• ই-পেপার

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

রোনালদো-রিভালদোর কীর্তি ছুঁলেন ভিনিসিয়ুস

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদো-রিভালদোর কীর্তি ছুঁলেন ভিনিসিয়ুস
স্কটল্যিান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস। ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদোর অনন্য কীর্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার বিরল নজির গড়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুইবার জালের দেখা পান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে একটি এবং হাইতির বিপক্ষে একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ফলে তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন ভিনিসিয়ুস।

এর মাধ্যমে ২৪ বছর পর ব্রাজিলের কোনো ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদো। সে আসরে ব্রাজিল পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল।

এর আগে ১৯৭০ বিশ্বকাপে জর্জিনহো এবং ১৯৯৪ সালে রোমারিওও গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল করেছিলেন। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের অবদান ৮টি গোলে। তিনি করেছেন ৫টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ৩টি গোল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চার ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ড এবার আরো পরিণত রূপে আলো ছড়াচ্ছেন।

নকআউট পর্বের আগে ভিনিসিয়ুসের এমন দুর্দান্ত ফর্ম ব্রাজিলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। ২০০২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে সেলেসাও, আর সেই স্বপ্নের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।

১৭ বছরেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকো মিডফিল্ডার

ক্রীড়া ডেস্ক
১৭ বছরেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকো মিডফিল্ডার
মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়ে তিনি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।

১৭ বছর ২৫৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ম্যাচে মেক্সিকোর হয়ে শুরুর একাদশে নামেন মোরা। ১৯৫৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর কোনো খেলোয়াড় এত কম বয়সে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।

শুধু মেক্সিকোই নয়, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবেও শুরুর একাদশে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ।

 

এর আগে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশের খেলোয়াড় ছিলেন নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমি। তিনি ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭ বছর ১০১ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে গিলবার্তো মোরাকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া মেক্সিকো দলের কোচিং স্টাফের আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সুযোগ তরুণ মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে।

নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে আসা মোরা এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও বড় কিছু করার অপেক্ষায়। বয়স মাত্র ১৭ হলেও ভবিষ্যতে মেক্সিকান ফুটবলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই।

রোমাঞ্চকর জয়ে নকআউটে মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
রোমাঞ্চকর জয়ে নকআউটে মরক্কো
মরক্কোর ম্যাচ জয়ের নায়কদ্বয় ইয়াসিন-রাহিমি (ডানে)। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ থেকে হাইতির বিদায় অনেক আগেই নিশ্চিত হয়েছে। সেদিক থেকে মরক্কোর বিপক্ষে তাই হারানোর আর কিছু ছিল না দলটির। বিপরীতে মরক্কোর সামনে সুযোগ ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।  

কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে ভিন্ন এক হাইতিকে দেখল মরক্কো। যেন মরণ কামড় দিতে নেমেছিল তারা। তবে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও পরে দুর্দান্ত কামব্যাক করে বড় জয়ই পেয়েছে মরক্কো। সঙ্গে ৪-২ গোলের জয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটও নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা দলটি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। সতীর্থর পাস থেকে দারুণ এক ব্যাকহিল ফ্লিক করেন লেনি জোসেপ। মরক্কোর ফরোয়ার্ডের ব্যাকহিলটি ইয়াসিন বুনুর শরীরে লেগে জালে জড়ায়। শুরুতে জোসেপের নামে গোলটি দিলেও পরে আত্মঘাতী হিসেবে বুনুর নামের পাশে জুড়েছে।

সেই গোল শোধ দেয় ৩৯ মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াসের শট লাফিয়ে হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে না পারলে গোললাইনে থাকা আশরাফ হাকিমি জালে জড়িয়ে দেন। সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য বেশি সময় উপভোগ করতে পারেনি তারা।

৪৩ মিনিটে যে আবার এগিয়ে যায়। গোলটিও ছিল দেখার মতো। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির এক শট নেন উইলসন ইসিডোর। এতটাই জোরাল ছিল যে গোলরক্ষক বুনু কিছু করার আগেই জালে জড়িয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে অবশ্য আবার সমতায় ফেরে মরক্কো। ইসমায়েল সাইবারির গোলটিও দৃষ্টিনন্দন ছিল। বক্সের মধ্যে থেকে দারুণ এক ফিনিশিং করেন তিনি। এতে ২-২ গোলের সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর অবশ্য আর রোমাঞ্চটা জিইয়ে রাখতে পারেনি হাইতি। শেষ দিকে মরক্কোর ১১ মিনিটের ঝড়ে গুঁড়িয়ে গেছে তারা। ৭৮ মিনিটে প্রথমবার মরক্কোকে লিড এনে দেন সুফিয়ান রাহিমি। আর ৮৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে শেষ পেরেক মারেন গেসিমে ইয়াসিন। তাতে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৪-২ গোলের হাসি হাসে মরক্কো। 

বড় জয় পেলেও ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি মরক্কোর। ব্রাজিলের মতো সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সেলেসাওরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় স্কটল্যান্ড।

