• ই-পেপার

ইংল্যান্ডের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি, সবই বৃথা গেল: রমিজ রাজা

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

শেষ ষোলোর টিকিটের জন্য মাঠে লড়াইয়ে স্পেন-অস্ট্রিয়া। এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গিয়েছে মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে স্পেন। তবে অস্ট্রিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পোহাতে হয় তাদের।

গোলের খোজে থাকা স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া বল একবার জালে জড়ালেও গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল হয়েছে জানিয়ে বাঁশি বাজান রেফারি।

তবে ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় আবারও এগিয়ে আসেন কুকুরেয়া। তার বাড়ানো দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল।

অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগার ও গোলপোস্টের বাধায় আর গোল না হওয়ায় এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে গিয়েছে স্পেন।

জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণ তাহলে এই

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণ তাহলে এই
ছবি : রয়টার্স

মাঠের লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তো একটা ধাক্কা ছিলই, কিন্তু পর্দার আড়ালের যে সত্যটি এবার সামনে এল, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। ফুটবলীয় পরাশক্তি জার্মানির এমন ভরাডুবির পেছনে কাজ করেছে দলের ভেতরকার চরম আত্মবিশ্বাসের অভাব আর বড় মঞ্চে দায়িত্ব এড়ানোর মানসিকতা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারের লটারিতেই কপাল পোড়ে ডাই মানশাফটদের।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহ-এর একটি দর্শনীয় হেডার গোল ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির বেড়াজালে আটকে বাতিল হলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে প্রথম পাঁচটি করে শটে স্কোর ৩-৩ সমতায় থাকার পর শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী ‘সাডেন ডেথ’। আর এই সাডেন ডেথেই জার্মানির বর্তমান দলটির ভেতরে লুকিয়ে থাকা কঙ্কালটা বেরিয়ে পড়ে।

বিখ্যাত জার্মান গণমাধ্যম ‘বিল্ড’ এক প্রতিবেদনে ড্রেসিংরুমের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে। তাদের দাবি, টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচটি শট শেষে যখন সাডেন ডেথ শুরু হয়, তখন জার্মানির অন্তত চারজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার ষষ্ঠ শটটি নিতে সাফ অস্বীকৃতি জানান! চাপের মুখে বুক কাঁপতে থাকা সেই চার সতীর্থের অনীহার পর বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত সেই কঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ।

অথচ বিশ্বকাপের শুরুটা কী দুর্দান্তই না করেছিল জার্মানি! নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শক্তির জানান দিয়েছিল তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর থেকেই দলের ফাটলগুলো স্পষ্ট হতে থাকে। গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে নকআউটে পা রাখে নাগেলসম্যানের দল।

শেষ ৩২-এর মঞ্চে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে অতিরিক্ত সময়েও যখন সমাধান মেলেনি, তখন ভাগ্য নির্ধারণের ভার যায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে প্রথম ১০টি শটের পর দুই দলের স্কোর যখন ৩-৩, তখনই আসে সেই নাটকীয় মোড়। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে এগিয়ে আসেন তাহ। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম পেনাল্টি শট! আর এমন অতি-চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতার অভাবটাই কাল হলো; লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে বসেন তাহ। এরপর প্যারাগুয়ে নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়ে উল্লাসে মাতে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাহ মূলত স্পট কিকে এসেছিলেন বাধ্য হয়ে। তার আগে লিওন গোরেৎসকা, ভালডেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াওয়ের মতো চার তারকা পেনাল্টি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সাডেন ডেথের চরম মুহূর্তে তারা কেউই শট নেওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারেননি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে লিওন গোরেৎসকাকে নিয়ে। ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে স্বয়ং অধিনায়ক যশুয়া কিমিখ দুইবার পেনাল্টি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি এগিয়ে আসেননি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়া এই অভিজ্ঞ তারকার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ফুটবল মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়।

শেষ পর্যন্ত কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডে এবং জোনাথন তাহ—এই তিনজনের পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির। এই লজ্জার হারে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দুই পরিবর্তন নিয়ে নকআউট ম্যাচের একাদশ ঘোষণা স্পেনের

ক্রীড়া ডেস্ক
দুই পরিবর্তন নিয়ে নকআউট ম্যাচের একাদশ ঘোষণা স্পেনের
রয়টার্সের ছবি

