• ই-পেপার

দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ আর নেই

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

‘পেট প্রজেক্ট’ নয় সরকার ‘ই-হেলথ কার্ডে’ জোর দিচ্ছে

বাসস
‘পেট প্রজেক্ট’ নয় সরকার ‘ই-হেলথ কার্ডে’ জোর দিচ্ছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, প্রথাগত বড় বড় বিল্ডিং বা অবকাঠামো নির্মাণের ‘পেট প্রজেক্ট’ থেকে বের হয়ে বর্তমান সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর মতো প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্য খাত গড়তে বদ্ধপরিকর।

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অর্থবছর ২০২৬-২০২৭ : স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর নাগরিক সমাজের ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই স্বাস্থ্য খাতের মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল থেকে শুরু করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইনস্টিটিউট সবখানেই অর্ধেক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চিকিৎসক গায়েব। ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলে পাওয়া যায় ৫ জনকে। ২০ জন ক্লিনার থাকার কথা থাকলেও আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলো ভুয়া ক্লিনার দেখিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে। হাসপাতালের গেটে পা রাখতেই সাধারণ মানুষ দালাল-বাটপার ও আউটসোর্সিং স্টাফদের খপ্পরে পড়ে হেনস্থার শিকার হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের সমালোচনা করে ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা শুধু জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর দিকো (ফায়ার ফাইটিং) নজর দিয়েছি, ঠান্ডা মাথায় দীর্ঘমেয়াদি পলিসি তৈরির সুযোগ হচ্ছে না। সিভিল সার্জনরা তাদের আগের দাপট ও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ না করে সব ফাইল ডিজি হেলথ ও মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় এনে স্তূপ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ৮০ শতাংশ মানুষ এখন ভুল কাজে ব্যস্ত।’ 

এই অচলাবস্থা কাটাতে একটি নতুন প্রজন্মের সিভিল সার্জন তৈরির তাগিদ দেন তিনি।

মন্ত্রী-সচিবদের এলাকায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ পাইলটিং করার নেতিবাচক সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, মন্ত্রী বা সচিবদের এলাকায় পাইলটিং করা হচ্ছে, যেন শতভাগ তদারকি নিশ্চিত করে দ্রুত লার্নিং নেওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তা নিখুঁতভাবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

অর্থনৈতিক ও মেধার সক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আর্থিকভাবে আমাদের আর অনুদান নির্ভর বা পরমুখাপেক্ষী দেশ হিসেবে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজস্ব অর্থ ও জনবল বিশেষজ্ঞদের ৩০-৫০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখে তিনি বিস্ময় দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

কক্সবাজারে ১৯৭ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী

বাসস
কক্সবাজারে ১৯৭ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ব্যতিক্রমী এক সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে পুরো সফরজুড়ে নিজেই ১৯৭ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছেন।

গত শনিবার কক্সবাজারে সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন স্পট ঘুরে ঘুরে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করেন। এ তথ্য জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকেই সফর শুরু করেন। প্রাকৃতিক দুযোর্গের মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যান পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে।’

‘কর্মসূচি শেষে আবারও স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে রওনা হন ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে। এমনিভাবে কক্সবাজারের দিনব্যাপী সব কর্মসূচিতেই নিজেই গাড়ি চালিয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘এ সময় সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মী তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমান। অনেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আর প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।’

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে সামনে আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পেছনের আসনে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী হাসিনা আহমদ বসেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও নিজে গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। কক্সবাজারের মনোরম পরিবেশে এই সফর হয়ে ওঠে কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ২০২৪ সালে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে গাড়ি ড্রাইভ করেছেন। তবে এতো দীর্ঘ পথে তারেক রহমানের ড্রাইভ এই প্রথম।

নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ফাইল ছবি

ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল রবিবার (১৪ জুন) তিনি ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি ফেরত আসেন। উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর জাহেদ উর রহমানকে ভারতের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ যথাযথ না হওয়ায়, উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ভারত থেকে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করেন। এরপর যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আটক করা হয়।

সূত্রটি নিউজ১৮-কে জানায়, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা তাকে ছাড়পত্র দেন। 

