• ই-পেপার

৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে?

রাত গভীর হলেই কেন ভিড় করে নানা চিন্তা?

জীবনযাপন ডেস্ক
রাত গভীর হলেই কেন ভিড় করে নানা চিন্তা?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

দিনভর ব্যস্ততার কারণে অনেক বিষয় নিয়ে ভাবার সময় হয় না। কিন্তু রাত গভীর হলে, বিশেষ করে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে, হঠাৎ করেই নানা চিন্তা মাথায় আসতে শুরু করে। কাজের চাপ, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, পারিবারিক বিষয় কিংবা দিনের অসমাপ্ত কাজ—সবকিছু যেন একসঙ্গে মনে পড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের পরিবর্তন।

মাঝরাতে ঘুম ভাঙে কেন?

ঘুম একটানা একই রকম থাকে না। রাতের প্রথম অংশে গভীর ঘুম বেশি হলেও ভোরের দিকে ঘুম হালকা হয়ে আসে। এ সময় স্বপ্ন দেখার পর্যায়ও বেশি থাকে। ফলে সামান্য শব্দ, আলো বা অস্বস্তিতেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

কেন আসে নানা চিন্তা?

রাতের বেলায় চারপাশ অনেকটাই শান্ত থাকে। দিনের মতো তখন আর কাজ, কথা বা অন্য কোনো ব্যস্ততা থাকে না। ফলে মস্তিষ্ক ভেতরের নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে অসমাপ্ত কাজ, আগামী দিনের পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত নানা বিষয় সহজেই মনে চলে আসতে পারে। অনেক সময় দিনের বেলায় তেমন গুরুত্ব না পাওয়া বিষয়ও রাতে বেশি মনে হতে পারে।

হরমোনেরও আছে ভূমিকা

ভোরের আগে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। এটি শরীরকে জেগে ওঠার জন্য প্রস্তুত করে। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

যেসব কারণে সমস্যা বাড়তে পারে

  • ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার
  • দেরিতে খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত চা বা কফি পান
  • অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস
  • মানসিক চাপ ও ক্লান্তি

কী করবেন?

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান।
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
  • রাতে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে বারবার ঘড়ি বা ফোন দেখবেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত এমন হলে এবং ঘুমে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বেকিং ছাড়াই ইতালিয়ান ডেজার্ট ‘তিরামিসু’ বানানোর সহজ রেসিপি

জীবনযাপন ডেস্ক
বেকিং ছাড়াই ইতালিয়ান ডেজার্ট ‘তিরামিসু’ বানানোর সহজ রেসিপি
সংগৃহীত ছবি

মিষ্টিমুখ ছাড়া বাঙালির আড্ডা বা উৎসব যেন জমেই না। তবে রসগোল্লা বা সন্দেশের চেনা স্বাদ থেকে বেরিয়ে এবার যদি টেবিল সাজাতে চান বিদেশি কোনো রাজকীয় স্বাদে, তবে সেরা পছন্দ হতে পারে ইতালির বিখ্যাত ডেজার্ট ‘তিরামিসু’। ওভেন বা বেকিংয়ের কোনো ঝামেলা ছাড়াই কফি আর ক্রিমের যুগলবন্দীতে তৈরি এই ঠাণ্ডা ডেজার্টটি ছোট-বড় সবার মন জয় করে নেবে নিমেষেই। চলুন, জেনে নিই এর রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
ডিম ৪টি (কুসুম ও সাদা অংশ আলাদা করা),
চিনি ১ কাপ,
তরল দুধ আধা কাপ,
হুইপিং ক্রিম ১ কাপ ও ক্রিম চিজ ১ প্যাকেট,
কফি আধা চা চামচ এবং লেডি ফিঙ্গার বিস্কুট ৮ থেকে ১০টি,
ভ্যানিলা এসেন্স কয়েক ফোঁটা ও ডেকোরেশনের জন্য কোকো পাউডার।

প্রস্তুত প্রণালী
একটি পাত্রে পানি গরম করে তার ওপর ডিমের কুসুমের বাটিটি রাখুন (সরাসরি চুলায় দেওয়া যাবে না)। এবার কুসুমের সাথে চিনি ও দুধ মিশিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন ও মসৃণ হলে নামিয়ে নিন। বাটি গরম থাকায় নামানোর পরও কিছুক্ষণ নাড়ুন, যাতে ডিম জমাট বেঁধে না যায়। এরপর এটি ঢেকে ঠাণ্ডা হতে দিন।

হুইপিং ক্রিম যে বাটিতে নিবেন সেটি আধাঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিলে ক্রিম খুব ভালো জমে। ঠাণ্ডা বাটিতে ক্রিমটুকু ভালো করে বিট করে নিন। এবার আগে থেকে তৈরি করে রাখা কুসুমের মিশ্রণে ক্রিম চিজ ও ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

এবার বিট করা হুইপিং ক্রিমটুকু অল্প অল্প করে চিজ ও কুসুমের মিশ্রণের সাথে আলতো হাতে মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন, এই ধাপে কোনো বিটার বা হ্যান্ড হুইস্ক ব্যবহার করা যাবে না; চামচ দিয়ে আলতো করে মেলাতে হবে যেন ক্রিমের ফোমি ভাবটা নষ্ট না হয়।

দুইটি কাপ গরম জলে কফি গুলে ঠাণ্ডা করে নিন। এবার যে পাত্রে তিরামিসু জমতে দেবেন, সেখানে লেডি ফিঙ্গার বিস্কুটগুলো কফি পানিতে মাত্র ২-৩ সেকেন্ড ডুবিয়ে পাত্রে বিছিয়ে দিন। বিস্কুটের এই স্তরের ওপর ক্রিমের মিশ্রণটি ঢেলে সমান করে দিন। এভাবে বিস্কুট ও ক্রিমের আরো একটি লেয়ার তৈরি করুন।

পাত্রটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে অন্তত ৮ ঘণ্টার জন্য নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করার পর ওপর থেকে ছাঁকনি দিয়ে হালকা করে কোকো পাউডার ছিটিয়ে দিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল রেস্টুরেন্ট স্টাইলের তিরামিসু। এবার কেটে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন।

প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার
সংগৃহীত ছবি

একটি ছোট শুকনো ফুলের কুঁড়ি ‘লবঙ্গ’। এই কুঁড়ি শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, এতে রয়েছে বহু স্বাস্থ্যগুণও। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লবঙ্গ ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকের প্রতিদিন এক থেকে দুইটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ খেলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হতে পারে।

কেন প্রতিদিন লবঙ্গ চিবানো সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে তা নিয়ে কন্টিনেন্টাল হসপিটাল এই প্রতিবেদন করেছে।

llll

লবঙ্গ কী?

লবঙ্গ আসে লবঙ্গ গাছের শুকনো ফুলের কুঁড়ি থেকে। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং ইউজেনলের মতো প্রাকৃতিক যৌগ। এসব উপাদানই লবঙ্গের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য দায়ী।

যত পুষ্টিগুণ 

লবঙ্গ একটি ছোট শুকনো ফুলের কুঁড়ি হলেও শক্তিশালী পুষ্টিগুণে ভরপুর। ভারতীয় উপমহাদেশে নানা পদের রান্না ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় এর নিরাময়কারী গুণের জন্য লবঙ্গ ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না, ভেষজ চিকিৎসা, দাঁতের যত্ন এবং হজমজনিত সমস্যার চিকিৎসায় লবঙ্গ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবু সরাসরি লবঙ্গ চিবানো এর প্রাকৃতিক গুণাগুণ গ্রহণের সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।

পুষ্টিগুণগুলো হলো—অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, খাদ্য আঁশ (ফাইবার), ম্যাঙ্গানিজ।


প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে যত উপকার মেলে

লবঙ্গ প্রতিদিন এক বা দুটো চিবিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকার বয়ে আনে। এতে প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। এই সমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদানের কারণে লবঙ্গের উপকারিতা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

  • হজমে সহায়ক

লবঙ্গের অন্যতম পরিচিত উপকারিতা হলো হজমে সহায়তা করা। লবঙ্গ চিবালে হজমকারী এনজাইমের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজম কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার পর যদি প্রায়ই পেটে ভারীভাব অনুভূত হয়, তাহলে লবঙ্গ পাকস্থলীর কার্যক্রম উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। এর প্রাকৃতিক উপাদানগুলো খাবার হজম সহজ করে এবং পুষ্টি শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে।

  • মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায়

দাঁতের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার নতুন নয়। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল নামের উপাদানে রয়েছে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য। এটি মুখের দুর্গন্ধ কমতে পারে, মাড়ির সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে, দাঁতের ব্যথা উপশমে সহায়তা করতে পারে, মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমাতে পারে।

লবঙ্গের এসব উপকারিতার কারণে অনেক টুথপেস্টে ও মাউথওয়াশেও লবঙ্গের নির্যাস ব্যবহার করে।

  • রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

লবঙ্গে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই ফ্রি র্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে।

তাই নিয়মিত লবঙ্গ চিবালে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে এবং শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।

  • প্রদাহ কমাতে ভূমিকা

শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। লবঙ্গে থাকা প্রদাহনাশক উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

যাদের জয়েন্টে হালকা ব্যথা রয়েছে, তারা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লবঙ্গ যোগ করে উপকার পেতে পারেন।

  • ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী

লবঙ্গ ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ডায়াবেটিস বিশেষ করে প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