উরুগুয়ের বিপক্ষে স্বস্তির জয়ের পর এবার নকআউট ম্যাচে একাদশে কিছুটা রদবদল আনলেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আজ রাতের ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্প্যানিশ একাদশে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

মিডফিল্ডে কৌশলগত কারণেই মিকেল মেরিনোর জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে। অন্যদিকে, ডানপ্রান্তের রক্ষণভাগ আরও নিশ্ছিদ্র করতে মার্কোস ইয়োরেন্তের বদলে লা ফুয়েন্তে ভরসা রেখেছেন পেদ্রো পোরোর ওপর।

এদিকে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র নিকো উইলিয়ামস। তার এই অনুপস্থিতিতে বাম উইংয়ের আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তরুণ তুর্কি আলেক্স বায়েনার ওপর। তবে স্প্যানিশ শিবিরের জন্য আজকের ম্যাচটি অন্যরকম এক মাইলফলকেরও। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক এমেরিক লাপোর্তে আজ মাঠে নামছেন জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম তথা ‘হাফ সেঞ্চুরি’র ম্যাচটি খেলতে।

স্পেনের একাদশ:

উনাই সিমোন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল। 

মেসিকেও ‘অপরাধী’র মতো তল্লাশি!

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকেও ‘অপরাধী’র মতো তল্লাশি!
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। কখনো ইরান দলকে দেশে ঢোকার অনুমতি না দেওয়া, কখনো আফ্রিকার ফুটবলারদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি, আবার কখনো খোদ ম্যাচ রেফারিকেই ভিসা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে আয়োজকরা। ফলে মার্কিনদের নিরপেক্ষতা ও আতিথেয়তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছিল শুরুতেই।

এবার সেই একই রকম এক বিব্রতকর ও বৈরী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং তাদের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে।

চলমান বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেরা নিজেদের বেসক্যাম্প বানিয়েছে কানসাসে। সেখান থেকেই মূলত প্রতিটি ম্যাচের ভেন্যুতে যাতায়াত করছেন স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলতে একদিন আগেই মায়ামিতে এসে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা দল। কিন্তু মায়ামি এয়ারপোর্টে পা রাখতেই আতিথেয়তার বদলে জোটে চরম অস্বস্তি। বিমানবন্দরে মেসিদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল এবং টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড।

মায়ামি বিমানবন্দরে মেসিদের বিমানটি অবতরণ করার পর পরই পুরো দলকে ঘিরে ধরেন মার্কিন নিরাপত্তা কর্মীরা। সাধারণ কোনো যাত্রী কিংবা অপরাধীদের যেভাবে তল্লাশি করা হয়, ঠিক তেমন কড়া মেজাজে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হয় ফুটবলারদের। বিমান থেকে নেমেই সরাসরি এই কঠোর সিকিউরিটি প্রটোকলের গ্যাঁড়াকলে পড়তে হয় পুরো দলকে।

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসির পুরো শরীর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করছেন এক নিরাপত্তা কর্মী। নিজের শরীর তল্লাশি শেষ হওয়ার পর পাশে সতীর্থদের ওপর চলা একই রকম কঠোর চেকিং দেখে এক চিলতে মুচকি হাসেন এলএম টেন। তবে এখানেই শেষ নয়; এরপর মেসির ব্যক্তিগত লাগেজ খুলে ভেতরেও তল্লাশি চালান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। অবশ্য এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও মেজাজ না হারিয়ে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মীদের সব রকম কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করে নিজের পেশাদারিত্ব ও বিনয়ের পরিচয় দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বসেরা ফুটবলারের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীর মতো—এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও কঠোর আচরণের এই ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবল সমর্থকরা।

খোদ আয়োজক দেশের মাটিতে ফুটবলারদের ওপর এমন অহেতুক কড়াকড়ি ও হয়রানি টুর্নামেন্টের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। এর আগে আফ্রিকা বা ইরানের দলগুলোর সঙ্গে যা করা হয়েছিল, এবার তার চেয়েও যেন এক কাঠি ওপরে গিয়ে খোদ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরও একই কাঠগড়ায় দাঁড় করাল যুক্তরাষ্ট্র।

ইংল্যান্ডের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি, সবই বৃথা গেল: রমিজ রাজা | কালের কণ্ঠ