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান

তাদের কথা কেউ ভাবে না। পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় ছাড়া তাদের কাছে কেউ যায় না। কেউ তাদের কষ্টের কথা শোনে না। আপন মানুষের মতো বলে না আমি তোমাদেরই লোক। বাংলাদেশের বিপুল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এভাবেই অনাদরে, অবহেলায় বেঁচে থাকে। তাদের বিপদে, দুঃখ-কষ্টে কেউ পাশে থাকে না। অথচ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ দেশের মালিক তারাই। নীরবে এরা ফসল ফলিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এরা কষ্ট করে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে। এই অবহেলিত মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আসে শুধু প্রয়োজনে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের কাছে গেছেন, তাদের কথা শুনেছেন। এখন এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটেছে। তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের আপনজন, কাছের মানুষ। তারেক রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান অপরিসীম। তারা সেদিন জীবন দিয়ে মাতৃভূমি মুক্ত করেছিল এই আশায় যে, স্বাধীন দেশে তারা মানুষের অধিকার পাবে, পাবে মানবিক মর্যাদা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই তারা যেন অনাহূতই রয়ে যায়। তাদের জীবনে প্রথম আশার আলো দেখা যায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর। জিয়া রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়ান তিনি। যেখানে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তো দূরের কথা, জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত যাননি, সেখানে যান শহীদ জিয়া। রাষ্টীয় প্রটোকল ছিন্ন করে সরাসরি তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছান। তাদের কথা শোনেন। জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দেন। তাদের চাওয়া-পাওয়া শুনে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে শহরকেন্দ্রিক রাখেননি; তিনি গ্রামবাংলাকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি গ্রামে। তাই গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল খনন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে (১৯৭৭-১৯৮১) বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সফর এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এ সফরগুলো মূলত ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ এবং ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত ছিল। জিয়াউর রহমান সারা দেশে ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে, কোদাল হাতে খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন, যা ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় উদ্যোগ। তিনি উঁচুতলার রাজনীতির পরিবর্তে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে যেতেন এবং বাজেট বা নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদারকি করতেন। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আবারও অবহেলিত হয়ে পড়ে। গ্রামীণ জনপদের মানুষ একজন আপনজন, বিশ্বস্ত বন্ধু হারায়।

ঠিক ৪৫ বছর পর প্রান্তিক মানুষ যেন আবার একজন আপনজন পেয়েছে, বন্ধু পেয়েছে। তাঁর নাম তারেক রহমান। যিনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি যাচ্ছেন। তাদের কথা শুনছেন। তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। এর ফলে বদলে যাচ্ছে রাজনীতি। তৃণমূলের কণ্ঠস্বর ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এমনটা নয় যে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তারেক রহমান রাজনীতি শুরুই করেছিলেন তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তারেক রহমান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক নতুন ধারা সূচনা করেন। এসি কক্ষকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কৃষকের সমস্যা শোনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার এ উদ্যোগ বিএনপিকে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল থেকে তৃণমূলবান্ধব রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করতে সহায়ক হয়। এ সময়েই তারেক রহমানের রাজনীতির ভিত্তি শক্তভাবে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করেই দল পরিচালনা শুরু করেন। স্কাইপ ও জুমসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। এ সময় তিনি নেতাদের চেয়ে একেবারে তৃণমূলের কর্মীদের কথা বেশি শুনতেন। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। ফলে তিনি সাংগঠনিক বিষয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতেন, যা তৃণমূলকে উজ্জীবিত করত। বিগত ১৭ বছরে সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের পরও বিএনপি যে আরও শক্তিশালী হয়েছে তার প্রধান কারণ তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান তার পিতা শহীদ জিয়ার মতোই সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। সরকার পরিচালনা, সংসদের কার্যক্রমের অবসরে যখনই তিনি সুযোগ পাচ্ছেন ছুটে যাচ্ছেন একেবারে তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের পাশে। তাদের কথা শুনছেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও, ঠাকুরগাঁও থেকে চাঁদপুর অবহেলিত জনপদের মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ জিয়ার মতো তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তৃণমূল পেয়েছে তাদের আপনজন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ আর নেই | কালের কণ্ঠ