• ই-পেপার

ছন্দে ফেরার মিশনে রিয়াল-সিটি

তিন অর্ধশতকে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিল টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক
তিন অর্ধশতকে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিল টাইগাররা
ছবি : ইএসপিএন ক্রিকইনফো

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হোয়াটওয়াশের লক্ষ্যে তৃতীয় ওয়ানডেতে লিটন-তৌহিদ-মোসাদ্দেকের অর্ধশতকে অজিদের লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।

রবিবার (১৪ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি লিটন দাস। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকার মাত্র ২ রান করে আউট হন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ধীরে ধীরে ইনিংস গোছানোর চেষ্টা করেন। তবে দুজনই বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তানজিদ ১৯ এবং শান্ত ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

তবে চাপের মধ্যে বাংলাদেশকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। পায়ের ইনজুরিতে ৪৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন লিটন। আর সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও ৮৩ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে আউট হন হৃদয়।

পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়ে বাংলাদেশের। ৫৬ রানে অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। শেষ দিকে লিটন দাস আবার ফিরে এসে তার ফিফটি পূর্ণ করেন। ১১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মিরপুরে এই প্রথম অর্ধশতক করেন তিনি। লিটনের ইনিংস শেষ হয় অপরাজিত ৫৮ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাট রেনশ ও জাভিয়ের বার্টলেট নেন দুটি করে উইকেট, একটি উইকেট পান বেন ডোয়ারসুইশ। এখন সিরিজের শেষ ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ২৭৫ রান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেদারল্যান্ডস
ছবি : বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফেসবুক পেজ

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ড। ১৪ জুন (রবিবার) ইংল্যান্ডের বার্মিহামের এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ম্যাচটি।

নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক বাবেত্তে দে লিডে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। নেপালের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলা দল নিয়ে মাঠে নামছে ডাচরা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দল ব্যাটারদের ওপর চাপ কমালে পেস ও স্পিন বোলার দিয়ে একাদশ সাজিয়েছে।

টুর্নামেন্টের এই আসরে উভয় দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলছে।

স্কোয়াড

বাংলাদেশ নারী দল

দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, শারমিন আক্তার, নিগার সুলতানা (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), সোভনা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, ঋতু মণি, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা।

নেদারল্যান্ড নারী দল

স্টেরে কালিস, সান্যা খুরানা, ফেবে মোলকেনবোয়ার, বাবেত্তে দে লিডে (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), রবিন রিজেকে, আইরিস জুইলিং, হেদার সিগারস, ফ্রেডেরিক ওভারডিক, ক্যারোলাইন দে ল্যাংগে, সিলভার সিয়েগার্স, ইসাবেল ভ্যান ডার ওয়নিং।

ইংল্যান্ড দলের চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড দলের চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত অভিযানে চুরি যাওয়া সব সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাসের সান আন্তোনিওর বাসিন্দা মুস্তাফা সালিক ও এরফান কামাল নামের দুই ব্যক্তিকে প্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি হওয়া মালামাল গ্রহণের অভিযোগ এনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রায় ১৮ হাজার ডলার মূল্যের সরঞ্জামের মধ্যে ছিল নয় জোড়া ফুটবল বুট, গোলরক্ষকদের গ্লাভস, বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্বাক্ষরযুক্ত ইংল্যান্ড জার্সি এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এতে ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি।

জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর মেলেসা জনসন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত আন্তর্জাতিক দল ও দর্শনার্থীদের লক্ষ্য করে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না।’

ইংল্যান্ড দল ফ্লোরিডার অনুশীলন ক্যাম্প থেকে কানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির ঘটনাটি ঘটে। পরে তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তাদের বেসক্যাম্প হিসেবে কানসাস সিটিকে বেছে নিয়েছে। যদিও গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচ সেখানে খেলবে না দলটি। ভৌগোলিক সুবিধা ও সহজ যাতায়াতের কারণে এই শহরকে ঘাঁটি হিসেবে নির্বাচন করেছে থ্রি লায়ন্সরা।

ইংল্যান্ড দল আগামী বুধবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।

শরণার্থীশিবির থেকে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার রূপকথার নায়করা

ক্রীড়া ডেস্ক
শরণার্থীশিবির থেকে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার রূপকথার নায়করা
ছবি : রয়টার্স

তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর নতুন করে সামনে এসেছে শরণার্থীশিবির থেকে এসে বিশ্বকাপে খেলা অস্ট্রেলিয়ার দুই তরুণের গল্প। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলের সেই বিখ্যাত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা সোনালি প্রজন্ম নিজেদের নাম ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ঠিক ২০ বছর পর, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সকারুজদের প্রচারণার প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন দুই আফ্রিকান শরণার্থী। 

২০ বছর বয়সী নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং ২২ বছর বয়সী মোহামেদ তুরে এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দুই উদীয়মান প্রতিভা। তুরস্কের বিপক্ষে অজিদের ঐতিহাসিক ২-০ গোলের জয়ের প্রথম গোলটি এসেছে নেস্টোরি ইরানকুন্ডার পা থেকে। 

এই দুই তরুণের মধ্যে মিল রয়েছে অনেক জায়গায়। দুজনেই আফ্রিকা থেকে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। ইরানকুন্ডা তানজানিয়া থেকে আর তুরে গিনি থেকে। দুজনেই অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন এবং এই মুহূর্তে দুজনই খেলছেন ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে। 

এমন একসময়ে তারা বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন, যখন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী স্লোগান ও রাজনীতি তীব্র হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২৬ সদস্যের এই স্কোয়াডটি এসেছে অন্তত ১৫টি ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পটভূমি থেকে। মাঠের এই দলটি আসলে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অস্ট্রেলিয়ারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষের জন্ম দেশের বাইরে। 

নিজের অদম্য শারীরিক শক্তি এবং বিদ্যুৎগতির জন্য পরিচিত মোহামেদ তুরে এবার খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার মূল স্ট্রাইকার বা ‘লিড ফরোয়ার্ড’ হিসেবে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব নরউইচ সিটির হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে মাত্র ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে এক অবিশ্বাস্য ব্রেক-আউট সিজন কাটিয়েছেন তিনি।

তুরের জন্ম হয়েছিল গিনির রাজধানী কোনাক্রির একটি শরণার্থীশিবিরে। লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তার বাবা-মা দীর্ঘ ১৪ বছর সেই শিবিরে কাটিয়েছিলেন। তুরের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তারা শরণার্থী হিসেবে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে।

তুরে এবং ইরানকুন্ডা দুজনই তাদের আরেক সতীর্থ আওয়্যার মাবিলের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ‘গেমচেঞ্জিং টিম’-এর সদস্য। এটি মূলত বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থী ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া এক প্রতীকী বিশ্ব একাদশ। মাবিল নিজেও কেনিয়ার এক শরণার্থী শিবিরে দক্ষিণ সুদান থেকে আসা দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন।

তুরের কাছে সকারুজদের এই সবুজ-হলুদ জার্সিটা গায়ে জড়ানো মানে এক পরম ‘স্বাধীনতা’। 
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এমন এক দেশ যা আমাদের সুযোগ দিয়েছে, আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন শরণার্থী হিসেবে আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে আমার ক্যারিয়ারের গ্রাফ আমাকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাবে কিংবা আমি নরউইচ সিটির হয়ে খেলব।’

ইরানকুন্ডার কাছে এটা এখনো এক অবিশ্বাস্য ঘোর যে অস্ট্রেলিয়ার মতো একটা দেশে তাদের মতো কৃষ্ণাঙ্গ তরুণরা আজ ফুটবলের প্রধান মুখ বা পোস্টার বয় হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, “এটা ভাবলেই পাগলামি মনে হয়, কারণ কে এটা কখনো ভেবেছিল? এখন যখন এটা সত্যিই ঘটছে। সবাই অবাক হয়ে বলছে, ‘ওয়াও’। আমি নিজেও কখনো ভাবিনি এটা সম্ভব হবে, হয়তো কোনো এক দিন হতো, কিন্তু এত দ্রুত হবে তা ভাবিনি।”

নিজের হিরোকে নিয়ে ইরানকুন্ডা বলেন, ‘আমার বড় হওয়ার দিনগুলোতে আমি যার দিকে তাকিয়ে অনুপ্রেরণা খুঁজতাম, মানুষ তাকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য করে কি না আমি জানি না, তবে আমি বলব টিম কাহিল। তিনি সামোয়ান ব্যাকগ্রাউন্ডের (আধা-কৃষ্ণাঙ্গ) ছিলেন, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি তাকে আইডল মানতাম, বিশেষ করে তার খেলার ধরন। আজ পর্যন্ত ওনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, তবে ওনার সঙ্গে দেখা করা এবং একটা দীর্ঘ আড্ডা দেওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটা স্বপ্ন। কী অসাধারণ একজন খেলোয়াড় ছিলেন তিনি, এককথায় টপ প্লেয়ার!’

ইরানকুন্ডার জন্ম হয়েছিল তানজানিয়ার এক শরণার্থীশিবিরে, তার বাবা-মা ছিলেন বুরুন্ডির নাগরিক। পরে একেবারে শিশু বয়সে তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসে স্থায়ী হন।

এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলে আফ্রিকান ঐতিহ্যের অধিকারী মোট ছয়জন সকারুজ রয়েছেন। তুরে (গিনি ও লাইবেরিয়া) ও ইরানকুন্ডা (তানজানিয়া ও বুরুন্ডি) ছাড়াও দলে আছেন লুকাস হ্যারিংটন (জিম্বাবুয়ে), জেসন গেরিয়া (উগান্ডা) এবং আওয়্যার মাবিল ও তেতে ইয়েনগি (দুজনেই দক্ষিণ সুদান)। 

ইরানকুন্ডা বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, ‘আফ্রিকান ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা আমরা সবাই যে আজ এখানে একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলছি, এটা ভাবতেই দারুণ লাগে। এটা আমাদের পুরো আফ্রিকান কমিউনিটির জন্যই এক বিশাল গর্বের ব্যাপার।’
 

ছন্দে ফেরার মিশনে রিয়াল-সিটি | কালের কণ্ঠ