বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার মা ও শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় পর্যায়ের লার্নিং প্রচার অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পুষ্টি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন) এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি ‘দ্য চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেন্টস’-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক কনসোর্টিয়ামের অংশ, যা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, ভিটামিন অ্যাঞ্জেলস ও আইডিই-এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউএইচ উইং) শেখ মোমেনা মনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের জন্য কমিউনিটি পুষ্টিসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পুষ্টি তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।’
আরো পড়ুন
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক
এ ছাড়া তিনি দেশের পিছিয়ে থাকা ও প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পটির অবদানের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইপিএইচএনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলী দেশব্যাপী মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কমিউনিটি-ভিত্তিক তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা (সিএমএএম) এবং শিশু ও নবজাতকের খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত (আইওয়াইসিএফ) কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে টেকসই সহযোগিতার প্রয়োজনিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রকল্পটি দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে এবং মানসম্মত পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর পূজা পান্ডে রানা বলেন, ‘প্রকল্পটি স্থানীয় অংশীদার সিএনআরএস ও এফআইভিডিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পুষ্টি-নির্দিষ্ট এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল উভয় ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তীব্র অপুষ্টি ইউনিটগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্তন্যপান করানোর কর্নার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মা ও ছোট শিশুদের জন্য আরো কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্জিত অগ্রগতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের কাছে পৌঁছাতে এবং অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশব্যাপী পুষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের অর্জিত শিক্ষা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা আরো উন্নত করতে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এসব উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজনিয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বর্তমানে সুনামগঞ্জ, বরিশাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাস্তবায়নাধীন ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পটি দেখিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য একটি সুস্থ সূচনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।