• ই-পেপার

সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

নেইমারকে বেঞ্চে রেখে ব্রাজিলের একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমারকে বেঞ্চে রেখে ব্রাজিলের একাদশ
দলের সঙ্গে অনুশীলনে নেইমার। ছবি : রয়টার্স

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন নেইমার। এমনটা নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে একাদশে রাখেননি ব্রাজিলিয়ান কোচ। তবে স্কোয়াডে আছেন তিনি।

নেইমারকে ছাড়াই স্কটল্যান্ডের একাদশ ঘোষণা করেছেন আনচেলত্তি। তাতে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের জাদু দেখার অপেক্ষা আরেকটু বাড়ল ভক্ত-সমর্থকদের। একাদশে আজ এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল।

পরিবর্তনটা যে আসবে তা আগে থেকেই জানা ছিল। কেননা হাইতির বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। আজ তার বদলে নামছেন রায়ান। 

ব্রাজিলের একাদশ : 

অ্যালিসন বেকার, দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ডগলাস সান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, লুকাস পাকেতা, রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
 

এমনভাবে দৌড়াও যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন—নেইমারকে তার বাবা

ক্রীড়া ডেস্ক
এমনভাবে দৌড়াও যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন—নেইমারকে তার বাবা
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আজ মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে। ছবি : রয়টার্স

সুখবরটা অনেক আগেই পেয়েছে ব্রাজিল। এবার নেইমার জুনিয়রকে মাঠে নামার পালা। অপেক্ষার অবসান হচ্ছে এমন সংবাদে তাই ভীষণ খুশি ভক্ত-সমর্থকরা।

অন্যরা নেইমারকে এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকার বাবা চান বিশেষ কিছু করুক তার ছেলে। তাই সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছেন নেইমার সিনিয়র। তিনি বলেছেন, ‘তাহলে দৌড়াও, এবার দৌড়াও। আর এমনভাবে দৌড়াও যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন।’

ভিডিও বার্তায় আসলে নেইমারের ক্যারিয়ারই ফুটে তুলেছেন নেইমার সিনিয়র। ছেলের বিভিন্ন সময়ের ছবির সঙ্গে জীবন সংগ্রামে ঘুঁরে দাঁড়ানোর এক গান ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজানো হয়েছে। সেই ভিডিওতে নেইমার সিনিয়র বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত আসতে আমাদের সাহায্য করেছেন সৃষ্টিকর্তা। সময় এবার এসেছে। আমরা একসঙ্গে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করব। শুভকামনা ছেলে! শুভকামনা ব্রাজিল। ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করুন এবং রক্ষা করুন।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারকে যে পাওয়া যাচ্ছে সেটা নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, ‘সে প্রস্তুত। সে খুব ভালো অনুশীলন করেছে।’

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোয় যেতে হবে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোয় যেতে হবে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের
ব্রাজিল দলের অনুশীলনে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস। ছবি: এএফপি

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে জাপান, গ্রুপ রানার্সআপ হলে নেদারল্যান্ডস আর গ্রুপে তৃতীয় হলে জার্মানি—বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবেই ভয় দেখানো হচ্ছে। 

বিশ্বকাপে সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। তাই পরের রাউন্ডে প্রতিপক্ষ যেই হোক, ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই হতে চাইবে। ‘সি’ গ্রুপে কার্লো আনচেলত্তির দলের তিন প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। 

মরক্কোর সঙ্গে ড্র ও হাইতির বিপক্ষে জিতে এই মুহূর্তে গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। মায়ামিতে আগামীকাল ভোর ৪টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। একই সময়ে হাইতির মুখোমুখি হবে মরক্কো। যদি মরক্কো জিতে যায়, তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ব্রাজিলকে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। 

কিন্তু ব্রাজিল যদি গ্রুপে রানার্সআপ বা দ্বিতীয় হয়, তাহলে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় যেতে হবে। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ম্যাচটি খেলতে হবে মেক্সিকোর মন্তেররেই শহরে। 

শুধু কি তাই? বিশ্বকাপে নিজেদের বেস ক্যাম্প নিউ জার্সির কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিও ছাড়তে হবে ব্রাজিল দলকে। এরপর থেকে তারা আর স্থায়ী বেস ক্যাম্প পাবে না। এক শহর থেকে আরেক শহরে চষে বেড়াতে হবে। ফলে বেশ ভ্রমণ ধক্কি পোহাতে হবে। 

