল, হং মিয়ুং-বোকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নয়; বরং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

অনেকের দাবি, কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে হং মিয়ুং-বোকে পছন্দ করতেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও কেএফএ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বিতর্ক আরো বাড়ে যখন কেএফএর কোচ নির্বাচন কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ফুটবলার পার্ক জু-হো অভিযোগ করেন, কোচ নিয়োগের নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, অন্য প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেএফএ তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেও অনেক সমর্থক এবং কিংবদন্তি ফুটবলার পার্ক জি-সুং তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

পরবর্তীতে সরকারি এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোচ নিয়োগ ও আগের কোচকে বরখাস্ত করার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির কথা উঠে আসে। তদন্তে কেএফএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়লেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পায়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ও আসরের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে হেরে বিদায় নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের রক্ষণাত্মক কৌশল এবং আক্রমণে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় অধিনায়ক ও দলের সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত। অনেকের মতে, কোচ হং মিয়ুং-বো সন হিউং-মিনের সামর্থ্যকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচগুলোতে সনকে অনেক সময় একা লড়াই করতে হয়েছে, পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, ‘সমর্থকদের হতাশার অনুভূতি আমি বুঝতে পারছি। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপের পর। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময়ে দেশটি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করতে পারেনি। 

বিপরীতে প্রতিবেশী দেশ জাপান পরিকল্পিতভাবে নিজেদের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়েও তারা অনেক এগিয়ে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ব্রাজিলকে তারা কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, একই দর্শনে দল গঠন এবং উপযুক্ত কোচিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী ভিত তৈরি করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়মিত কোচ বদলে যাওয়ায় স্থায়ী ফুটবল দর্শন গড়ে ওঠেনি।

এ কারণে অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, শুধুমাত্র কোচ পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা চান কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হোক। তাদের আশা, এবারের ব্যর্থতা দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।

ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সহায়তা চাইলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সহায়তা চাইলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সহায়তা চেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে এটিজেএফবি ফুটবল চাম্পিয়ানশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দোর কাছে এই সহায়তা চান তিনি।  

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মানুষের যে আবেগ ও উন্মাদনা, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত। সেই ফুটবল ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। 

আমিনুল হক বলেন, ফুটবল ও ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকার স্পোর্টস ডিপলোমেসির ওপর নির্ভর করছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশও একদিন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল খেলবে। একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও একই রকম আবেগ ও উন্মাদনায় উদ্‌যাপন করবে। খেলাধুলার প্রসারে এমন উদ্যোগ আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা যায় কি না সেই চেষ্টা করব।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আনন্দেরও প্রতীক। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলাটিকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে ফার্নান্দো বলেন, ফুটবল শান্তি ও সম্প্রীতির খেলা। প্রিয় দলকে সমর্থন করুন, আনন্দ করুন, তবে সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শুধু মাঠে, মাঠের বাইরে নয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করে। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—সব দেশের মানুষের মধ্যে এই খেলাটি বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

সেসা বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরো এগিয়ে যাক এবং দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে। এর টাইটেল স্পন্সর এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন এবং পাওয়ার্ড বাই ভিআইপি মোটরস।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ফুটবল মানুষকে একত্র করে। এই টুর্নামেন্ট শুধু প্রতিযোগিতা নয়, অ্যাভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নেও এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই এই আয়োজনের মূল চেতনা।

প্রথমবারের মতো দেশে এমন আয়োজন নিয়ে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফরমের প্রয়োজন ছিল। এয়ারলাইনস ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সেই প্রয়োজন পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর ও এটিজেএফবির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আদনান রহমান বলেন, এএফসি-২০২৬ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে সম্প্রীতি, নেটওয়ার্কিং ও সুসম্পর্ক জোরদারের একটি উদ্যোগ। 

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইনস এবং ফ্লাই দুবাই।


 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ, জবাব দিলেন স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ, জবাব দিলেন স্কালোনি
আর্জেন্টিনার সুবিধা পাওয়ার অভিযোগের জবাব দিয়েছেন স্কালোনি। ছবি : রয়টার্স

পাড়া-মহল্লার খেলায় একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় তারা ‘কমিটির দল’। কমিটির দল বোঝাতে তাদেরই বলা হয় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপ থেকে এই ট্যাগ আর্জেন্টিনার নামের পাশে।

টুর্নামেন্টে আলবিসেলেস্তারা বিশেষ সুবিধা পায় বলে অভিযোগ করে অনেকে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তার মাত্রা বেড়ে গেছে। সেই বিশেষ সুবিধা নিয়ে এবার আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। স্কালোনি এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছেন, ‘আজকাল যে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে কিছু একটা পোস্ট দিতে পারে। ছোট বিষয়কে বিশাল আকার দিয়ে ছড়াতে পারে। আমার মতে, এসব বিষয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।’

স্কালোনি আরও বলেছেন, ‘সামাজিক মাধ্যম এমনই। তবে এর ভালো দিকও আছে। দুর্ভাগ্যবশত খারাপ অর্থেই বলছি—যা খুশি পোস্ট করতে পারে এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। এক সেকেন্ডের মধ্যে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এতে মোটেও কান দিচ্ছি না।’

এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার সমাধানও দিয়েছেন স্কালোনি। আজ রাত ৪ টায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-য়ের ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৪৮ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, ‘একমাত্র সমাধান হলো সামাজিক মাধ্যমে না থাকা। সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বন্ধ করে দিন, ব্যস। আপনি যদি না দেখেন, তবে এসব জানতেও পারবেন না।’

ব্যক্তিগত স্পনসর না থাকার আক্ষেপ সাবিনার | কালের কণ্ঠ