







বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে জিতিয়েছেন এই তারকা উইঙ্গার। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার দ্বিতীয় গোলটি এবং সেটিকে ঘিরে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে করা এক মজার বাজির গল্প।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেসের দারুণ এক ক্রস থেকে উড়ে গিয়ে হেডে বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। সাধারণত পা দিয়ে গোল করতেই বেশি অভ্যস্ত এই ব্রাজিলিয়ান তারকার হেডে গোল দেখে অবাক হন অনেকেই।
ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস জানান, এই গোলের পেছনে ছিল কোচ আনচেলত্তির সঙ্গে করা একটি বাজি।
তিনি বলেন, ‘আমি কার্লো আনচেলত্তিকে কথা দিয়েছিলাম, একদিন হেড দিয়ে গোল করব। তখন তিনি বলেছিলেন, এটা প্রায় অসম্ভব। তবে যদি আমি সেটা করতে পারি, তাহলে আমাকে একটি উপহার দেবেন। এখন আমি সেই উপহারের অপেক্ষায় আছি।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেছেন ভিনিসিয়ুস। পাশাপাশি রয়েছে একটি অ্যাসিস্টও। ফলে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের সবচেয়ে সফল পারফর্মার তিনিই।
এই গোলের মাধ্যমে আরো একটি বিশেষ কীর্তিও গড়েছেন ভিনিসিয়ুস। ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি।
নেইমার দীর্ঘদিন চোটে থাকার সময় থেকেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। নেইমার দলে ফিরলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের আক্রমণের নেতৃত্ব এখন মূলত তার কাঁধেই।

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। মাঠের পারফরম্যান্সে আবারও আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, করেছেন জোড়া গোল। তবে ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ানদের এই বড় জয় ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ভিএআরের মারপ্যাঁচে পড়ে হ্যাটট্রিকবঞ্চিত হয়েছেন ভিনি, যা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক তারকারা।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছিলেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির দ্বিধার সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন তিনি। এরপর ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। কিন্তু সেলেসাওদের সেই গোল উদযাপনের আনন্দ স্থায়ী হয়নি। পিচ সাইড মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি সিজার রামোস ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করে দেন।
তার দাবি, বল কেড়ে নেওয়ার সময় হেনড্রিকে বাধা দিয়েছিলেন ভিনি। রেফারির এই সিদ্ধান্তে ডাগআউটে থাকা ব্রাজিলের কোচ ও ফুটবলাররা তাৎক্ষণিক ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হলেও দমে যাননি ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের শুরুতে স্কট ম্যাককেনার ভুলে ৭ মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন তিনি। প্রথমার্ধের ঠিক আগে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। মাঝে ২২ মিনিটের গোলটি বাতিল না হলে প্রথমার্ধেই ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন ভিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ম্যাচে মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও সেলেসাওদের ম্যাচ নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সেই ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে রেফারি ছিলেন এই রামোস। সেদিন সুইজারল্যান্ডের সমতাসূচক গোলের আগে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, যা এড়িয়ে যান তিনি। এ ছাড়া ম্যাচের শেষভাগে পেনাল্টি বক্সে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ফাউলের শিকার হলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি এই মেক্সিকান।
সে সময় ম্যাচ শেষে ফিফার রেফারি কমিটির কাছে অফিশিয়ালি লিখিত অভিযোগও করেছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। বিশেষ করে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার না করার পেছনে রামোসের অনীহা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল তারা।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত ফর্মে এগিয়ে চলছে ব্রাজিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচেই গোল করে এমন এক কীর্তি গড়েছেন এই তারকা উইঙ্গার, যা ব্রাজিল সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস। এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে একটি এবং হাইতির বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন তিনি। ফলে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
আর এখানেই লুকিয়ে আছে ব্রাজিলের জন্য বড় এক ‘শুভসংকেত’।
এর আগে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছিলেন মাত্র চারজন ফুটবলার— জাইরজিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদো (২০০২)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই চারটি আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল ব্রাজিল।
২৪ বছর পর সেই তালিকায় নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফলে পরিসংখ্যান বলছে, এমন কীর্তি গড়া ফুটবলারদের হাত ধরেই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ের হাসি হেসেছে সেলেসাওরা।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের অবদান পাঁচ গোলে। করেছেন ৪টি গোল, সঙ্গে রয়েছে ১টি অ্যাসিস্ট। নকআউট পর্বের আগে এমন পারফরম্যান্সে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
তবে পরিসংখ্যান যতই ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলুক, শেষ পর্যন্ত সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে হলে ভিনিসিয়ুসদের একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে নকআউট পর্বেও। এখন দেখার বিষয়, অতীতের মতো এবারও কি এই রেকর্ড ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ শিরোপার পথে নিয়ে যেতে পারে।