• ই-পেপার

হাম নিয়ে ড. ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য
আজ শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক। ছবি : পিএমও

বাংলাদেশ ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরো জোরদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আরো গভীর করার বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। তা ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সব ধরনের সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে।

আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সরকারি সফরে চীন যান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়ন্স ২০২৬-এর ১৭তম বার্ষিক সভা (সামার দাভোস)-এও অংশ নেন।

সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং দুই দেশ বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছে।

সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছে। দুই দেশই মনে করে, তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

চীন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নীতির প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মনে করে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’কে আরো উন্নীত করে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলা হবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হয়।

কৌশলগত সংলাপ ও ‘২+২’ উদ্যোগ

দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সরকার, আইনসভা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করবে দুই দেশ।

‘এক চীন’ নীতিতে বাংলাদেশের পুনর্ব্যক্ত সমর্থন

যৌথ ঘোষণাপত্রে দুই দেশ একে অপরের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়, পৃথিবীতে একটিই চীন, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিংই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনা সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান জানিয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে।

চীন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশের জন্য শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।

দুই দেশ যৌথভাবে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংযোগ ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির নতুন নতুন সুযোগ খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা

যৌথ ঘোষণাপত্রে তিস্তা নদীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা আরো গভীর করবে।

চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে সফর, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘পিপল-টু-পিপল এক্সচেঞ্জ ইয়ার’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করেছে দুই দেশ।

গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে। জনস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ইউনান প্রদেশসহ স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় চীনের সহযোগিতার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন

বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ ধারণা এবং তাঁর প্রস্তাবিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতিও সমর্থন দিয়েছে।

দুই দেশ আঞ্চলিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় অঞ্চলের আরও দেশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দুই দেশ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতার কথাও যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদভিত্তিক যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে চীন।

চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে তারা সহায়ক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সফরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সরকার ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মালয়েশিয়া ও চীনে সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মালয়েশিয়া ও চীনে সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টা) চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সরকারপ্রধান ও তার সফর সঙ্গীরা বেইজিং তাসিং বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান চীনা প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউ শিয়াওয়ং।

জানা গেছে, বেইজিং-ঢাকা রুটে সরাসরি চলাচলকারী এ ফ্লাইটে সাধারণত পাঁচ ঘণ্টার মত সময় লাগে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় বা তার পর প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

এর আগে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে তারেক রহমান ও তার সফর সঙ্গীরা তাসিং বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : মাহদী আমিন

বাসস
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর হয়েছে। আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন একথা জানান।

দুপুরে দিয়াওতাই হোটেলে কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা নেতৃত্বের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে ১৩টি দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উভয় সকারের বিভিন্ন মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়াও তিনটি হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে ও চীনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে। আর একটা হয়েছে এমওইউ হয়েছে পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি। অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে।

মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ১৩টি স্বাক্ষর হয়েছে মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি, তিনটি বিডার সঙ্গে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানের এবং একটি দুই দেশের বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা রাজনৈতিক দলের মধ্যে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যান। প্রথমে দুইটি প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে আসনে। বুধবার রাতে সেখান থেকে থেকে বেইজিং যান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুর ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল

গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা হবে
ফাইল ছবি

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালু করা হবে। বিষয়টি চলতি বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সকল লড়াই-সংগ্রামে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এখন কান্নার সময় নয়, এখন সময় অধিকার আদায় ও ন্যায়বিচার পাওয়ার। তিনি মানবাধিকার কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংলাপে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ এবং বিগত শাসনামলগুলোতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

হাম নিয়ে ড. ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ | কালের কণ্ঠ