কিন্তু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ব্রাজিলের ভ্রমণ অনেক কম হবে এবং বিশ্বকাপজুড়ে তারা নিউ জার্সির ক্যাম্পেই থাকতে পারবে। টেক্সাসের হিউস্টনে তারা রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ জিতলে রাউন্ড অব ১৬-এর ভেন্যু হিসেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামকেই পাবে, যে মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। 

কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে ব্রাজিল দল গোপনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি আরামদায়ক পরিবেশ ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (সিবিএফ) চায় নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা নিউ জার্সিতেই থাকুক। শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে পারলে ভ্রমণ ধক্কি যেমন কমবে, তেমন সুযোগ-সুবিধাও একই রকম থাকবে।

বিশ্বকাপ আলোচনায় গোল্ডেন বুটের লড়াই

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ আলোচনায় গোল্ডেন বুটের লড়াই

চলমান বিশ্বকাপে ছোট ছোট দলগুলো চমক দেখিয়ে যাচ্ছে। এতে জমজমাট করে তুলেছে এই বৈশ্বিক আসরটিকে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের বিষয়। মহাতারকা ও তারকা ফরোয়ার্ডরা শুরু থেকেই দুর্দান্ত গতিতে গোল করে চলেছেন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচে পাঁচ গোল যোগ করে তিনি এখন ছয়টি বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোলের মালিক।

তারই পেছনে আছেন আরেক ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। যাদের দুজনেরই গোলসংখ্যা চার। এ ছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও হ্যারি কেইন ২ গোল করে রয়েছেন প্রতিযোগিতায়।

১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে ১৩ গোল রেকর্ড গড়েছিলেন। সেটিও এবার হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোল করেছিলেন। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে মাত্র তিনটি আসর বাদে প্রতিটি বিশ্বকাপেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছয় বা তার কম গোল করেছেন।

কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল মহাতারকা আর্জেন্টাইন অধিানয়ক মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয়ে দুই গোলই এসেছে তার পা থেকে। ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এ পর্যন্ত করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে মেসির পা থেকে।

উদ্বোধনী ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের প্রতিভা ব্যাখ্যা করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো তাকে দেখে বিস্মিত হই, যদিও প্রতিদিনই তাকে দেখি। গত ২০ বছর ধরে সে-ই সেরা। প্রতিটি ম্যাচেই সে আবারও তা প্রমাণ করে।’

টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনার বিচারে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন এমবাপ্পে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। বর্তমানে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে মেসির সর্বোচ্চ গোলের থেকে ২ গোলে পিছিয়ে আছেন। 

ইরাকের বিরুদ্ধে দলের ৩-০ ব্যবধানে জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বলেন, ‘মেসিকে তাড়া করা তার মূল চিন্তা নয়।’

তিনি বলেন, ‘লিও সবসময় গোল করে এবং করতেই থাকবে। তাই সে কী করছে সেদিকে আমি তাকাচ্ছি না, আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

এমবাপ্পের সমান চার গোল নিয়ে আছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের হয়ে টানা ১২টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী স্ট্রাইকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোলের অসাধারণ মাইলফলকে পৌঁছেও নিজের প্রতিভাকে খুব সাধারণভাবেই দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুর মতো এটাও বলতে হয় আমি গোল করতে পারি এবং কিছুটা ভাগ্যবানও। আমি আসলে জানি না আমি কী করছি। ব্যাপারটা এমনই।’

জার্মানির ডেনিজ উনডাভ ও কানাডার জোনাথ ডেভিড তিনটি করে গোল করেছেন। আর দুই গোল করে এরপরই তালিকায় আছেন কেইন ও রোনালদো।

মঙ্গলবার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য আলো কেড়ে নেন রোনালদো। তিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন। 

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ১৪৫।

অন্যদিকে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন তৃতীয় ম্যাচে স্কোর করতে না পারায় দুই গোলেই আটকে আছেন। মঙ্গলবার ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে তিনি একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন।

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ | কালের কণ্ঠ