• ই-পেপার

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৮০ জন

ছানিতেই দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অন্ধত্ব, অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছানিতেই দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অন্ধত্ব, অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী

দেশে অন্ধত্বের সবচেয়ে বড় কারণ এখনো ছানি। দেশে দ্বিপক্ষীয় (উভয় চোখের) অন্ধত্বের প্রায় ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশের জন্য দায়ী ছানি, যেখানে বিশ্বব্যাপী এ হার ৫১ শতাংশ। প্রতিবছর নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অন্ধত্ব-সৃষ্টিকারী ছানি রোগী যুক্ত হচ্ছে, আর বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রয়োজনের তুলনায় দেশে চক্ষু সার্জনের সংখ্যাও প্রায় চার গুণ কম।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক আলোচনাসভায় এসব তথ্য তুলে ধরে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পেশাদার সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)। বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এস এম মইন উদ্দিন।

মূল প্রবন্ধে ডা. মইন উদ্দিন জানান, দেশে বর্তমানে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যাকলগ প্রায় ১০ লাখ। প্রতি ৮৩৩ জন অপেক্ষমাণ রোগীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন যোগ্য সার্জন। দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন, যা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় চার গুণ কম।

তিনি আরো জানান, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশুর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হলেও এখনো শৈশবকালীন ছানির অস্ত্রোপচার পায়নি। একজন সার্জনের ওপর যদি এক হাজারের কাছাকাছি রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তাহলে জমে থাকা রোগীর চাপ কমানো সম্ভব নয়। প্রতিরোধযোগ্য এই অন্ধত্ব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ছানি এখনও বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন। তাই ছানি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৮০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসানির্ভর থাকায় রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে ঘাটতি রয়েছে। সরকার এখন চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, যাতে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করছে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বক্তারা ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা ছানির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। তাদের ভাষায়, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে অবহেলা নয়—চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো ছানি অপারেশনই অন্ধত্ব প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসসিআরএস জানায়, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে জুনজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি, বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা, চোখ পরীক্ষা ক্যাম্প এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে জাতীয় প্রচেষ্টা আরো জোরদার করাই তাদের লক্ষ্য।

হাম সন্দেহে আরো দুজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম সন্দেহে আরো দুজনের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭০ জন। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৭৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১৪ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৯৬৫ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪ হাজার ৬২৭ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮০ হাজার ৯৭৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত সন্দেহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৬২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বছরে ৯ হাজার নারী ক্যান্সার আক্রান্ত, অর্ধেকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বছরে ৯ হাজার নারী ক্যান্সার আক্রান্ত, অর্ধেকের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তাদের প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যু হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধে টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই এইচপিভি টিকার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা বলেন, এইচপিভি বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণগুলোর একটি। এই ভাইরাসটির ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। বিশেষ করে এইচপিভি-১৬ ও এইচপিভি-১৮ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী। এ ছাড়া এই ভাইরাস পায়ুপথ, মুখগহ্বর, যোনিপথ ও পুরুষাঙ্গের ক্যান্সারের সঙ্গেও জড়িত।

তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে উপকূলীয় এলাকায় এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকারের বর্তমান উদ্যোগের প্রশংসা করে ডা. আশরাফুন্নেছা বলেন, বর্তমানে স্কুলের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কমিউনিটির ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত কিশোরীকে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে ৬০১টি ভিআইএ (ভিজ্যুয়াল ইনস্পেকশন উইথ অ্যাসিটিক অ্যাসিড) কেন্দ্র এবং ৫২টি কল্পোস্কোপি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য এইচপিভি-সম্পর্কিত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে কাজ করা হবে।

বাংলাদেশ গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটির (জিওএসবি) সভাপতি অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে এখন সময় এসেছে ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েদের টিকার আওতায় আনার। পাশাপাশি ডিএনএভিত্তিক এইচপিভি পরীক্ষা এবং সেলফ-টেস্টিং পদ্ধতি চালু করাও এখন জরুরি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বর্তমানে নির্দিষ্ট বয়সী মেয়েদের টিকা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে—উভয়কেই টিকার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৯০-৭০-৯০ লক্ষ্য অর্জন করা গেলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী বলেন, ৯০-৭০-৯০ কৌশলের আওতায় ৯০ শতাংশ টিকাদান, ৭০ শতাংশ স্ক্রিনিং এবং ৯০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইইডিসিআর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তবে নীতিগত পরিকল্পনার চেয়ে মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়নকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএমইউর সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নীতিগত পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নত হলেও সেবার মান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গত দুই বছরে দেশে প্রায় ৪ হাজার এইচপিভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের বয়স কম এবং অনেকে অবিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা সঠিক সময়ে টিকাদান, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এইচপিভি প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গবেষণা, জনসচেতনতা এবং টিকাদান কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

৩ বছর পর বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে চালু হলো সিজারিয়ান অপারেশন

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৩ বছর পর বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে চালু হলো সিজারিয়ান অপারেশন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দরিয়াদৌলত গ্রামের সোমাইয়া আক্তার (২৫) একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এতে উপজেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে ৩১ শয্যার এ হাসপাতাল চালু হয়। পরে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০০ সালে এখানে প্রসূতি সেবা চালু হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে গত তিন বছর সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। তবে স্বাভাবিক প্রসব সেবা চালু ছিল।

গত সপ্তাহে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান এবং গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুস্মিতা সাহা যোগ দেন। তারাই সোমবার সফলভাবে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন।

বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা নাসির আহমেদ বলেন, “বাঞ্ছারামপুর জেলার একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। চারদিকে নদী থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় গর্ভবতী নারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাদের ঢাকা, নরসিংদী বা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো। এখন সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”

সমাজসেবী ফাতমা বেগম বলেন, “উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন হয়। সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেক রোগী দালালদের হয়রানিরও শিকার হতেন। সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট কমবে।”

প্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী সোমাইয়া আক্তার ও তার স্বজনরা জানান, কোনো টাকা ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। ওষুধের জন্যও আলাদা টাকা দিতে হয়নি। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আজ একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এ সেবা পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অপারেশনের সব ধরনের সরঞ্জাম থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। এখন থেকে নিয়মিত সিজারিয়ান ও স্বাভাবিক—দুই ধরনের প্রসব সেবা দেওয়া হবে। তবে রোগীকে এক দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এতে যেসব রোগীকে বাইরে যেতে হতো, তারা এখন এখানেই চিকিৎসা পাবেন।’