• ই-পেপার

পায়রা বন্দরকে গ্রিন পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পার্ক ও খেলার মাঠ উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সাথে ভবিষ্যতে অভিযানের মাধ্যমে খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাসস
জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি আন্দোলনে আহত সাহসী তরুণ-তরুণী ও যুবপ্রজন্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাঁদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে তিনি শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ এবং একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে নতুন মোড় ও তীব্রতা দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সূচিত হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মদান স্মরণ করিয়ে দেয় রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেন এবং ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।

জুলাই শহীদ দিবসে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই শহীদ দিবসে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যেন কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাব নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গৃহীত কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ জুলাই উপলক্ষে জারিকৃত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে র‌্যাব ফোর্সেস ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে।

এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে এলাকা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির রুটে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থল এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভসমূহের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‌্যাবের টহল কার্যক্রম দৃশ্যমান রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব বিশেষায়িত ইউনিটকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

র‌্যাব দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিলে স্থানীয় র‌্যাব টহল ইনচার্জ বা সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে অবহিত করে র‌্যাবকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রথযাত্রা উৎসব শুরু আগামীকাল, চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রথযাত্রা উৎসব শুরু আগামীকাল, চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি
সংগৃহীত ছবি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সনাতনী রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

রথযাত্রাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রথের সংস্কার, রং ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও শ্রমিকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে আনন্দমুখর পরিবেশে ৯ দিনব্যাপী শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টায় রাজধানীর স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে বেলা ৩টায় মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের হবে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রথ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছাবে।

6

রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে, হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনাসভা, শোভাযাত্রা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়ন।

রথযাত্রা উপলক্ষে দুপুর ১টায় আলোচনাসভা শেষে বিকেল ৩টায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হবে। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন।

জানা যায়, রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। পরে ২৫ জুলাই বিকেলে একই পথে উল্টো রথের শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।

সরকার, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে রথযাত্রা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।

ধামরাইয়ে সাজছে ঐতিহ্যবাহী রথ

ঢাকার ধামরাইয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ধামরাই বাজারের রথখোলা এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত রথ টানার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হবে। ২৪ জুলাই উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। রথযাত্রাকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে এক মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা বসবে।

প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে ধামরাইয়ের জমিদার শ্রী যশোপাল একদিন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ঢিবির সামনে এসে তার হাতি থেমে যায়। পরে ঢিবি খনন করে একটি মন্দির ও কয়েকটি দেবমূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রাতে স্বপ্নে মাধব দেবতার নির্দেশ পান তিনি। এরপর নিজের নামের সঙ্গে ‘মাধব’ যুক্ত করে যশোমাধব নাম গ্রহণ করেন এবং ওই সময় থেকেই যশোমাধবের পূজা ও রথযাত্রার সূচনা হয়। সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে।

5

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলা ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সাটুরিয়ার বালিয়াটির জমিদাররা বংশানুক্রমে এখানে চারটি রথ নির্মাণ করেন। ১৩৪৪ খ্রিষ্টাব্দে নারায়ণগঞ্জের স্বর্গীয় সূর্যনারায়ণ সাহার তত্ত্বাবধানে এক বছর সময় নিয়ে একটি রথ নির্মিত হয়। ধামরাই, কালিয়াকৈর, সাটুরিয়া ও সিঙ্গাইরের কাঠশিল্পীরা যৌথভাবে ৬০ ফুট উচ্চতার ত্রিতলবিশিষ্ট রথটি নির্মাণ করেছিলেন। পরে বালিয়াটির জমিদাররা এলাকা ছেড়ে গেলে রথের দেখভালের দায়িত্ব নেয় টাঙ্গাইলের রণদাপ্রসাদ সাহার পরিবার।

২০১০ সালে পুরোনো রথের আদলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রথ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪০ জন শিল্পী ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কাজ করে ৩৭ ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট প্রস্থের কারুকার্যমণ্ডিত রথটি তৈরি করেন। লোহার কাঠামোর ওপর সেগুন ও চাম্বল কাঠ বসিয়ে খোদাই করা এ রথে রয়েছে ১৫টি লোহার চাকা। সামনে রয়েছে কাঠের তৈরি দুটি ঘোড়া ও একজন সারথির অবয়ব। বিভিন্ন স্তরে স্থাপন করা হয়েছে কাঠের তৈরি দেব-দেবীর মূর্তি।

রথটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, সারা বছর খোলা আকাশের নিচে থাকায় রথের রং কিছুটা মলিন হয়ে যায়। তাই প্রতি বছর রথযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার, রং ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। এরপর এই রথেই অনুষ্ঠিত হয় ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা।

পায়রা বন্দরকে গ্রিন পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : নৌপরিবহন উপদেষ্টা | কালের কণ্ঠ