বজ্রপাতে ক্রমশ বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। দেশে প্রতি বছরের মতো এবারও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায়ও বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বজ্রপাত বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘বজ্রপাত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা। ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অবজার্ভিং সিস্টেমস প্রোমোশন কাউন্সিল (ক্রপ-সি)’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। সুপারিশগুলো তুলে ধরেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম। বজ্রপাতজনিত মৃত্যু কমাতে আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ পদ্ধতি এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে সঞ্জয় শ্রীবাস্তব বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা বজ্রপাতের ঘটনা বাড়াচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে বজ্রপাতের ঘটনা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য বৃহত্তর জনসচেতনতা, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ আশ্রয়, স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা, স্থায়ী কার্যপ্রণালী (এসওপি) এবং শক্তিশালী জলবায়ু অভিযোজন নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, আদিবাসী জ্ঞান নথিভুক্ত করা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসকরণ উদ্যোগে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং চীন থেকে আসা দুর্যোগ বিশেষজ্ঞগণও অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বজ্রপাতের সময়ে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ এবং বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর প্রতিক্রিয়া ও চিকিৎসা প্রণালী প্রণয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বজ্রপাত অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ও নেপালে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ও ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতেও ইদানীং বজ্রপাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলেন, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সম্প্রদায়ভিত্তিক বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসকরণ প্রণালী, গণসচেতনতা, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালুর আহ্বান জানান তারা। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন হিউম্যানিটেরিয়ান এইড ইন্টারন্যাশনাল (এইচএআই)-এর ড. জাহাবিয়ার এবং সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিন।