• ই-পেপার

বায়ুদূষণে শীর্ষে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, ঢাকার অবস্থান কত

সরকারের পেছনে কার ছায়া?

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের পেছনে কার ছায়া?

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের বয়স চার মাস হয়েছে। কিন্তু এই চার মাসে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো সরকারের ভিতরের একটা মহল বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের ভালো চেষ্টাগুলো বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না একটি মহল। তারা যেন তারেক রহমানের নতুন ধারার রাজনীতির বদলে পুরোনো প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী চাইছেন অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করতে। কিন্তু সরকারের ভিতরে একটি শক্তি সেই বিভক্তির ধারাতেই রাজনীতি করতে চাইছে। গত মঙ্গলবার বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে। আসুন নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল (সফল) হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট (মানসিকতা) নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই আকাঙ্ক্ষা কী মাঠে বাস্তবায়িত হচ্ছে? না। বিএনপির অনেকের মধ্যে এখনো প্রতিশোধের রাজনীতির মানসিকতা প্রবল। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধ হয়নি। কেউ যদি অন্যায় করে, কারও বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে সেটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, আদালতের, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, প্রতিহিংসার নিকৃষ্ট প্রকাশ। তারেক রহমানের প্রত্যাশিত রাজনীতি বিএনপির সর্বস্তরে দৃশ্যমান নয়। মে মাসে বাংলাদেশে মব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) নামে একটি সংগঠন। এই সংখ্যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ধরনের অন্তত ৬৯টি ঘটনায় আরও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি। তাদের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে মব সহিংসতায় ২১ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অথচ শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন নেই। তারেক রহমান এবং তাঁর সরকার আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন শুরু থেকেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই পুরোনো সংস্কৃতি। সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলা দায়ের করে আবার গ্রেপ্তারের অনাকাক্সিক্ষত রীতি চালু আছে এখনো।

প্রধানমন্ত্রী বারবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। বেসরকারি খাতকে সচল করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। বেসরকারি খাতের মনোবল ও আস্থা ফেরাতে সরকারে উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বেসরকারি খাতকে সচল করতে হলে প্রথমে এই খাতের ক্ষত সারাতে হবে। গত দেড় বছরে ইউনূস সরকার দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় কবর রচনা করেছে। বিভিন্ন কলকারখানা মব হামলার শিকার হয়েছে। অনেক শিল্পকারখানায় আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে নতুন বাজেটে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী নিজে একজন ব্যবসায়ী ও শিল্প-উদ্যোক্তা। তিনি ভালো করেই জানেন, কেবল টাকা দিয়েই বন্ধ কলকারখানা চালু করা যায় না। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য চাই উপযুক্ত এবং সহায়ক পরিবেশ। ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে বেসরকারি খাতের মনোবল ভেঙে গেছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতের ইমেজ নষ্ট করার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা করেছিল। মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়াবে না।

কিন্তু সরকারের ভেতরের একটি চক্র বেসরকারি খাতে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে দিচ্ছে না।

দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এসব মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। ইউনূস সরকার এসব মামলা করে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। কেন চার মাসেও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হলো না? কারা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না?

ইউনূস সরকার বহু শিল্প-উদ্যোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেআইনিভাবে জব্দ করেছিল। বিচারের আগে শাস্তি নজিরবিহীন এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছিলেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

বর্তমানে আমরা একটি বৈশ্বিক যুগে বসবাস করি। এখন শুধু দেশে বসে ব্যবসাবাণিজ্য করা অসম্ভব। ইউনূস সরকার গায়ের জোরে বহু ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিদেশভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এ ধরনের আদেশ কেবল আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন নয়, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা। কারণ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কেবল মামলা আছে এই যুক্তিতে কোনো নাগরিকের ওপর বিদেশভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। ড. ইউনূস সংবিধান, আইন, আদালতের রায় কিছুই মানতেন না। কিন্তু বর্তমান সরকার তো জনগণের নির্বাচিত সরকার। সবাই আশা করে এই সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। সরকার বারবার আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা বলছে। তাহলে কেন এই বেআইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না?

বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য টাকা দিলেই হবে না। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মিথ্যা মামলা, বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করে। যা ইউনূস সরকার করেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি এখনো। ফলে সরকারের নানা ধরনের আশ্বাসের পরও বেসরকারি খাতের পালে হাওয়া লাগেনি।

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন, বিগত ১৭ বছর দেশ কীভাবে চলেছে। সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছিল। একটা গ্যাসের লাইন পেতেও সরকারের কাছে ধরনা দিতে হতো। সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে পারলে ব্যবসাবাণিজ্য করা অসম্ভব ছিল। তাই সেই সময়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল বাধ্য হয়েই। শিল্প বাঁচাতে, লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের জন্য, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এর কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু ইউনূস ক্ষমতায় এসেই এসব শিল্প-উদ্যোক্তাকে দোসর বানিয়ে দেন। যেসব ব্যবসায়ী সরাসরি রাজনীতি করেন তাঁরা ছাড়া অন্য বিশালসংখ্যক ব্যবসায়ী কোনো দলের না। তাঁদের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়, শিল্পের জন্য, অর্থনীতির জন্য। অথচ সরকার পরিবর্তন হলেই তাঁদের কেন গলা টিপে ধরা হবে?

