• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে হাজারো বাংলাদেশি

প্যারিসে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ফ্রান্স সফর উপলক্ষে ফ্রান্স বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক আগ্রহের পরও নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি না হওয়ায় প্রবাসী মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। আয়োজকরা এর জন্য মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি ও তীব্র দাবদাহকে দায়ী করলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা ও প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিএনপির নেতাকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগেই এটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফ্রান্স বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি এবং ফ্রান্সজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা তৈরি হয়। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ অনৈক্য এবং নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতেই শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে বলে তাদের অভিমত।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের বলেন, আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অনুষ্ঠানটি নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত সরকারি কর্মসূচি এবং চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সফরকালে মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত হোটেলের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন মন্ত্রীর আগমন স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অতিরিক্ত ভিড় করাটা হয়ত সমীচীন ছিল না।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব আলম রাঙ্গা বলেন, অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে নেওয়া হয়েছে। হল বুকিং, অতিথি আমন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর সফরকালে বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিষয় এবং বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন বা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠানটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, এমন একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সাধারণ প্রবাসীদের কাছে সংগঠনের ভাবমূর্তিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোন কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করার সুযোগ কেবল তাঁরই রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সফর এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হই। সেখানে মন্ত্রী মহোদয়ের নিজ এলাকার কিছু লোকজনের উপস্থিতির কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটি তিনি ভালোভাবে নেননি। পাশাপাশি আমাদের মধ্যেও সমন্বয়হীনতার একটি স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেছে। এককেন্দ্রিক নেতৃত্বও আজকের পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতাই আজকের এই পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে এমন একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় তা স্বাভাবিকভাবেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন ড. নার্গিস বানু

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন ড. নার্গিস বানু
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সিডনির একটি বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার পর, বেনজীরবিরোধী পোস্টকারী পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানুকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট, মন্তব্য ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানু দাবি করছেন, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তিনি তা জানতে পেরেছেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে।

তাঁর দাবি, সিডনিতে অবস্থানরত বেনজীরের দুর্নীতির সহযোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অবস্থান ও পোস্টের জের ধরেই চিহ্নিত দুষ্কৃতকারীরা, যারা অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে ব্যবসার নাম করে এতদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল, সেই একই কুচক্রী মহল এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তাদের মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পা চাটতে দ্বিধা করছে না। তারাই তাঁর বিরুদ্ধে এখন মনগড়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ড. নার্গিস বানু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া পোস্টকে ঘিরে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে উদ্দেশ্য করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সহযোগী বলে যাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা তাঁকে ঘিরে অপপ্রচার শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দুটো কারণে ওরা আমার পেছনে লেগেছে। প্রথমত, সিডনিতে বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপকর্মের সহযোগী কিছু ব্যক্তি, যারা অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যবসার আড়ালে প্রবাসে হুন্ডি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি গ্রুপ হলো জামায়াতের, যারা অস্ট্রেলিয়ায় এখনো গুপ্ত হিসেবে পরিচিত। তারা জিয়া পরিবারের ওপর আমার ভালোবাসাটা সহ্য করতে পারছে না। তাছাড়া কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন কারণে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ‘

তিনি আরো জানান, সিডনিতে বেনজীরের অপকর্মের সহযোগীদের মুখোশ উন্মোচনে সাধারণ প্রবাসীরা যখন সোচ্চার, তখন প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্য ঘিরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেনজীরের সহযোগীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তাঁকে আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে সাংবাদিক হিসেবে প্রেস পাস দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিএফআইয়ের কাছেও রিপোর্ট করা হয়েছিল।

নিজের একটি বহুল আলোচিত ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ছবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ অনুষ্ঠানের। আমি সেখানে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন ছিল। আমি সেখানে গিয়েছিলাম ওই সংস্থার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিতে এবং সেই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। এটি দুই দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি পরদিন গণমাধ্যমবিষয়ক সেমিনারেও অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গেও আমার ছবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু একটি ছবি প্রচার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই কুচক্রী মহলের সদস্যরা।

তিনি বলেন, ‘সিডনিতে বসবাসরত কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ রয়েছে। ওদের বিপক্ষে গেলেই যে কাউকে আওয়ামী লীগ বানায়, আবার নিজেদের স্বার্থে তারাই যে কাউকে বিএনপিও বানায়।’

