kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইট মারার প্রশ্নই আসে না : সাব্বির রহমান

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ জুন, ২০২১ ১৫:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইট মারার প্রশ্নই আসে না : সাব্বির রহমান

বাংলাদেশের ক্রিকেটে 'ব্যাড বয়' খ্যাত সাব্বির রহমান বারবার ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও নিয়মিতভাবেই বিতর্কে জড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আরেক ক্রিকেটার ইলিয়াস সানিকে ইট মারা এবং গালি দেওয়ার অভিযোগ আসার পর তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। সাব্বির বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনাই তিনি ঘটাননি। মাঠের অনেকেই ছিল। তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত ঠিক কী ঘটেছিল। 

বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এবং ওল্ড ডিওএইচএসের মধ্যে একটি ম্যাচ হঠাৎ ৫-৭ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। দেখা যায়, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেটার ইলিয়াস সানি আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেন মাঠের বাইরে থেকে সাব্বির রহমান তাকে গালি দিচ্ছেন এবং ইট মারছেন। সাব্বির বলেন, 'ইট মারার প্রশ্নই আসে না এখানে। আমি ইট মারা বা গালিগালাজ দেওয়ার মতো কোনো কাজই করিনি।'

তবে ঘটনার পর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস বা সিসিডিএমের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছে। যেখানে নানা ধরনের অভিযোগ এসেছে সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে। সাব্বির এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে। শেখ জামালের সেই চিঠিতে লেখা হয় মাঠের বাইরে থেকেই সাব্বির ইট মারেন।

সাব্বির রহমান আরও বলেন, 'এখন মাঠের খেলায় মন দেওয়াই আমার একমাত্র কাজ। আমি অন্য কোনো দিকে চিন্তা করতে পারি না।' 

ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখনো ইট মারার ঘটনার কোনো প্রমাণ এখনো তারা পাননি। তবে বাদানুবাদ হয়েছে এটুকু নিশ্চিত। এখন সেই বাদানুবাদ কোন পর্যায়ে গড়িয়েছে সেটার ওপর নির্ধারিত হবে কে শাস্তি পাবেন এবং কতটুকু পাবেন।

শেখ জামালের চিঠিতে যা ছিল
ক্লাব কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা একটি চিঠিতে লেখা, 'জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াসকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের খেলোয়াড় জনাব সাব্বির রহমান রুম্মন মাঠের বাইরে। হতে বিনা কারণে উপর্যুপরি ইট ছুড়ে মারেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও উচ্চস্বরে বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করে।'

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ফিল্ডিং করছিলেন ইলিয়াস সানি। যেখানে সাব্বিরের লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের খেলা শুরু হওয়ায়র অপেক্ষা করছিলেন পাশের ৪ নম্বর মাঠে। নির্ধারিত সময়ের আগে সাব্বির খেলা দেখতে দাঁড়িয়ে যান ৩ নম্বর মাঠে শেখ জামাল ও ওল্ড ডিওএইএচএসের।

উল্লেখ্য, সাব্বিরকে নিয়ে এমন বিতর্ক নিয়মিতই ঘটে থাকে। মাঠের ক্রিকেট নয়, মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন একসময়ের এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এসব কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি একবার নিষিদ্ধও হন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতেও সাব্বির রহমানকে তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুরোধে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু তিন বছর ধরে সাব্বিরকে আর জাতীয় দলে বিবেচনায় আনা হয়নি।

সাব্বির বাংলাদেশের হয়ে দুটো ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেন। প্রথম বিশ্বকাপে সাব্বির কিছু ক্যামিও খেলেন কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপে সাব্বির রহমানের পারফরমেন্স ছিল হতাশাজনক। তারই পথ ধরে সাব্বির রহমান এখন জাতীয় দলের বাইরে তো বটেই, ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরা এখন তাকে আর বিবেচনাও করছেন না। একসময় যাকে 'টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট' হিসেবে ধরা হতো, সেই সাব্বির এখন পাড়ায় পাড়ায় 'খ্যাপ' খেলে আয় করেন।



সাতদিনের সেরা