• ই-পেপার

আগামীতে হিলারি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ প্রেসিডেন্ট : ওবামা

ফ্রান্সে বহিষ্কারযোগ্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন

তানভীর তোহা, ফ্রান্স
ফ্রান্সে বহিষ্কারযোগ্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে। বিতর্কিত এ আইন মঙ্গলবার (১৬ জুন) পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সরকারের দাবি, বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।

ফরাসি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদনের পর নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়। ভোটাভুটিতে ৩৪৫ জন সংসদ সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১৭৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন। সরকার, ডানপন্থি দলগুলো এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি বিলটিকে সমর্থন করে।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৮০ দিন। নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২১০ দিন পর্যন্ত করা যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের নির্দেশ (ওকিউটিএফ) থাকতে হবে। পাশাপাশি অতীতে গুরুতর অপরাধে অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হতে হবে এবং তাকে জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ও গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে বহিষ্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা যাবে।

নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে।

বিলটি পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘ফরাসিদের নিরাপত্তাই আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশনা।’

আইনটিতে আরেকটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক মনোরোগ মূল্যায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।

তবে বিরোধীরা এ বিধানের সমালোচনা করেছে। সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য রোমাঁ এসকেনাজি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মানসিক স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ ও অভিবাসন—এই তিনটি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে। বামপন্থি দলগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি সাংবিধানিক পরিষদে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আইনটির সমর্থক কয়েকজন সংসদ সদস্য ২০২৪ সালের আলোচিত ‘ফিলিপিন’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মরক্কোর এক নাগরিকের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশ জারি ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি একটি প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

তবে সমালোচকদের দাবি, নতুন আইন কার্যকর থাকলেও ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো না। সংসদ সদস্য অঁদি কেরব্রা বলেন, অভিযুক্তকে ৭০ দিনের মাথায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিদ্যমান আইনেই তাকে ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার সুযোগ ছিল। ফলে আটকের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ওই ঘটনার পরিণতি ভিন্ন হতো না।

ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বিদেশিদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এটি একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, যা কেবল শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন লা সিমাদের মতে, বহিষ্কার কার্যকর করার জন্য ব্যক্তিস্বাধীনতায় কম হস্তক্ষেপকারী অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে তবেই প্রশাসনিক আটক ব্যবহার করা উচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মায়োতসহ ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চলগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছায়।

শ্রীলঙ্কায় সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রীলঙ্কায় সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা শুরু
সংগৃহীত ছবি

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)ভুক্ত দেশগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের (সিভিও) দশম ফোরাম সভা।

দুই দিনব্যাপী এ সভার যৌথ আয়োজক সার্ক সচিবালয়ের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ, শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ (ডিএপিএইচ), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

সভায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ-জীবিকার উন্নয়নে ভেটেরিনারি সেবার আঞ্চলিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করাই এ সভার মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অধিবেশনে শ্রীলঙ্কার কৃষি, প্রাণিসম্পদ, ভূমি ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডি পি বিক্রমাসিংহে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার তাঁর বক্তব্যে শ্রীলঙ্কা সরকারকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সভার আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) অব্যাহত সহযোগিতারও প্রশংসা করেন

প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সার্কের বিভিন্ন উদ্যোগে কারিগরি, লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রীলঙ্কার কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস. পিয়াসিরি দেশের প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক। তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা, সার্ক সচিবালয়, WOAH ও FAO–এর প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. তোমোকো ইশিবাশি সভার আয়োজনের জন্য সার্ক সচিবালয়, সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং শ্রীলঙ্কা সরকারকে অভিনন্দন জানান। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি ড. স্কট নিউম্যান তাঁর বক্তব্যে সার্ক সিভিও ফোরামকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে এটিকে সার্কের অন্যতম সফল উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ তাঁর বক্তব্যে শ্রীলঙ্কাকে সভার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সদস্য দেশগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান।  এ সময়  তিনি সার্ক কৃষি কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি কেন্দ্রটির অঙ্গীকারের বিষয় তুলে ধরেন।

 অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ড. এস. কুরুগালা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী ভিভাটেক ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চালু থাকা এ সম্মেলনে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনকে এখন সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

ফ্রান্সের প্যারি এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাইয়ে আয়োজিত চার দিনের এ আয়োজনে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী, ১৪ হাজার স্টার্টআপ, চার হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং ১৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সম্মেলনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে উন্নত এআই মডেল, ডেটা সেন্টার ও চিপ প্রযুক্তিতে ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এআই এখন কেবল প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্র নয় বরং অর্থনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত উপাদান। ফলে ইউরোপের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো, ডেটা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং এআই সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

এ প্রেক্ষাপটে ফরাসি স্টার্টআপ মিস্ত্রাল এআই আলোচনায় উঠে এসেছে। ওপেন সোর্স ভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের সম্ভাব্য এআই সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনে সমন্বিত ইউরোপীয় কৌশলই হবে মূল চালিকাশক্তি।

এদিকে ভিভাটেকের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জি-৭ (জি-সেভেন) শীর্ষ বৈঠকেও এআই প্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। সেখানে প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার ওপর জোর দেন বিশ্বনেতারা।

ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে বৃহৎ পরিসরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে এআই গিগাফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর লক্ষ্য বিদেশিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিভাটেক–২০২৬ এখন কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মঞ্চ নয় বরং এটি ইউরোপের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলে শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলে শাস্তি
সংগৃহীত ছবি

কাতার প্রবাসী যেসব কর্মীর রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা বাতিল করা হয়েছে, তাদের এখন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কাতার ত্যাগ না করলে গুনতে হবে আর্থিক জরিমানা। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমওআই) এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর গালফ নিউজ

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে কাতার বিমানবন্দর পাসপোর্ট বিভাগের ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি এই নতুন নিয়মের কথা জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ বলেন, ‘আগে রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের পর দেশ ছাড়ার জন্য ৩০ দিন সময় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে এই গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় কমিয়ে দুই সপ্তাহ (১৪ দিন) করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৪ দিন পার হওয়ার পরও যদি কেউ কাতারে অবস্থান করেন, তবে প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল করে জরিমানা গুনতে হবে।’

এ ছাড়া কাতারে আসা দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টে থাকা ভিসা স্ট্যাম্পে কত দিন থাকার অনুমতি রয়েছে, তা যেন তারা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেন। কারণ, ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাতারে অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা করা হবে।’

ভ্রমণের আগে প্রবাসীদের ‘মেত্রাশ’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের আইনি স্ট্যাটাস বা বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ট্রাফিক জরিমানা, অতিরিক্ত সময় থাকার কারণে কোনো জরিমানা বা অন্য কোনো বকেয়া পাওনা রয়েছে কি না, তা অ্যাপের মাধ্যমে আগেই দেখে নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভ্রমণ করার সময় বিমানবন্দরে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে এবং দীর্ঘ লাইন এড়াতে যাত্রীদের ইলেকট্রনিক গেট বা ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের আগমন ও প্রস্থান টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে। এ ছাড়া পুরোনো পাসপোর্ট থেকে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট স্থানান্তরের কাজটিও প্রবাসীরা ‘মেত্রাশ’ অ্যাপের মাধ্যমেই করতে পারবেন।

কাতারে প্রবাসী দম্পতির সন্তান জন্ম নিলে দ্রুত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা রিপোর্ট করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় রেসিডেন্সি নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ক্যাপ্টেন আল কুওয়ারি জানান, কাতারে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা কাগজপত্র নেওয়ার পর, বাবার স্পনসরশিপের অধীনে রেসিডেন্স পারমিট (আকামা) নিতে হবে। রেসিডেন্স পারমিট না থাকলে, কোনো নবজাতক কাতার থেকে বাইরে যাওয়ার পর পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে না।

আগামীতে হিলারি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ প্রেসিডেন্ট : ওবামা | কালের কণ্ঠ