ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ রবিবার সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ রবিবার সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে বছরে ৬ লাখ টাকার কম বেতন বাবদ আয় (এক-তৃতীয়াংশ কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত) থাকলে কর দিতে হবে না। তবে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ, এফডিআরের সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় করদাতাদের ওপর করের বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়মিত হারে কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানোর যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাতিল হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) বাধ্যবাধকতাও বাতিল করা হচ্ছে। তা ছাড়া আগের মতোই থাকছে শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের করহার।
সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে এ সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ল।
এ বিষয়ে কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোয় নিম্ন-আয়ের সাধারণ করদাতারা সুফল পাবেন। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত করহারে পরিবর্তন না আনলে ব্যবসা, কৃষি, আর্থিক পরিসম্পদ বা বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে আয় করলে তাদের বাড়তি কর দিতে হবে। কেননা ন্যূনতম করহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের বিনিয়োগের সীমা ১৫ থেকে ১০ শতাংশ করা এবং মেয়াদকাল পর্যন্ত ধারণের বাধ্যবাধকতার কারণে করের বোঝা বাড়তে পারে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এ সুযোগ বাতিল করে দেয়।

দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন। আঠারো মাসে বিদেশে চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আগামীর সময়।
হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির চিকিৎসা নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। হৃদরোগ খালিদ হোসেনের। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছিল হার্টে যে সমস্যা, তার চিকিৎসা দেশে নেই। বাংলাদেশে এসংক্রান্ত অপারেশনের ঝুঁকি রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন, এমনটাই দাবি খালিদ হোসেনের।
খালিদ হোসেন সরকারের অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছরের শেষদিকে এবং চলতি বছরের প্রথমদিকে তিনি থাইল্যান্ডে যান। অপারেশন করান। প্রথমবার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসকও। পরের দফায় মেয়ে ও তার স্বামী। খালিদ হোসেন জানালেন, তার এখনো সমস্যা হয়। কিন্তু খরচ বেশি বলে যেতে পারছেন না।
প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসা করাতে বিভিন্ন দেশে যান। মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আওতায় ভারতে যান ১৫ থেকে ১৭ লাখ বাংলাদেশি। যদিও এ পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের আগের। তারপর পরিস্থিতি পাল্টালেও চিকিৎসার জন্য দেশটিতে যেতে চান রোগীরা। ভারতের পরই থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর যান চিকিৎসা নিতে। সেই সংখ্যাটাও কম নয়।
ওপরের পরিসংখ্যান দিয়ে খালিদ হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অতীতের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ কি না। উত্তরে অকপট খালিদ হোসেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা কেন এত বছরেও একটি ভালো হাসপাতাল করতে পারলাম না। আমরা মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মতো হাসপাতাল করতে পারিনি। ব্যাংকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়, পাচার হয়। দেশে চিকিৎসা থাকলে এত খরচ হতো না। চিকিৎসা বাবদ আমার নিজেরও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। দেশে চিকিৎসা থাকলে কেউ যাবে? এটা প্রমোদ ভ্রমণ নয়।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্যাবিনেটে আপনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। উপদেষ্টা পর্ষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি কেন? এ প্রশ্নের উত্তরও প্রস্তুত ছিল, উপদেষ্টা বা মন্ত্রীরা ইচ্ছা করলেই অনেক কিছু করতে পারেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। ইচ্ছা থাকলেই এখানে কিছু করা যায় না।
বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মাত্র ১৮ মাসে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।
তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা; সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা; সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা; সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা; সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে সরকার তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করে। জরুরি প্রয়োজন হলে বিদেশেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটি কোনো মাসিক বা বার্ষিক চিকিৎসা ভাতা নয়।
চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘অসুস্থতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার দাখিলের শর্তে সরকার চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করে। যদি এমন হয়ে থাকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। তাহলে যিনিই অর্থ গ্রহণ করে থাকুন না কেন, তা নিয়মবহির্ভূত। একই সঙ্গে যারা এ অর্থ অনুমোদন ও ছাড় করেছেন, তারাও অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না।’
‘বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কী প্রক্রিয়ায় অর্থ ছাড় করা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’—যোগ করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, ‘বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। বিল-ভাউচার ছাড়া কিভাবে অর্থ ছাড় করা হলো, তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
সূত্র : আগামীর সময়