অতীতে সব সরকারই ক্ষমতায় এসে ব্যবসায়ী শিল্প-উদ্যোক্তাদের অনুগত বানাতে চায়। এই সংস্কৃতি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার কথা বলেছে বটে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আবার নতুন করে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে বেসরকারি খাতকে বিভক্ত করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত এবং শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এই বিভাজন দূর করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নিজে যেখানে সবার আগে বাংলাদেশ- তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বলছেন, তখন এই বিভাজন তৈরি করে কারা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে একটি গণ অভ্যুত্থানের পটভূমিতে। যেই গণ অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ছিল ঐক্য, বৈষম্যহীন, সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ইউনূস সরকার ঐক্যের বদলে বিভক্তি সৃষ্টি করেছিল। বিরুদ্ধ মতকে পৈশাচিক শক্তি দিয়ে দমন করার এক ভয়াবহ প্রবণতা চালু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূস দেশকে বৈষম্যমুক্ত করেননি, বরং বৈষম্য বাড়িয়েছেন। সমতার বাংলাদেশের বদলে ইউনূসের দর্শন ছিল দমনের বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য ইউনূস দেশে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। দেশের মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এখান থেকে মুক্তির জন্য মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। এ দেশের মানুষ আর হিংসা, হানাহানি চায় না। বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। বিএনপি নির্বাচনের প্রচারণায় সেই শান্তির বার্তা দিয়েছে। এখন সময় প্রতিশ্রুতি পূরণের। কিন্তু সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। এভাবে চললে মানুষ আশাহত হবে। এখনো প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ইউনূসের অপছায়া। এরা সরকারের ভালো সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে প্রতি পদে। চার মাসেও সরকার প্রশাসন ঢেলে সাজাতে পারেনি। আমলাতন্ত্রে এখনো ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বিএনপিপ্রেমিক সেজে রাজত্ব করছে। মনে রাখতে হবে, এরাই নির্বাচন বানচালের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাজিয়েছিল এখনো তার মূল কাঠামো পরিবর্তন হয়নি। শুধু উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিবর্তন করলেই প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তন হয় না। মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন দরকার। না হলে দেশের গুণগত পরিবর্তন হবে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার বিপরীতে কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। বিএনপি নেতারাই বলছেন, ইউনূস সরকারের প্রশাসন দিয়ে বিএনপি সফল হতে পারবে না।

ইউনূস সরকারের বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সারা দেশে যেভাবে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। এঁরা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। ইউনূস আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের নিয়োগ বাতিল করা হয়নি। বিভিন্ন দেশে ইউনূস সরকার যে কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনকে সরানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে সরকারের সঠিক বার্তা যাচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চাটুকারদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কিন্তু অতীতের মতো বিএনপি সরকারের চারপাশে চাটুকারদের দৌরাত্ম্য ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনে, পুলিশ বাহিনীতে নব্য বিএনপির দাপট বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পদায়ন এবং পদোন্নতি অনুশাসন দিয়েছেন সেখানে কে ছাত্রদলের কত বড় নেতা ছিলেন তা প্রমাণের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সমালোচনায় মুখর ছিল, যারা এক-এগারোর সময় বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের পরামর্শ দিয়েছিল, তারাই আবার সরকারের কাছের মানুষ সেজেছে। শুরু হয়েছে তেলবাজির প্রতিযোগিতা।  প্রধানমন্ত্রী ঈদের পরদিন সরেজমিন দেখেছেন, সিটি করপোরেশন যা বলেছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এরকম নজরদারি সারা দেশে করা সম্ভব নয়। আর সেজন্যই সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য চাটুকার, তথাকথিত দলীয় লোকের চেয়েও বেশি প্রয়োজন যোগ্য, মেধাবী এবং দক্ষ লোক। যারা দেশকে ভালোবাসে। যারা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। যাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা নেই। সেটা না হলে, সরকারের সুন্দর পরিকল্পনার পরি উড়ে যাবে আর কল্পনাতেই থাকবে সবকিছু।