ভিনি জাদুতে নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনি জাদুতে নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
জোড়া গোলের পর ভিনিসিয়ুসের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আলো ছড়ালেও পারছিলেন না ব্রাজিলের জার্সিতে। তাই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামের পাশে জুটে অপবাদ—যতটা না রিয়ালের তার থেকে বহুদূরে ব্রাজিলের।

সেই কালিমা লিপ্ত ভিনিতেই এবার বিশ্বকাপে উড়ছে ব্রাজিল। তিনি হাসলেই হাসছে ব্রাজিলও। মায়ামি স্টেডিয়ামেও আজ তাই হলো। তার জোড়া গোলে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল সেলেসাওরা। পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের হয়ে অন্য গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। এ জয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল। 

বিশ্বকাপে কতটা দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ভিনি তা একটা পরিসংখ্যান দিলে স্পষ্ট হবে। তিন ম্যাচে ৪ গোল করেছেন তিনি। টানা ৩ ম্যাচে গোল পাওয়া ভিনিই আবার সেলেসাওদের হয়ে আগের ৪৯ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৯ গোল।

দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনি তাই কি করে প্রথম গোলের এমন সুবর্ণ সুযোগটা মিস করতে পারেন তিনি। যখন মুখের সামনে খাবার এসে পড়ে। সুযোগটাও হাতছাড়া করলেন না তিনি। ম্যাচের ৭ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়ে সহজেই স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। অ্যাঙ্গাস গানের অবশ্য কিছু করারই ছিল না। 

করবেন কি করে? সতীর্থ স্কট ম্যাককেনা যে শিশুতোষ ভুল করে বসেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রায়ানের পায়ে মারেন। সেই বল ডি বক্সে আনমার্কড থাকা ভিনিসিয়ুস পান। তাতে সহজেই গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাসকে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এতে করে এবারের বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করলেন ভিনি। 

২২ মিনিট আরেকটি গোল করেছিলেন ভিনি। গোল করার পর কর্নারের ফ্ল্যাগ হাতে সাম্বা ড্যান্সে মাতলেন তিনি। কিন্তু নাচ শেষ করতেই শুনতে পেলেন বাতিল হতে পারে তার দ্বিতীয় গোলটি। ভিএআরে দেখার পর রেফারিও তাই করলেন। মনিটরে দেখে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলটি করলেন বাতিল। তাতে আনন্দটা মাটি হয়ে যায় তার। বল পাওয়ার আগে ভিনির পা সামনে থাকলে জ্যাক হেনড্রি ভারসাম্য হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। কিন্তু ভিএআরে সেটাকেই ফাউল ধরে। এ নিয়ে তাই বিতর্ক থেকেই গেল। 

বিরতিতে যাওয়ার আগে লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিনির পাস থেকে বলকে জালের পথ দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন ম্যাথিউস কুনহা। তার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে যাওয়ার আগে গোলরক্ষকের পায়ে লেগে বাইরে যায়।

যোগ করা সময়ে অবশ্য ঠিকই ২-০ লিড নিয়েছে। এবারের গোলের নায়কও ভিনি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের ক্রসে শুধু ফাঁকা জালে হেড নিতে হয়েছে ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে।

অন্যদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্য মিস করে বসেন রায়ান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। 

বিরতি শেষে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে ৪৮ মিনিটে নেওয়া স্কট ম্যাকটমিনির হেড সরাসরি গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের হাতে যায়। 

অন্যদিকে ৫১ মিনিটে হ্যাটট্রিকের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনি। তবে বলটা ঠিক মতো প্লেসমেন্ট করতে না পারায় পা দিয়ে সেভ দেন গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস। ৬০ মিনিটে অবশ্য তাকে ঠিকই পরাস্ত করলেন কুনহা। ব্রাজিলের তৃতীয় গোল করার পর তার ট্রেডমার্ক ড্যান্স দিলেন তিনি। সার্ফিংয়ের মতো করে।

৬৪ মিনিটে আরেকবার হতাশ হলেন ম্যাকটমিনি। এবার দারুণ এক হেড নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোললাইন অতিক্রম করার আগে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অবিশ্বাস্য সেভ দিলেন বেকার।

অন্যদিকে ৭৬ মিনিটে নেইমারের মাঠে নামার অপেক্ষা ফুরাল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর আজ প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন সুপারস্টার। সান্তোস ফরোয়ার্ড মাঠে নামতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো মায়ামি স্টেডিয়াম। 

৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করার আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনি। কিন্তু তার শটে বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস। আবার ৮১ মিনিটে জটলার মধ্যে থেকে পাটা ঠিক মতো লাগালেও পেতে পারতেন হ্যাটট্রিকটি।

বিপরীতে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু বেকার দেওয়াল টপকাতে পারেনি তারা। এতে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

আজকের জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট মরক্কোর হলেও তার গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে। বিপরীতে স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৩। অন্যদিকে কোনো পয়েন্টই পায়নি হাইতি।