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে অতীতে সিডনিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আবার পাল্টা পোস্টে বলা হচ্ছে, কোনো সামাজিক বা পেশাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অর্থ রাজনৈতিক সমর্থন নয় এবং একটি স্থিরচিত্র দিয়ে কারো রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।

সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একজন প্রবাসী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, একটি ছবিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেখা গেলেও, সেটি থেকে কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

একই পোস্টে তিনি আরো দাবি করেন, অপর একটি ছবিতে একজন পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও প্রবাসী ব্যক্তিত্বকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দেখা যাওয়ায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁর মতে, একজন সাংবাদিক হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় বা জনসমাগমের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা ছবি তোলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ নয়। পোস্টে আরো দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সিডনিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন এবং পোস্টদাতা নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কমিউনিটি নেতা আবিদুর রহমান বলেন, ‘সমাজের কিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘরানার কিছু প্রবাসী এখন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। বিএনপির কিছু নেতা তাদের দলে টানার চেষ্টা করতে গিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন।’ তাঁর মতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিরও জন্ম দিচ্ছে। কোনো ছবি বা অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ভিত্তিতে কারো রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিপন আহমদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে যেসব অভিযোগ ও দুর্নীতির বিষয় এখন প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয়। আমার মতে, যারা এসব অপকর্মে সহযোগী ছিল, তারা বেনজীরের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন বা আলোচনা প্রকাশিত হলেই অস্বস্তি বোধ করে। সিডনিতে অবস্থানরত এমন কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্ন থেকে দৃষ্টি সরাতে সমাজের ভালো মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। অপরাধীর কোনো দল নেই, তারা সুবিধাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার মতো আইনের শাসনের দেশে থেকেও যারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে চায়, তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে—এটাই কমিউনিটির অনেকের দাবি।

সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যাখ্যা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত পোস্টের কারণে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক আরো বেড়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০২৪ সালে সিডনিতে তাঁর একটি বৈঠকের ছবি এবং তাঁকে ও তাঁর কথিত সহযোগীদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত ১৭ জুন কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য অব্যাহত থাকতে দেখা যাচ্ছে।

কালের কণ্ঠে সংবাদের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন নার্গিস বানু

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
কালের কণ্ঠে সংবাদের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন নার্গিস বানু

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বেনজীরকে ঘিরে সিডনির একটি বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার পর, বেনজীরবিরোধী পোস্টকারী পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানুকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টাপাল্টি পোস্ট, মন্তব্য ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো ছবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়ছে।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানু দাবি করছেন, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তার জানা ছিল না। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তিনি তা জানতে পেরেছেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে।

তার দাবি, সিডনিতে অবস্থানরত বেনজীরের দুর্নীতির সহযোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান ও পোস্টের জের ধরেই চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারীরা- যারা অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে ব্যবসার নাম করে এতদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল, সেই একই কুচক্রী মহল এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তাদের মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পা চাটতে দ্বিধা করছে না। তারাই তার বিরুদ্ধে এখন মনগড়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নার্গিস বানু বলেন, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তার দেওয়া পোস্টকে ঘিরে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে উদ্দেশ্য করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সহযোগী বলে যাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, তারা তাকে ঘিরে অপপ্রচার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দুটো কারণে ওরা আমার পেছনে লেগেছে। প্রথমত, সিডনিতে বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপকর্মের সহযোগী কিছু ব্যক্তি যারা অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যবসার আড়ালে প্রবাসে হুন্ডি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি গ্রুপ হলো জামায়াতের যারা অস্ট্রেলিয়ায় এখনও গুপ্ত হিসাবে পরিচিত। তারা জিয়া পরিবারের ওপর আমার ভালোবাসাটা সহ্য করতে পারছে না। তাছাড়া কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন কারণে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

তিনি আরো জানান, সিডনিতে বেনজীরের অপকর্মের সহযোগীদের মুখোশ উন্মোচনে সাধারণ প্রবাসীরা যখন সোচ্চার, তখন প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্য ঘিরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেনজীরের সহযোগীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তাকে আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে সাংবাদিক হিসেবে প্রেস পাস দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ডিজিএফআইয়ের কাছেও রিপোর্ট করা হয়েছিল।

