• ই-পেপার

অশ্লীল ভিডিওর আগে ‘আ. লীগ জিন্দাবাদ’ ভেসে উঠেছিল কমলাপুরের স্ক্রিনে

বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা, বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা চূড়ান্তে বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা, বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা চূড়ান্তে বৈঠক

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে। নতুব এই পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন। 

বাজেট প্রস্তাব পেশের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কোনো পে স্কেল হচ্ছে না অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের কোনো বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না। কিন্তু জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। তাই আমরা অবশ্যই এ দিকটা দেখব।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাবনা এবং সশস্ত্রবাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা আর পৃথকভাবে বহাল থাকবে না বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরতরা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পান।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে ১০ম ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে ৩৫ শতাংশ। আর ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ। ফলে বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা।

মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান

বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট ক্রমশ গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) ২০২৬ সালের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানবিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।

একই দিনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নেতৃত্ব ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ক্রমবর্ধমান মানবিক অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

১৮ জুন প্রতিমন্ত্রী ইকোসকের ২০২৬ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের হাই-লেভেল প্যানেল ডিসকাশন-২-এ অংশ নেবেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএন উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

কাঁঠালে তৈরি হচ্ছে শিঙাড়া-সমুচা-কাবাব, রপ্তানির আশা মন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
কাঁঠালে তৈরি হচ্ছে শিঙাড়া-সমুচা-কাবাব, রপ্তানির আশা মন্ত্রীর
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

দেশে কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুচা এবং কাবাব তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, 'এই কাঁঠালের কাবাব বা সবজির ফুড ভ্যালু হাই। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ যোগাযোগ করেছে আমাদের থেকে কাঁঠাল নিয়ে এ ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য।'

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আম-আনারস-কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। এই বছর কাঁঠাল রপ্তানি আরো অনেক বেড়ে যাবে। আমরা চায়নার সঙ্গে একটা কন্ট্রাক্টে আসছি।

আগামী দিনে বাংলাদেশ ফল রপ্তানিতে সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষির বরাদ্দ কমেনি, বরং আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর বাইরে প্রণোদনা ও উন্নয়ন বাজেটও রয়েছে। যারা বরাদ্দ কমেছে বলে বলছেন, তারা হয়তো সঠিক হিসাব করেননি।

পানি নিরাপত্তায় ব্যাপক পরিকল্পনা

নদী পুনরুদ্ধার, খাল খনন ও বন্যা সুরক্ষায় জোর

বাসস
নদী পুনরুদ্ধার, খাল খনন ও বন্যা সুরক্ষায় জোর

বাজেটে জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পানি নিরাপত্তাকে। নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল খনন এবং বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানি সম্পদ খাতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দের ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে দেশের নদী, সেচব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলমান সাতটি প্রকল্পের আওতায় ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মোগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বড়নাই—এই আটটি নদী থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে। তথ্যনির্ভর শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর জন্য ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (ডব্লিউকিউআই) বা পানির গুণগত মান সূচক প্রণয়ন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে নদীর স্বাস্থ্য আরো নিয়মতান্ত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপ লার্নিংভিত্তিক ভূগর্ভস্থ পানির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়া যাবে, যা পানি সংরক্ষণ ও টেকসই উত্তোলন বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ‘নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ উদ্যোগটি আগামী পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও ড্রেনেজ চ্যানেল খননের বৃহত্তর সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত। শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৬৮০ কিলোমিটার খাল, সেচখাল ও নিষ্কাশন খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশের খাল শনাক্তকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং জিও-ইনফরমেটিক্স ডেটাবেজ উন্নয়ন’ নামে একটি বড় প্রকল্পের আওতায় দেশের সব খালের মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং জিআইএসভিত্তিক খাল নেটওয়ার্ক ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশের জলপথের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তালিকা তৈরি হবে।

আগামী অর্থবছরে ব্যাপক বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৩০৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮৪ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি এবং ডুবোচর অপসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে সরকারের চলমান ‘বন্যা সুরক্ষায় ১৮০ দিনের কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ২৯২ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে।

পানিসম্পদ খাতের বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদ্য অনুমোদিত ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ আগামী জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মার পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবনসহ পুরো পদ্মা অববাহিকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে। এছাড়া পাঁচটি শাখা ও উপনদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে। ২৮ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া যাবে। বছরে ধান উৎপাদন ২ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মাছ উৎপাদন ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন বাড়বে।

সরকার আশা করছে, চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার বাসিন্দারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এ প্রকল্পের সুফল পাবেন। এতে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা ও পদ্মা নদীর উজানে নির্মিত বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে কৃষি, সেচ, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকার ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। উন্নত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও জীবিকা উন্নত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে পানি নিরাপত্তার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

নদী দখলমুক্তকরণ, ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং পদ্মা ব্যারাজের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি, কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পরিবেশগত সহনশীলতা জোরদারের একটি সমন্বিত কৌশল তুলে ধরা হয়েছে এ বাজেটে।