সরকারের পেছনে ফিরে তাকানোর সময় এসেছে। কেন চার মাসেও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে পারেনি সরকার? কেন এত দিনেও ইউনূস সরকারের ঢালাও অবৈধ বিদেশভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হচ্ছে না? কেন দেশে মব সন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না? এরকম অনেক প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। এই সরকারের হানিমুন সময় পার হয়ে গেছে। এখন প্রতিশ্রুতি আর কাজের সামঞ্জস্য আনতে হবে। কথা আর কাজের মিল না থাকলে অবিশ্বাস বাসা বাঁধবে জনগণের মনে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

১৩ জেলার জন্য যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জেলার জন্য যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

দেশের ১৩ জেলার জন্য সতর্কবার্তা জরি করেছে আবহাওয়া অফিস। এসব জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।  

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৯ জুন)

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৯ জুন)
সুইস ব্যাংকে এক বছরে ৪১% অর্থ বেড়েছে বাংলাদেশিদের

সুইস ব্যাংকে এক বছরে ৪১% অর্থ বেড়েছে বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত যখন তারল্য সংকটে ভুগছে, তখন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড...

 

সিটি গ্রুপকে বাঁচাতে ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন

সিটি গ্রুপকে বাঁচাতে ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন

গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে সিটি গ্রুপ। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি মূলধনের ঘাটতি, ব্যাংক সহায়তা কমে যাওয়া এবং নতুন...

 

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

ইরান যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী চুক্তির পথে অগ্রসর হতে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট...

 

ঋণখেলাপি ইস্যুতে সংসদে উত্তাপ

ঋণখেলাপি ইস্যুতে সংসদে উত্তাপ

জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। বিরোধী দলের সমালোচনার...

 

ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা ব্রাজিলের

ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা ব্রাজিলের

নানা জল্পনা শেষে গত পরশু নিউজার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিলের অনুশীলনে দেখা মিলেছে নেইমারের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯...

 

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বড় বিনিয়োগ পাওয়ার আশা বিডার

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বড় বিনিয়োগ পাওয়ার আশা বিডার

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে...

 

অভিযুক্ত বাংলাদেশি ১০ জনকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি সিআইডির

অভিযুক্ত বাংলাদেশি ১০ জনকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি সিআইডির

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) নাম আসা ১০ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি...

 

প্রবাসীদের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা হবে

প্রবাসীদের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা হবে

প্রবাসীদের কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাঁদের যৌক্তিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আশ্বাস দিয়েছেন...

 

ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরাতে আড়াই বছর লাগবে

ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরাতে আড়াই বছর লাগবে

রাজধানী ঢাকা থেকে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নিতে দুই...

 

বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ...

 

কৃষিজমির নীরব ঘাতক অম্লতা

কৃষিজমির নীরব ঘাতক অম্লতা

দেশের কৃষি উৎপাদনে ক্রমে নীরব হুমকি হয়ে উঠেছে মাটির এসিডিটি বা অম্লতা। দেশের প্রায় ৩৯ লাখ হেক্টর আবাদি জমি,...

 

জরায়ুমুখ ক্যান্সারে তরুণীদের মৃত্যুঝুঁকি ‘শূন্যের কোঠায়’

জরায়ুমুখ ক্যান্সারে তরুণীদের মৃত্যুঝুঁকি ‘শূন্যের কোঠায়’

টিকা নেওয়ার কারণে জরায়ুমুখ (সার্ভিক্যাল) ক্যান্সারে তরুণীদের মারা যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।...

 

এ কোন রোনালদো!

এ কোন রোনালদো!

বলা হয়ে থাকে, গ্রেট খেলোয়াড়রা নাকি নিজের মনের কথা শুনতে পান। কখন জবাব দিতে হবে, শেষের বাঁশিটায় কখন ফুঁ দিতে হবেএসব...

 

বাজেট ঘাটতি ছাড়াতে পারে ৪ লাখ কোটি টাকা : র‌্যাপিড

বাজেট ঘাটতি ছাড়াতে পারে ৪ লাখ কোটি টাকা : র‌্যাপিড

কাগজের হিসাবের চেয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি বাস্তবে আরো বেশি হতে পারে। আর সেটি হতে পারে প্রায়...

 

মুরগির দাম চড়া সবজিতে স্বস্তি

মুরগির দাম চড়া সবজিতে স্বস্তি

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশির ভাগ সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। মানভেদে বেশির...

 

চিরকুটের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেপ্তার

চিরকুটের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু মো. জায়হান অপহরণের দুই দিনের মাথায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।...

 

‘দেশে উৎপাদিত ফলের ২৫-৪০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে’

‘দেশে উৎপাদিত ফলের ২৫-৪০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে’

রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী...

 

দেশজুড়ে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

দেশজুড়ে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে...