নিজের একটি বহুল আলোচিত ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ছবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ অনুষ্ঠানের। আমি সেখানে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন ছিল। আমি সেখানে গিয়েছিলাম ওই সংস্থার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিতে এবং সেই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। এটি দুই দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি পরদিন গণমাধ্যমবিষয়ক সেমিনারেও অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গেও আমার ছবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু একটি ছবি প্রচার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই কুচক্রী মহলের সদস্যরা।

তিনি বলেন, সিডনিতে বসবাসরত কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ রয়েছে। ওদের বিপক্ষে গেলেই যেকাউকে আওয়ামী লীগ বানায়, আবার নিজেদের স্বার্থে তারাই যেকাউকে বিএনপিও বানায়।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে অতীতে সিডনিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আবার পাল্টা পোস্টে বলা হচ্ছে, কোনো সামাজিক বা পেশাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অর্থ রাজনৈতিক সমর্থন নয় এবং একটি স্থিরচিত্র দিয়ে কারও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।

সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একজন প্রবাসী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, একটি ছবিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেখা গেলেও, সেটি থেকে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

একই পোস্টে তিনি আরো দাবি করেন, অপর একটি ছবিতে একজন পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও প্রবাসী ব্যক্তিত্বকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দেখা যাওয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে তার মতে, একজন সাংবাদিক হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় বা জনসমাগমের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা ছবি তোলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ নয়। পোস্টে আরো দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সিডনিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন এবং পোস্টদাতা নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কমিউনিটি নেতা আবিদুর রহমান বলেন, সমাজের কিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘরানার কিছু প্রবাসী এখন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। বিএনপির কিছু নেতা তাদের দলে টানার চেষ্টা করতে গিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিরও জন্ম দিচ্ছে। কোনো ছবি বা অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ভিত্তিতে কারও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিপন আহমদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে যেসব অভিযোগ ও দুর্নীতির বিষয় এখন প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয়। আমার মতে, যারা এসব অপকর্মে সহযোগী ছিল, তারা বেনজীরের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন বা আলোচনা প্রকাশিত হলেই অস্বস্তি বোধ করে। সিডনিতে অবস্থানরত এমন কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্ন থেকে দৃষ্টি সরাতে সমাজের ভালো মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। অপরাধীর কোনো দল নেই, তারা সুবিধাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার মতো আইনের শাসনের দেশে থেকেও যারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে—এটাই কমিউনিটির অনেকের দাবি।

সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যাখ্যা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টের কারণে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক আরো বেড়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০২৪ সালে সিডনিতে তার একটি বৈঠকের ছবি এবং তাকে ও তার কথিত সহযোগীদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত ১৭ জুন কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যে, তবু বিয়ানীবাজারের নাশকতা মামলার আসামি যুবক

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যে, তবু বিয়ানীবাজারের নাশকতা মামলার আসামি যুবক
ভুক্তভোগী জাকারিয়া মাহমুদ। সংগৃহীত ছবি

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ২০১৭ সালের একটি নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় এক ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে আসামি করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত ওই ব্যক্তি ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না; বরং তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন।

মামলার আসামি জাকারিয়া মাহমুদ বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুন সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় জাকারিয়া মাহমুদকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে সংঘটিত বাড়িঘর পোড়ানো ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় জাকারিয়াসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে জাকারিয়া মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ২০১৮ সালের পর কয়েকবার দেশে এলেও প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ দিন অবস্থান করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে আমি বিচলিত নই। বাদীকেও আমি চিনি না। তবে দেশে এখন মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানান।

জাকারিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় দেশে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাকে মামলার আসামি করায় বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, একজন প্রবাসী ব্রিটিশ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আগে তার পাসপোর্টের ভ্রমণ তথ্য, ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা উচিত ছিল।

জাকারিয়ার খালাতো ভাই তানভীর বলেন, ‘আমার ভাই যদি ঘটনার সময় দেশেই না থাকেন, তাহলে তাকে কিভাবে বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি করা হলো? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে মামলার বাদী বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ ও আসামিপক্ষের দাবির বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে হাজারো বাংলাদেশি | কালের কণ্ঠ