• ই-পেপার

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৪ এপ্রিল)

পাবলিক পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনে’র নতুন সাজা অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
পাবলিক পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনে’র নতুন সাজা অনুমোদন

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং ও ডিজিটাল কারসাজি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের অপরাধকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে নতুন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের দশম বৈঠকে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ -প্রণীত হয়। তবে, বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। পাবলিক পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধগুলো এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে বর্তমান আইনে সংশোধন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 

৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

বাসস
৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগস্টের প্রথম দিকেই দুই হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। প্রতিটি হাসপাতাল ২০০ শয্যাবিশিষ্ট করা হবে। বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

অন্যগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিটি হাসপাতালে পুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে নির্দেশও দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। 

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়

অনলাইন ডেস্ক
দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)।সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত হবে। গত ১৭ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য, শিল্প, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরসহ ১০টি সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এফটিজেড মডেল ও আইন পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভৌগোলিক অবস্থান, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী অবকাঠামোগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বিবেচনা করে চট্টগ্রামের আনোয়ারাকে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এটি প্রথম অনুমোদন পেয়েছিল।

বেজা মনে করছে, আন্তর্জাতিক মানের এই জোনটি তৈরি হলে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। এ ছাড়া দেশের রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আসবে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সংযোগ আরো দৃঢ় হবে। এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকস ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে (বেজা) এই জোনটি পরিচালনার জন্য কাস্টমস আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা, ওয়্যারহাউস লাইসেন্সিং বিধিমালা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকাসহ বেশ কিছু বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা সংস্কার ও হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে। 

বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল মডেলে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ এখন একদম সঠিক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের ক্রমবর্ধমান লজিস্টিকস সক্ষমতা দেশকে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। দুবাই, চীন ও পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই মডেল ব্যবহার করে সফল হয়েছে, বাংলাদেশও এখন সেই পথেই হাঁটছে।’

তিনি জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বাজেটে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশেও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা পুরোপুরি চালু করতে আরো বেশ কিছু আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান
সংগৃহীত ছবি

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি। 

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান  জানান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৪ এপ্রিল) | কালের কণ্ঠ