টুর্নামেন্টের নাম আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু বাংলাদেশ দল যেন ওয়ানডে খেলতে গিয়েছিল।
যদিও গ্রুপের অপেক্ষাকৃত সহজ দুই প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হলো না। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল।
ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে আজই প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে নতুন অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হলো না। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ১১৭ রান করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জবাবে ৪ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছান প্রোটিয়া মেয়েরা।
সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশাল ব্যবধানে হারাতে হতো। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের পরাজয় কামনা করতে হতো। কিন্তু শক্তিশালী প্রোটিয়াদের রান তাড়ার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ড হন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আরেক ওপেনার তাজ নেহার যেন টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। ১ রান করতে তিনি ‘গিলে ফেলেন’ ১২ বল।
এরপর সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার ৫৬ রানের জুটি গড়লেও তা টি-টোয়েন্টি দাবি মেটাতে পারেনি। পাঁচে নামা অধিনায়ক জ্যোতির ২০ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসটাই মূলত বাংলাদেশকে কিছুটা মার্জিত স্কোরে পৌঁছে দেয়।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের বলার মতো মুহূর্ত একটাই। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে প্রথম বলেই বোল্ড হন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা ভলভার্ট। তবে এরপর ৫২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন তাজমিন ব্রিটস ও আনেরি ডের্কসেন।
নাহিদা আক্তার এই দুজনকে ফেরালেও মারিজেন ক্যাপ ও নাদিন ডি ক্লার্কের ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামলে নেন। পরে চোল ট্রাইয়ন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
তবে গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচেরে চারটিতে জিতলেও সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। অস্ট্রেলিয়া ভারতকে হারাতে পারলেই কেবল শেষ চারে জায়গা করে নেবেন প্রোটিয়া মেয়েরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১১৭/৫ [মোস্তারি ৪২, জ্যোতি ৩২*, শারমিন ২২; এমলাবা ২/২২, ক্যাপ ১/৯)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৯.২ ওভারে ১১৮/৬ [ড্রেকসেন ৪৫, ব্রিটস ২০, ক্যাপ ১৬, ক্লার্ক ১৫; নাহিদা ২/২৪)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : মারিজেন ক্যাপ।