তবে লবঙ্গ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

rrrr

  • শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়

ঠাণ্ডা-কাশি বা গলায় খুসখুসে ভাব হলে অনেকেই লবঙ্গ মুখে রাখেন। লবঙ্গে উষ্ণ ও সুগন্ধি উপাদান রয়েছে। ফলে কাশি ও গলার অস্বস্তি দূর করতে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় লবঙ্গ বহুল ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ চিবালে—গলার অস্বস্তি কমতে পারে, কাশি উপশমে সাহায্য করতে পারে, হালকা নাক বন্ধভাব বা কফজনিত অস্বস্তি কমাতে পারে, লবঙ্গের প্রাকৃতিক উপাদান শ্বাসতন্ত্রে আরামদায়ক উষ্ণ অনুভূতি সৃষ্টি করে।

  • লিভার সুস্থ রাখে

লিভার বা যকৃত শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে থাকা কিছু যৌগ যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ গ্রহণ যকৃতের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস

মসলা জাতীয় উপাদানের মধ্যে লবঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ অন্যতম বেশি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

দিনে কয়টা লবঙ্গ যথেষ্ট?

অনেকেই প্রশ্ন, দিনে কতগুলো লবঙ্গ চিবানো উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২টি লবঙ্গ চিবানো যথেষ্ট।
 
তবে অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, পেটের অস্বস্তি কিংবা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যাদের বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের নিয়মিত লবঙ্গ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যখন চিবালে বেশি উপকার

লবঙ্গ কিভাবে চিবিয়ে এবং কখন চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে তা অনেকেই জানেন না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের বেশি উপকার পেতে খাবারের পর ধীরে ধীরে চিবাতে হবে। এতে হজম ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

লবঙ্গের মতো প্রাকৃতিক উপাদান স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। যেহেতু এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। যদি নিচের সমস্যাগুলো থাকে-

দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা

তীব্র দাঁতের ব্যথা

দীর্ঘস্থায়ী কাশি

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া

নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস

এসব স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

0o0o

সতর্কতা জরুরি

মনে রাখতে হবে, লবঙ্গ কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়; এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে।

নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার আগে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

ডিমের কুসুম নাকি সাদা অংশ, কোনটি খাওয়া ভালো?

জীবনযাপন ডেস্ক
ডিমের কুসুম নাকি সাদা অংশ, কোনটি খাওয়া ভালো?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

সকালের নাশতায় ওমলেট, সেদ্ধ ডিম কিংবা বিকেলের নাস্তায় ডিমের পোচ—বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডিম আমাদের সেভিওর। কম খরচে এত ভালো প্রোটিনের উৎস আর দ্বিতীয়টি নেই।

বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, জিমে যান বা ডায়েট করছেন, তাদের অনেকেই কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, না জেনে হুজুগে পড়ে কুসুম বাদ দেওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার জন্য কোনটি বেশি উপকারী।

ডিমের সাদা অংশের গুণ

  • চর্বিহীন প্রোটিন : ডিমের সাদা অংশে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না।

  • কম ক্যালরি : একটি ডিমের সাদা অংশে মাত্র ১৭ থেকে ১৮ ক্যালরি থাকে এবং প্রোটিন থাকে প্রায় ৩.৬ গ্রাম।

  • কারা খাবেন : যারা ওজন কমাতে চান কিংবা যাদের ডাক্তার কোলেস্টেরল, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগের কারণে কুসুম খেতে নিষেধ করেছেন, তারা শুধু সাদা অংশ খাবেন।

lll
ডিম কী ভাবে খেলে ভালো?

ডিমের কুসুমের গুণ

  • পুষ্টির ভাণ্ডার : ডিমের আসল পুষ্টি থাকে কুসুমেই। এতে ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো দরকারি উপাদান থাকে, যা চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো।

  • বেশি প্রোটিন : শুধু সাদা অংশ খাওয়ার চেয়ে গোটা ডিম খেলে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। একটা গোটা ডিমে প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

  • কারা খাবেন : আপনার যদি বড় কোনো রোগ বা ডাক্তারের নিষেধ না থাকে, তবে কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর সব পুষ্টি একসঙ্গে পায়।

সহজ একটি টিপস

যারা ব্যায়াম করেন বা বডি বিল্ডিং করছেন, তাদের শরীরে বেশি প্রোটিনের দরকার হয়। তারা চাইলে ১টি গোটা ডিমের সঙ্গে আরও ১-২টি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে ক্যালোরি ও চর্বি না বাড়িয়েই শরীরকে ভরপুর প্রোটিন দেওয়া সম্ভব।

মনে রাখবেন

সুস্থ মানুষের জন্য কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সেরা। আর ওজন কমাতে বা হার্টের অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধু সাদা অংশ খাওয়া ভালো।