 

‘লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা’

‘লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা’

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সেরা ফুটবলার কে, এই বিতর্কে কয়েকটি নাম ঘুরেফিরে আসে বারবার। পেলে, ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর...

 

স্টোনহেঞ্জের চেয়েও প্রাচীন স্থাপনা আবিষ্কার

স্টোনহেঞ্জের চেয়েও প্রাচীন স্থাপনা আবিষ্কার

বিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক কীর্তিমিনার স্টোনহেঞ্জের আদলে তৈরি আরো প্রাচীন একটি মেগালিথিক স্থাপনার সন্ধান পেয়েছেন...

 

হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা মমতার ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা

হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা মমতার ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাছাই করা দলনেতা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়ক...

 

রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইউক্রেন

রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইউক্রেন

গত দুই বছরের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা...

 

সড়কে ঝরল সাত প্রাণ

সড়কে ঝরল সাত প্রাণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত বীরগঞ্জ...

 

ভারি বর্ষণে ফের জলমগ্ন খুলনা

ভারি বর্ষণে ফের জলমগ্ন খুলনা

মেঘ দেখলেই আতঙ্কে ভুগছেন রূপসা, মুজগুন্নি, টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা আবাসিক, সোনাডাঙা আবাসিক, শিপইয়ার্ড, নতুন...

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই পুরনো কাঠামোতেই

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই পুরনো কাঠামোতেই

জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুসংহত একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণ এবং...

 

ফুটবল মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য

ফুটবল মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য

ফুটবলের জাদুর বাক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পুরো দুনিয়া গত ১১ জুন! আগামী ৩৯ দিন বাক্স থেকে বেরিয়ে আসার আর সুযোগ নেই। এর...

 

মিরপুর-১০-এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চাই

মিরপুর-১০-এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চাই

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যাল হলো মিরপুর-১০ গোলচত্বর। নগরের প্রায় প্রতিটি রুটের যানবাহনের যাতায়াত...

 

পরীমনির ‘প্রেমে পড়ে’ পুলিশের চাকরি হারালেন সাকলায়েন

পরীমনির ‘প্রেমে পড়ে’ পুলিশের চাকরি হারালেন সাকলায়েন

চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে অবশেষে চাকরি খোয়ালেন অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন। গতকাল...

 

বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক নিয়ে কিছু পরামর্শ

বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক নিয়ে কিছু পরামর্শ

আমরা বউমা ও শাশুড়ির প্রতি বিশেষ কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি। প্রথমে আসা যাক, শাশুড়ির প্রতি বিশেষ পরামর্শ সম্পর্কে।...

 

জুয়া-মাদক-প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
জুয়া-মাদক-প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
সংগৃহীত ছবি

দেশে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধ এবং মাদক কারবার ছড়ানো রুখতে ডগ স্কোয়াড গঠন, পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট হ্যাকিংয়ের সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর কারাদণ্ড নির্ধারণ এবং বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মোট চারটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ খসড়াগুলোর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ হওয়ায় অনলাইন ও অফলাইন নানা ধরনের জুয়া কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছে। ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস, আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধকল্পে এ সকল জুয়া কার্যক্রমের উপর সমসাময়িক উৎকর্ষিত প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে যথাযথ তত্ত্বাবধান ও আইনগত কাঠামো প্রদানপূর্বক রাষ্ট্রের সার্বিক নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • জুয়া খেলা, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর (বুকমেকার), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
  • অপরাধের প্রকৃতি ভেদে বিভিন্ন ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয়দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে। পরে মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এই আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

দেশের পাবলিক পরীক্ষাসমূহে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ প্রস্তুত এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণীত হয়। তবে, বর্তমান প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। পাবলিক পরীক্ষাসমূহে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধসমূহ এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনয়নের উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইনে সংশোধন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
  • ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
  • পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিন সভায়, ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনটির উদ্যোক্তাও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

এই আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ গত ১৫ জুলাই ২০০১ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও সেটি কার্যকর করা হয় নাই। বর্তমানে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান ইত্যাদিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, জ্ঞান চর্চা ও দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়।

একইসঙ্গে সভায় ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আইনে বলা হয়েছে- মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকল্পে ২০১৮ সালের ৬৩ নম্বর আইন ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২০)’ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমান, মাদক পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরণ মাদকসংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমে উদ্ভূত বাস্তব সমস্যাসমূহ নিরসনকল্পে আইনটির কতিপয় ধারা সংযোজন ও সংশোধন করে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • বিচারিক কার্যক্রম জোরদারকরণে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
  • সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ, অভিযান পরিচালনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
  • মাদকদ্রব্য সহজেই শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : বাসস

বায়ুদূষণে শীর্ষে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, ঢাকার অবস্থান কত | কালের কণ্ঠ