স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে টানা দুই জয়ে দল ছন্দে ফিরলেও সমর্থকদের এখনই অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর থেকে তার দল অনেক উন্নতি করেছে এবং এখন তারা দলগত ফুটবল খেলছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘এখন আমরা একটি দল হিসেবে খেলছি, সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমরা এখনো নিখুঁত নই। কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে, বিশেষ করে বল দখলে রেখে আরো দ্রুত খেলতে হবে। তবে প্রথম ম্যাচের তুলনায় দলের উন্নতিতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। নকআউট পর্বে দৃঢ় একটি দল হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নেইমারের মাঠে ফেরা। চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ৩৪ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে আশাবাদী আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘নেইমারের এই সুযোগটা প্রাপ্য ছিল। সুস্থ হয়ে ফিরতে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। অল্প সময় খেললেও ভালো খেলেছে। তার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য এই বিশ্বকাপে আমাদের অনেক সাহায্য করবে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে খেলতে কোনো ফুটবলারের আলাদা অনুপ্রেরণার দরকার হয় না। ৩৪ বছর বয়সেও নেইমারের মধ্যে একজন তরুণের মতোই আবেগ রয়েছে।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে টানা তৃতীয় ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও প্রশংসা করেন ব্রাজিল কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস দারুণ ফর্মে আছে এবং পুরো দল তাকে সহায়তা করছে। সে উইং কিংবা ভেতরের পজিশন—দুই জায়গাতেই সমান কার্যকর। তাকে এভাবে খেলতে দেখে আমি আনন্দিত। আমি কখনোই সন্দেহ করিনি যে সে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।’
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ ষোলোতে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেন।
তবে নকআউট নিশ্চিত হলেও বড় লক্ষ্য নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘কতদূর যেতে চাই, সেটা নিয়ে আমি কোনো লক্ষ্য ঠিক করিনি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু ভালো খেলা নয়, শিরোপা জেতা। একজন কোচকে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় দিয়েই মূল্যায়ন করা হয়।’
ব্রাজিলজুড়ে বাড়তে থাকা উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসিমুখে আনচেলত্তির সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘সবাই শান্ত থাকুন।’




