• ই-পেপার

বেনজীর এখন অস্ট্রেলিয়ায়

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজের পছন্দের দলের নাম সরাসরি না জানালেও কোন দলকে সমর্থন করেন সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে দুপুরে খাবার গ্রহণ শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

এ সময় সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কৌতূহলী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপ চলছে। আপনি কোন দলের সমর্থক, আমরা সবাই জানতে চাই।’ 
সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বেশ রসাত্মক ও কৌশলী উত্তর দেন। তিনি সরাসরি কোনো দলের নাম উচ্চারণ না করে মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি একটা দেশে দীর্ঘদিন ছিলাম। এবার বুঝে নেন কোন দলের সমর্থক।’

বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মেয়াদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্তির পর তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রবাস জীবন শুরু করেন। বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে আইনি ও রাজনৈতিক নানা জটিলতায় তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন পেরিয়ে অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যেহেতু জীবনের এক সুদীর্ঘ সময় এবং প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন, তাই ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতি ও দলটির প্রতি তার একটি বিশেষ ভালোলাগা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফুটবলপ্রেমীদের মতে, প্রধানমন্ত্রী যে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে হ্যারি কেনদের ‘থ্রি লায়নস’ খ্যাত ইংল্যান্ড দলকেই মনেপ্রাণে সমর্থন করছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে : এলজিআরডিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে : এলজিআরডিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সকল তথ্য জানান তিনি। 

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাজেটের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরো জানান, নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেবে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন, বিদ্যমান পাম্প স্টেশন পরিচালনা, ক্যাচপিট ও গ্রেটিংস স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকটি বড় খালের উন্নয়ন কাজ চলছে। জিয়া সরণী ও শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণ এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জিয়া সরণী, কাজলা ও মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন, অতিরিক্ত আউটলেট ও পাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার। তিনি জানান, আধুনিক কেমিক্যাল পদ্ধতিতে পানি পরিশোধনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ থেকে ৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার আধুনিক হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার আধুনিক হচ্ছে : মির্জা ফখরুল
সংগৃহীত ছবি

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো আরো আধুনিক ও কার্যকর সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে জনসেবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩) উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইসিটি বিভাগের আওতাধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক ও আরো কার্যকর সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে।’

তিনি জানান, ইতিমধ্যে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ডিজিটালভাবে গ্রহণ করতে পারছেন।

মন্ত্রী আরো জানান, ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা দক্ষ ও অনুপ্রাণিত থাকেন।

মন্ত্রী আরো জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী সেবা ডেস্কে কাজ করা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স উত্তোলন ও পুনঃএকত্রীকরণ সেবা পাবেন।

এ ছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘স্কিলস ফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭৭ জন উদ্যোক্তা ডিজিটাল কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, সরকারের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো— প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

বিআরটিএর ভুয়া ওয়েবসাইট দিয়ে মামলা ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক
বিআরটিএর ভুয়া ওয়েবসাইট দিয়ে মামলা ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

বিআরটিএর ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা আদায়ের নামে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অফিসের ব্যস্ততা কিংবা দিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস ‘আপনার গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে, জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সঙ্গে দেওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের মতো দেখতে একটি ভুয়া লিংক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে এমন বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাংক হিসাব খালি করে আসছিল এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

গ্রেফতাররা হলেন মো. রাব্বি শেখ (২৪), মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১)। গতকাল সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) পৃথক অভিযানে প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান এসব তথ্য জানান।

সানা শামিনুর রহমান বলেন, ডিএমপির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র এটি কাজে লাগিয়ে প্রতারণা শুরু করে। চক্রটি বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের অনুরূপ একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছিল।

প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানাত ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করায় মামলা হয়েছে। এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীদের বিআরটিএর ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হতো। সেখানে জরিমানা পরিশোধের কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করত প্রতারকরা। এমনকি দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে এমন প্রলোভনও দেখানো হতো।

ওটিপি সংগ্রহের পর প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতেন। এভাবে গ্রেফতার তিন আসামি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আভিযানিক দল প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন, প্রথমে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকা থেকে রাব্বি শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর সদর এলাকা থেকে রিয়াদ হোসেনকে এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক ভুক্তভোগী তার মোবাইল ফোনে বিআরটিএর নামে জরিমানাসংক্রান্ত একটি এসএমএস পান। এসএমএসে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করলে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে বলেও উল্লেখ ছিল।

বিষয়টি সত্য মনে করে তিনি জরিমানা পরিশোধের জন্য ভুয়া অনলাইন পেমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করেন। সেখানে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য ও ওটিপি প্রদান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান জরিমানা পরিশোধ না হয়ে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরে একই ধরনের আরো দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি ভুয়া ট্রাফিক মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মানুষের ব্যাংক কার্ড, অ্যাকাউন্ট ও ওটিপি তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করছিল।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ধারায় মামলা করা হয়েছে। ডিএমপির এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যেসব ট্রাফিক মামলা করা হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। ডিএমপির পক্ষ থেকে ম্যানুয়ালি ঠিকানায় নোটিশ/চিঠি পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে শুধু ইউসিবি ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। ট্রাফিক জরিমানার নামে কেউ মোবাইলে এসএমএস, ফোনকল বা অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্য চাইলে সেটি প্রতারণা হতে পারে।

সিআইডি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করে ব্যাংক তথ্য, কার্ড নম্বর বা ওটিপি দেওয়া যাবে না।