• ই-পেপার

দক্ষিণী নাচে মাতোয়ারা বিপিএল

পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে একপেশে জয় ভারতের
উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থ মান্ধানার সঙ্গে দিপ্তীর (ডানে) উদযাপন। ছবি : ক্রিকইনফো

টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে দুই দলের হাত মেলানোই ক্রীড়াঙ্গনে অলিখিত এক নিয়ম। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উল্টোটা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষেত্রে এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে হাত না মেলানোই। ছেলের পর এবার মেয়েদের বেলাতেও তাই দেখা গেল।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একবারের জন্যও হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারই। সেই বির্তক কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও মাঠের লড়াই পারেনি। উল্টো একপেশে ম্যাচ জিতেছে ভারত। তাতে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন স্মৃতি মান্ধানা-হরমনপ্রীত কৌররা।

বার্মিংহামে ১৭১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। ‍উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান যোগ করেছিলেন দুই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত ১২ রানে ওপেনার গুল ফিরোজা আউট হতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। তাতে ১০৬ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আরেক ওপেনার মুনিবা আলী। 

পাকিস্তানকে বলা যায় একাই ধসিয়ে দিয়েছেন দিপ্তী শর্মা। ১০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পথে রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় অফস্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সর্বোচ্চ ১৬৬ উইকেট তার। আগের রেকর্ডটি ছিল থাইল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার থিপাচা পুত্থাওংয়ের, ১৬৫ উইকেট।

সঙ্গে ব্যাট হাতে ১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন দিপ্তী। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও জুটেছে তার কপালে। তবে ভারতের বড় সংগ্রহে অবদান রেখেছেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ওপেনিংয়ে নেমে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫৪.৫৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ ছক্কা ও ৯ চারে। বিপরীতে দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন হরমনপ্রীত (৩৬) ও রিচা ঘোষ (৩৪)। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানা।

নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন

অনলাইন ডেস্ক
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) ফাইনালে জয় পেয়েছে ‘নিউইয়র্ক নিকস’। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এ জয় পায় দলটি। এই ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের মিডটাউনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে দলটির হাজারো উন্মত্ত ভক্ত রাস্তায় নেমে উল্লাস শুরু করলে এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এসময় টাইমস স্কয়ারে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বকাপের দর্শক নামিয়ে দিয়ে ফেরা একটি বাসে।

১৯৭৩ সালের পর নিউইয়র্ক নিকস এমন অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও ফাইনাল জয় উদ্‌যাপনে পানশালা ও খোলা মাঠ থেকে হাজারো সমর্থক স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেককে আতশবাজি ও স্মোক বা ধোঁয়ার গ্রেনেড ফোটাতে দেখা যায়।

বাস্কেটবলপ্রেমীদের এই উন্মত্ত উল্লাসের মধ্যে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ শেষে দর্শকদের নামিয়ে দিয়ে ফেরা ১৫টি শাটল বাসের একটি বহর আটকা পড়ে। শত শত তরুণ বাসের ওপর উঠে পড়েন। কেউ কেউ চালকের আসনে গিয়ে বসেন।

একপর্যায়ে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের ভাড়া করা হলুদ রঙের স্কুলবাসগুলোর একটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সের এক সাংবাদিক বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন। এভাবে আরো তিনটি বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাসের ওপর উঠে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে আসা মরক্কো বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ইউসেফ সাব্বর (৪৯) বলেন, তাঁরা তাঁদের আনন্দ প্রকাশ করছেন। কিছুটা সহিংসভাবে হলেও পৃথিবীর সবখানে দল জিতলে এমনটা ঘটে।

নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাত ২টার দিকে টাইমস স্কয়ারে উল্লাসের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর আঘাতের কারণ জানা যায়নি।

পানশালা থেকে খেলা দেখে বের হওয়া রিয়েল এস্টেট এজেন্ট পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্যারল মারিনো বলেন, মনে হচ্ছে একসঙ্গে ২০টি থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ ও ঘোড়সওয়ার পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধৈর্য ধরার পর পুলিশের সদস্যরা লাঠি উঁচিয়ে সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে রাস্তা ফাঁকা করেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তাগুলো কর্ডন বা ঘিরে ফেলা হয়।

পুরো জীবন নিকসের সমর্থক হিসেবে পার করে দেওয়া নিউইয়র্কের দম্পতি ডিন ও ক্রিস্টিনা স্মিরোস বলেন, আমাদের জন্মের পর এই প্রথম দল এভাবে জিতল, আমরা ভীষণ খুশি।

এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও যথাক্রমে হিউস্টন রকেটস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে হেরেছিল নিউইয়র্ক নিকস।

বিশ্বকাপে আবারও ৭-১’র গল্প লিখল জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে আবারও ৭-১’র গল্প লিখল জার্মানি
ছবি : রয়টার্স

সব হিসেব যেন কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিল জার্মানি। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই হতাশা ভুলতে এবার বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেই কুরাসাওকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলল তারা।

তাতে হিউস্টনে ফিরে এলো বেলো হরিজেন্তের স্মৃতি। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল সেবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার বিশ্বকাপে শুরুতেই সমান ব্যবধানে জিতল জার্মানি। বিশাল ব্যবধানে জিতলেও বিশ্বকাপে জার্মানির বড় জয় ৮-০ ব্যবধানের। সেই জয় ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেয়েছিল তারা।

অভিষেক বিশ্বকাপে তাই ‘জার্মান পাঠ’ পেল কুরাসাও। নিজেদের ইতিহাসে বিশ্ব মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই ৭-১ ব্যবধানের বড় পরাজয় দেখল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশটি। দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশটির বিপক্ষে যেন ব্রাজিল ম্যাচের হাইলাইটস দেখাল জার্মানি।

রেফারির কিক অফের বাঁশি শেষ হতেই কুরাসাওয়ের ডি বক্সে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় জার্মানি। তার ফলও পায় হাতেনাতে। ম্যাচের ৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার এনমেচা। তাতে অবশ্য ভড়কে যায় না কুরাসাও। তার প্রমাণ ২১ মিনিটের সমতায় ফেরা। সমতায় ফেরানো গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান লিভানো কোমেনেনসিয়া। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন তিনি। যে রেকর্ড ভাঙতে পারবে না দলটির আর কেউই।

সমতায় ফিরে যেন ভুলই করে কুরাসাও। বিরতিতে যাওয়ার আগে যে তাদের জালে ২ গোল দিয়ে দেয় জার্মানি। ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো শ্লটারবেক। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ। পেনাল্টিটি আদায় করে নিয়েছিলেন প্রথম গোলের নায়ক ফেলিক্স এনমেচো। বিরতিতে যাওয়ার আগে তাকে নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করেন কুরাসাওয়ের এক ডিফেন্ডার।

কুরাসাওয়ের জালে শেষ পেরেকটাও মারেন হাভার্টজ। তাতে বিশ্বকাপে আবারও জার্মানির ৭-১’র গল্প ফিরে আসে। তার আগে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই গোলের খাতায় নাম লেখান জামাল মুসিয়ালা। ৪৭ মিনিটে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। অন্যদিকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বাকি দুই গোল করেন নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ। লেফটব্যাক ব্রাউনের ৬৮ মিনিটের বিপরীতে ৭৮ মিনিটে দলের সপ্তম গোল করেন উনদাভ।

কুরাসাওয়ের গোলে ইতিহাস, তবুও প্রথমার্ধে এগিয়ে জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
কুরাসাওয়ের গোলে ইতিহাস, তবুও প্রথমার্ধে এগিয়ে জার্মানি

বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেই ইতিহাস গড়েছিল কুরাসাও। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশটি এবার জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নেমে পেয়ে গেছে প্রথম গোলের দেখাও। তবে প্রথমার্ধ শেষে ৩-১ গোলে পিছিয়ে আছে তারা।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে মুহূর্তে পেনাল্টি পায় জার্মানি। জার্মানির মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন যোগ করা সময়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন জার্মানি ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।

এর আগে, মাত্র ২১ মিনিটেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখে কুরাসাও। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শট নেন রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেসিয়া। তার শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার।

আর সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসের জন্ম। এটি বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের প্রথম গোল, আর সেটিও এসেছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির বিপক্ষে।

তবে সমতায় থাকা মাত্র ১৭ মিনিট সহ্য করে জার্মানি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন জার্মানির ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২–১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি।

এর আগে ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে খেলার প্রথম গোল করেন জার্মান মিডফিল্ডার এনমেচা।

দক্ষিণী নাচে মাতোয়ারা বিপিএল | কালের কণ্ঠ