• ই-পেপার

শিশুর জন্মের পরই মিলবে ডিজিটাল আইডি, থাকবে যেসব সুবিধা

দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল

অনলাইন ডেস্ক
দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির মহাপরিচালক পদে রদবদল করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে প্রেষণে (ডেপুটেশন) দুদকের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে একই দিনে জারি করা অপর এক আদেশে দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

জুনে নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার ৩৩৩ জন, ধর্ষণের ঘটনাই বেশি

অনলাইন ডেস্ক
জুনে নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার ৩৩৩ জন, ধর্ষণের ঘটনাই বেশি
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের জুন মাসে দেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩৩ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কন্যাশিশুর সংখ্যাই বেশি। মাসজুড়ে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ প্রকাশিত মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোট ৩৩৩ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭৭ জন কন্যাশিশু এবং ১৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। মাসটিতে ১০০টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৭২ জন কন্যাশিশু এবং ২৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৪ জন, যাদের মধ্যে ১২ জন কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর সাতজন কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে একজন কন্যাশিশু। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৩৪ জনকে, যার মধ্যে ৩১ জনই কন্যাশিশু।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিভিন্ন কারণে নিহত হয়েছেন ৫৪ জন নারী ও কন্যাশিশু। তাদের মধ্যে ৪৫ জন নারী এবং ৯ জন কন্যাশিশু। এ ছাড়া ৩৩ জনের রহস্যজনক মৃত্যু এবং ১২ জনের আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া জুন মাসে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪৩ জন। এর মধ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার ১১ জন এবং উত্ত্যক্তের শিকার ২৯ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯ জন, পণ-সংক্রান্ত সহিংসতার শিকার পাঁচজন, এসিড ও অগ্নিদগ্ধের শিকার তিনজন এবং নারী ও কন্যাশিশু পাচারের শিকার হয়েছেন দুজন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ আরো জোরদার করা জরুরি।

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে।

জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

অনলাইন ডেস্ক
এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

শিশুর জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। সে আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। নাগরিককে আর আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার একই তথ্য জমা দিতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। বাংলানিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

1

প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

যদিও কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।