• ই-পেপার

সপরিবারে নাটক দেখলেন তারেক রহমান

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ‘মাঝারি’ অবস্থানে ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ‘মাঝারি’ অবস্থানে ঢাকা

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও। বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকা শহরটির অবস্থান এখন ১৪ নম্বরে। যার বায়ুমান স্কোর ৮৮, অর্থাৎ এই শহরের বায়ুরমান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুরমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে কঙ্গোর কিনশাসা শহর। যার দূষণ স্কোর ১৮৬, অর্থাৎ এই শহরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। যার দূষণ স্কোর ১৫৬, অর্থাৎ এই শহরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দূষণ স্কোর ১৫৬, অর্থাৎ এই শহরের বাতাসও ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে, চিলির সান্তিয়াগো, উগান্ডার কাম্পালা, ভারতের কলকাতা, ইসরায়েলে জেরুজালেম, সৌদি আরবের রিয়াদ, ভারতের রাজধানী দিল্লি, কাতারের রাজধানী দোহা, ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম, পাকিস্তানের লাহোর।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
বিএনপি মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে লিউ হাইক্সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৯ বার চীন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার সম্মানে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের ছবি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান।

তিনি বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MOU) কথা উল্লেখ দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সম্পর্কের লিগ্যাসি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত জীবন লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী  এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী  অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৫২ সাবস্টেশন নির্মাণ করবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৫২ সাবস্টেশন নির্মাণ করবে সরকার

ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ঢাকার আশপাশের শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৯৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৫২টি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় শিল্পসমৃদ্ধ ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ২৬৫ এমভিএ ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ ১০ হাজার বিদ্যমান গ্রাহকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

একই সঙ্গে সিস্টেম লস ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বা সাইডি ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরইবি সূত্রে জানা গেছে।

আরইবির কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী ১৩টি পবিসের বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বিবেচনার লক্ষ্যে পরামর্শক সংস্থা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) মাধ্যমে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

আইআইএফসির সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকার পার্শ্ববর্তী ১৩টি পবিসে ২০৩৩ সালের মধ্যে বর্ধিত চাহিদা হবে ৫ হাজার ৮২ মেগাওয়াট। ৭০ শতাংশ লোডিং ও ১০ শতাংশ ডাইভারসিটি বিবেচনায় এই চাহিদা মেটাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে ১৩টি পবিসের সক্ষমতা ৯ হাজার ৭৬০ এমভিএ করা প্রয়োজন হবে।

টিবিএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৫২টি নতুন ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ, ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মোট ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ ও আপগ্রেড করা হবে।

এ ছাড়া ১৫৮ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল, ৯০০টি ফল্ট লোকেটর, ৩টি সুইচিং স্টেশন এবং ৩টি নদী পারাপার টাওয়ার স্থাপন করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার আশপাশের শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা ও গাজীপুর জেলার যেসব এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, কালিয়াকৈর, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সদর, শ্রীপুরের আংশিক এলাকা এবং কাপাসিয়া।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলাকে প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী, নরসিংদী জেলার নরসিংদীর আংশিক এলাকা, রায়পুরা ও শিবপুর, টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা, ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যেসব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সক্ষমতা বাড়ানো হবে, সেগুলো হলো ঢাকা পবিস-১, ঢাকা পবিস-৩, ঢাকা পবিস-৪, গাজীপুর পবিস-১, গাজীপুর পবিস-২, ময়মনসিংহ পবিস-১, ময়মনসিংহ পবিস-২, মানিকগঞ্জ পবিস, মুন্সীগঞ্জ পবিস, নারায়ণগঞ্জ পবিস-১, নারায়ণগঞ্জ পবিস-২, নরসিংদী পবিস-১ ও নরসিংদী পবিস-২।

ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন পরিকল্পনা কমিশনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পিইসি সভার জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। প্রকল্প ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সেখানে ডিপিপিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অতিরিক্ত প্রায় ২৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং এর মাধ্যমে কত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা স্পষ্ট করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ব্যয়ের বড় অংশ, প্রায় ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যন্ত্রপাতি ও ইকুইপমেন্ট খাতে ধরা হয়েছে; এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি পরামর্শক সেবা, প্রশিক্ষণ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিশেষ করে ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার লাইনের জন্য কিলোমিটারভিত্তিক পরামর্শক ব্যয় নির্ধারণ এবং ৬৬০ জনের প্রশিক্ষণ ব্যয়ের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। এ ছাড়া সরকারি তহবিল থেকে এই প্রকল্পে দেওয়া হবে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ২১৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরইবির প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। লোড গ্রোথ বা বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি এতে নিশ্চিতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ কারণে বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কিছু অগ্রিম দরপত্র বা অ্যাডভান্স টেন্ডারিং/প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’

তিনি জানান, দরপত্র ডকুমেন্ট অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত অগ্রিম ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত ঠিকাদারকে ক্রয়াদেশ দেওয়া হবে না।

সংকটে থাকা ব্যাংক বাঁচাতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
সংকটে থাকা ব্যাংক বাঁচাতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সহায়তা

সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।

সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বুধবার অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব আমানতকারীর অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের সংকট উত্তরণে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এই সহায়তার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সংকটে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে স্থায়ী সমাধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ইতোমধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

গত দেড় বছরে দেশের বেশ কিছু শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তারা ব্যাংক থেকে তাদের সঞ্চিত বড় অঙ্কের টাকা একবারে তুলতে পারছেন না এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তঃব্যাংক সহায়তা এবং বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।