• ই-পেপার

সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ক্লপ

ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, আসলেই কি ফাউল ছিল

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, আসলেই কি ফাউল ছিল
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিএআরের এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি, যদিও সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকরা।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর ২২তম মিনিটে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশে দ্বিতীয়বার জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

তবে গোল উদযাপনের মাঝেই ভিএআরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলে যায়। রিপ্লে দেখে রেফারি সিজার রামোস সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হেড থেকে আবারও গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা যায়। বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানের মতে, স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যবান ছিল।

তিনি বলেন, ‘সামান্য স্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে এটি ফাউল মনে হয়নি। ডিফেন্ডার নিজেই এসে সংস্পর্শে গেছে। গোলটি বাতিল হওয়ায় স্কটল্যান্ড সুবিধা পেয়েছে।’

অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষ্য, ‘ভিনিসিয়ুস বলে যাওয়ার আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছে। সেই সংস্পর্শই ডিফেন্ডারকে বল ক্লিয়ার করতে বাধা দিয়েছে। তাই এটি ফাউল এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক।’

বিবিসির স্টুডিও বিশ্লেষক ও সাবেক ব্রাজিল মিডফিল্ডার লুকাস লেইভা অবশ্য ভিন্ন মত দেন। তার মতে, ‘এটি কোনো ফাউল ছিল না। দারুণ প্রেসিং করে বল জিতেছিল ভিনিসিয়ুস। আমার কাছে গোলটি বৈধ বলেই মনে হয়েছে।’

রোনালদো-রিভালদোর কীর্তি ছুঁলেন ভিনিসিয়ুস

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদো-রিভালদোর কীর্তি ছুঁলেন ভিনিসিয়ুস
স্কটল্যিান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস। ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদোর অনন্য কীর্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার বিরল নজির গড়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুইবার জালের দেখা পান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে একটি এবং হাইতির বিপক্ষে একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ফলে তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন ভিনিসিয়ুস।

এর মাধ্যমে ২৪ বছর পর ব্রাজিলের কোনো ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদো। সে আসরে ব্রাজিল পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল।

এর আগে ১৯৭০ বিশ্বকাপে জর্জিনহো এবং ১৯৯৪ সালে রোমারিওও গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল করেছিলেন। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের অবদান ৮টি গোলে। তিনি করেছেন ৫টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ৩টি গোল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চার ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ড এবার আরো পরিণত রূপে আলো ছড়াচ্ছেন।

নকআউট পর্বের আগে ভিনিসিয়ুসের এমন দুর্দান্ত ফর্ম ব্রাজিলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। ২০০২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে সেলেসাও, আর সেই স্বপ্নের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।

১৭ বছরেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকো মিডফিল্ডার

ক্রীড়া ডেস্ক
১৭ বছরেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকো মিডফিল্ডার
মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়ে তিনি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।

১৭ বছর ২৫৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ম্যাচে মেক্সিকোর হয়ে শুরুর একাদশে নামেন মোরা। ১৯৫৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর কোনো খেলোয়াড় এত কম বয়সে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।

শুধু মেক্সিকোই নয়, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবেও শুরুর একাদশে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ।

 

এর আগে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশের খেলোয়াড় ছিলেন নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমি। তিনি ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭ বছর ১০১ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে গিলবার্তো মোরাকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া মেক্সিকো দলের কোচিং স্টাফের আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সুযোগ তরুণ মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে।

নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে আসা মোরা এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও বড় কিছু করার অপেক্ষায়। বয়স মাত্র ১৭ হলেও ভবিষ্যতে মেক্সিকান ফুটবলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই।

রোমাঞ্চকর জয়ে নকআউটে মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
রোমাঞ্চকর জয়ে নকআউটে মরক্কো
মরক্কোর ম্যাচ জয়ের নায়কদ্বয় ইয়াসিন-রাহিমি (ডানে)। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ থেকে হাইতির বিদায় অনেক আগেই নিশ্চিত হয়েছে। সেদিক থেকে মরক্কোর বিপক্ষে তাই হারানোর আর কিছু ছিল না দলটির। বিপরীতে মরক্কোর সামনে সুযোগ ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।  

কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে ভিন্ন এক হাইতিকে দেখল মরক্কো। যেন মরণ কামড় দিতে নেমেছিল তারা। তবে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও পরে দুর্দান্ত কামব্যাক করে বড় জয়ই পেয়েছে মরক্কো। সঙ্গে ৪-২ গোলের জয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটও নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা দলটি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। সতীর্থর পাস থেকে দারুণ এক ব্যাকহিল ফ্লিক করেন লেনি জোসেপ। মরক্কোর ফরোয়ার্ডের ব্যাকহিলটি ইয়াসিন বুনুর শরীরে লেগে জালে জড়ায়। শুরুতে জোসেপের নামে গোলটি দিলেও পরে আত্মঘাতী হিসেবে বুনুর নামের পাশে জুড়েছে।

সেই গোল শোধ দেয় ৩৯ মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াসের শট লাফিয়ে হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে না পারলে গোললাইনে থাকা আশরাফ হাকিমি জালে জড়িয়ে দেন। সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য বেশি সময় উপভোগ করতে পারেনি তারা।

৪৩ মিনিটে যে আবার এগিয়ে যায়। গোলটিও ছিল দেখার মতো। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির এক শট নেন উইলসন ইসিডোর। এতটাই জোরাল ছিল যে গোলরক্ষক বুনু কিছু করার আগেই জালে জড়িয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে অবশ্য আবার সমতায় ফেরে মরক্কো। ইসমায়েল সাইবারির গোলটিও দৃষ্টিনন্দন ছিল। বক্সের মধ্যে থেকে দারুণ এক ফিনিশিং করেন তিনি। এতে ২-২ গোলের সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর অবশ্য আর রোমাঞ্চটা জিইয়ে রাখতে পারেনি হাইতি। শেষ দিকে মরক্কোর ১১ মিনিটের ঝড়ে গুঁড়িয়ে গেছে তারা। ৭৮ মিনিটে প্রথমবার মরক্কোকে লিড এনে দেন সুফিয়ান রাহিমি। আর ৮৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে শেষ পেরেক মারেন গেসিমে ইয়াসিন। তাতে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৪-২ গোলের হাসি হাসে মরক্কো। 

বড় জয় পেলেও ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি মরক্কোর। ব্রাজিলের মতো সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সেলেসাওরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় স্কটল্যান্ড।

সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ক্লপ | কালের কণ্ঠ