বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কক্ষপথে ফিরেছে ব্রাজিল। তবে মাঠের জয়ের চেয়েও সেলেসাও সমর্থকদের জন্য বড় সুখবর হয়ে এসেছে নেইমারের ফেরার গুঞ্জন। আগামী বুধবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরওয়ার্ড। ম্যাচ শেষে খোদ ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিই দিয়েছেন এমন সুসংবাদ।
বিস্তারিত আসছে...
‘নেইমার-এমবাপ্পের ঝামেলা মিটে গেছে’
স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফিরছেন নেইমার

নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখল বিশ্ব

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তুর্কি খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলছিলেন প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। এতেই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ ওঠে, মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেফারি ভিএআরে এই দৃশ্য দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে প্যারাগুয়েকে। এক গোলের লিড ধরে রাখতে এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে তুরস্ক।
দ্রুততম গোলের পর লাল কার্ড, নাটকীয় প্রথমার্ধে এগিয়ে প্যারাগুয়ে

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত সূচনা করেছে প্যারাগুয়ে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা।
ম্যাচের শুরুতেই তুরস্কের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নিচু শটে বল জালে জড়ান গালারজা। তার এই গোলটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের সবচেয়ে দ্রুত গোল হিসেবেও রেকর্ড গড়ে।
প্রথম গোল হজমের পর তুরস্ক বলের দখলে আধিপত্য দেখায়। ম্যাচের ৪৩ মিনিট পর্যন্ত তাদের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে সেই আধিপত্যকে গোলের সুযোগে রূপ দিতে পারেনি তারা। আর্দা গুলার, হাকান চালহানওগ্লু ও কেনান ইলদিজরা একাধিক আক্রমণ গড়লেও প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৩৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল তুরস্ক। হাকান চালহানওগ্লুর ফ্রি-কিক থেকে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের দলটি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মের্ত মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে প্যারাগুয়েকে। এক গোলের লিড ধরে রাখতে এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে তুরস্ক।
প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেছে প্যারাগুয়ে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে লিড ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।
ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় স্কটল্যান্ড

মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পরও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা ছাড়ছে না স্কটল্যান্ড। দলের অধিনায়ক জন ম্যাকগিন বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল এনে ইতিহাস গড়তে পারে তার দল।
শনিবার বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ফলে দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে চার, আর স্কটল্যান্ডের তিন। এদিকে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলেন পয়েন্টও চার।
প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল স্টিভ ক্লার্কের দল। তবে মরক্কোর কাছে হেরে এখন নকআউট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ভালো ফলের বিকল্প নেই।
ম্যাচ শেষে ম্যাকগিন বলেন, ‘আজ আমরা দেখিয়েছি বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। ব্রাজিল ভিন্ন ধরনের দল, তাদের খেলার ধরন আলাদা, কিন্তু তারা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। আমাদের সেরাটা দিতে হবে।’
মরক্কোর বিপক্ষে গোল হজম করেও লড়াই চালিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কোর বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত চাপ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাকগিন বলেন, ‘আমরা হয়তো সবসময় শীর্ষ দলগুলোর মতো মানসম্পন্ন নই, কিন্তু আমাদের লড়াই করার মানসিকতা এবং চরিত্র আছে। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না।’
বিশ্বকাপে এটি স্কটল্যান্ডের নবম অংশগ্রহণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বড় টুর্নামেন্টেই তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি।
কোচ স্টিভ ক্লার্কও আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘এই দলটি বছরের পর বছর ধরে নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছে। ছেলেরা হতাশ, কিন্তু আমাদের সামনে এখনো একটি সুযোগ আছে। আমরা এমন কিছু করতে চাই, যা কোনো স্কটিশ দল আগে করতে পারেনি।’
আগামী বৃহস্পতিবার মায়ামিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় বা ইতিবাচক ফল পেলেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে স্কটিশরা।

