• ই-পেপার

তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে ফিফটি বিজয়ের

‘মেসিই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘মেসিই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ প্রস্তুতি সারছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

প্রমাণের কিছু নেই লিওনেল মেসির। সে সব অনেক আগে দিয়েছেন। মুগ্ধতা ছড়িয়ে এখন শুধু নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সময়। সে কাজটা ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নেও এসে করছেন তিনি।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে সেই সুবাস ছড়িয়েছেন মেসি। যা দেখার পর ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও বলেছেন, ‘আর লুকানোর কিছু নেই। এবার পুরো বিশ্বের সময় এসেছে মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে মেনে নেওয়ার।’

ভবিষ্যতে যার হাতে ফুটবলের ব্যাটন থাকবে সেই লামিনে ইয়ামালও মনে করেন মেসিই সর্বকালের সেরা। স্প্যানিশ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেন উইঙ্গার বলেছেন, ‘মেসির হ্যাটট্রিক? প্রতিটি ম্যাচই প্রমাণ করে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। এরপরেও কারো মনে সংশয় থাকে তাহলে বুঝতে হবে ইচ্ছে করেই তারা খুঁত খুঁজছে। এর বেশি কিছু বলার নেই। আমার আদর্শ নেইমার, কিন্তু মেসিই সেরা।’

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আলজেরিয়াকে হারিয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। সবকটি গোলই করেছেন মেসি। এতে করে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক না পাওয়ার অপূর্ণতাও ঘুচেছে কাতার বিশ্বকাপে আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করা আর্জেন্টিনা অধিনায়কের।

বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স রোনালদোর, সমালোচনায় ফ্রান্স কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স রোনালদোর, সমালোচনায় ফ্রান্স কিংবদন্তি

বিশ্বকাপে নবাগত দল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করে পর্তুগাল। আফ্রিকার ছোট দেশের সঙ্গে জিততে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দলের এমন হতাশাজনকভাবে শুরুতে সব অভিযোগের আঙুল সিআর সেভেনের দিকেই। 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নেমে রেকর্ড গড়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। খেলেন পুরো ৯০ মিনিট। কিন্তু তাতে ম্যাচের ভাগ্য বদলায়নি। 

ফক্স স্পোর্টসের ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে ফরাসি কিংবদন্তি অঁরি বলেছেন, পর্তুগিজ অধিনায়ক দলের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত গোল করার ইচ্ছাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

স্পষ্ট ভাষায় অঁরি বলেন, ‌‘সবার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা, দয়া করে মনে রাখুন; দলের গোল করা দরকার, আপনার একার নয়।’

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও যখন বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তখন রোনালদোর উচিত ছিল ব্যাক-পোস্টে গিয়ে ডিফেন্ডারদের টেনে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি নিজে গোল করার তাড়নায় সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেসের পজিশনে চলে আসেন এবং তার খেলার জায়গা নষ্ট করেন বলে যোগ করেন এই ফরাসি কিংবদন্তি।

অঁরি আরো বলেন, ‘রোনালদো সেই বলটি কেড়ে নিয়ে শট নিলেও তা পোস্টের অনেক বাইরে চলে যায়, যা মাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেসকেও দৃশ্যত হতাশ করে তোলে দলের খেলায়।’ 

অঁরির মতে, রোনালদো বিল্ড-আপ প্লে-তে অবদান রাখতে পারছেন না এবং ডি-বক্সের বাইরে তার প্রভাব একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে, যা পর্তুগালের আক্রমণভাগের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে।

হেনরিকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিড পেল কিউইরা

ক্রীড়া ডেস্ক
হেনরিকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিড পেল কিউইরা

প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে শোচনীয়ভাবে হারে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের পর পেসার ম্যাট হেনরি দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১০০ রানের লিড নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। 

ওভালের নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৩৯১ রানের জবাবে খেলতে নেমে ম্যাচের তৃতীয় দিন লাঞ্চের ঠিক আগে ২৯১ রানে  অলআউট হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয় হেনরি। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন হেনরি।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় দিন সকালে জর্ডান কক্স ও জোফ্রা আর্চারকে দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ধসিয়ে দেন হেনরি।

ইংল্যান্ড একপর্যায়ে ২৩৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে। দশম উইকেট জুটিতে ম্যাথু ফিশার এবং সনি বেকার দলীয় স্কোরকে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ফিশার অভিষেক টেস্টেই অপরাজিত ৫০* রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন।

এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে গ্লেন ফিলিপসের অনবদ্য শতকের ওপর ভর করে ৩৯১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিলের পর তৃতীয় নিউজিল্যান্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরির এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন ফিলিপস।

তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। 

অভিবাসীবিরোধী সহিংসতায় বিশ্বকাপে সমর্থক হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রীড়া ডেস্ক
অভিবাসীবিরোধী সহিংসতায় বিশ্বকাপে সমর্থক হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

চলমান অভিবাসী-বিরোধী সহিংসতা ও জাতিগত বিদ্বেষে জেরে বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থন হারিয়েছে দক্ষিণ আফিকা। সাধারণত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে আফ্রিকার দেশগুলো একে অপরকে সমর্থন করলেও, এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। অভিবাসীর ওপর সহিংস আচরণ ও জাতিগত বিদ্বেষের ক্ষোভে আফ্রিকার দেশগুলো তাদের প্রতিপক্ষ দলগুলোকে সমর্থন জোগাচ্ছে।

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একটি বারে বেশ কয়েকজন ফুটবলভক্ত বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছেন। সেখানে আফ্রিকার প্রতিপক্ষ দলকে সমর্থন জানিয়ে উল্লাস করছেন তারা। যা দেশটিতে সাম্প্রতিক বিদেশিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক সহিংসতার বিরুদ্ধে সৃষ্ট ক্ষোভের প্রতিফলিত হিসেবে দেখছে সবাই।

গেল বৃহস্পতিবার রাতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা দল যখনই কোনো সুযোগ হাতছাড়া করছিল, তখনই উল্লাসে মেতে উঠছিলে ৩৭ বছর বয়সী কেনীয় নারী শাহিম। এ সময় শাহিম বলেন, ‘ফুটবলে সবকিছুই রাজনৈতিক। দক্ষিণ আফ্রিকা যা সমর্থন করছে, আমরা তার বিরুদ্ধে।’

আমরা চাই (দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ) তাদের দেশে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে... কিন্তু কিছুই হয় না’ বলেন যোগ করেন তিনি।

অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে। কিন্তু বিক্ষোভে উপস্থিতি তেমন না হলেও অনলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা বিদেশি গণমাধ্যমের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মোসেল বে শহরে দুজন হতাহতের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার আশঙ্কায় নাইজেরিয়া, ঘানা, জিম্বাবুয়ে এবং মালাউই ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তাদের কয়েক শ নাগরিককে নিজ দেশে সরিয়ে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষও প্রায় ২ হাজার ৭৪৫ জন বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে।

ফুটবলাররা মাঠের বাইরে এই রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম ট্রল ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামস স্বীকার করেছেন, এই পরিস্থিতি অন্য দেশের অভিবাসীরা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।

তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে ফিফটি বিজয়ের | কালের কণ্ঠ