• ই-পেপার

দুপুরের পর আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় রিমাল

  • ► বন্দরে ৬ ও ৭ নং বিপৎসংকেত ► সকালে জারি হতে পারে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : জামায়াত এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : জামায়াত এমপি

জাতীয় সংসদে ঢোকার পর মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায় বলে জানিয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে বিধি করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে। গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

এ সময় অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি রুলস অব প্রসিডিউর দেখব। সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কেউ সালাম দেবেন, কেউ ইয়ে করবে। সারা পৃথিবীতে আছে। তারপরও আমি দেখব, যে বিগত সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে কিনা? এটা দেখে পরে আমি সিদ্ধান্ত জানাব।

এরআগে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালিবিধিতে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার কথা। এটা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে, সেখানে আমিও ছিলাম অতিথি। শেষ পর্যন্ত একটা সংশোধনীর ভেতরে আছে, সেটা হচ্ছে ঝুঁকিয়ে মাথা সম্মান প্রদর্শন করার ব্যাপারটা। এটা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায়। সেজন্য এটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকারের উদ্দেশে মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করি সুন্দরভাবে আপনি সালাম দেন, আমরাও জবাবে সালাম দিই। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, এরকম করে একটু ওই আগের ঝুঁকুনিটা এখনো আছে। আপনারাও আছেন, ডেপুটি স্পিকারও আছে। সেজন্য আমি অনুরোধ করি কার্যপ্রণালিবিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে বিধি করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে। গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে।

এমপি মজিবুর রহমানের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তিনি বলেন, মজিবুর রহমান সাহেব যেটা বলেছেন, সেটা ভ্যালিড। তিনি দেখেছেন যে আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি। এটা তার পছন্দ হয়নি। তিনি এটিকে সংসদের রীতির খেলাপ বলে মনে করেন। সে কারণেই তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
 

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজের পছন্দের দলের নাম সরাসরি না জানালেও কোন দলকে সমর্থন করেন সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে দুপুরে খাবার গ্রহণ শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

এ সময় সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কৌতূহলী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপ চলছে। আপনি কোন দলের সমর্থক, আমরা সবাই জানতে চাই।’ 
সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বেশ রসাত্মক ও কৌশলী উত্তর দেন। তিনি সরাসরি কোনো দলের নাম উচ্চারণ না করে মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি একটা দেশে দীর্ঘদিন ছিলাম। এবার বুঝে নেন কোন দলের সমর্থক।’

বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মেয়াদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্তির পর তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রবাস জীবন শুরু করেন। বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে আইনি ও রাজনৈতিক নানা জটিলতায় তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন পেরিয়ে অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যেহেতু জীবনের এক সুদীর্ঘ সময় এবং প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন, তাই ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতি ও দলটির প্রতি তার একটি বিশেষ ভালোলাগা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফুটবলপ্রেমীদের মতে, প্রধানমন্ত্রী যে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে হ্যারি কেনদের ‘থ্রি লায়নস’ খ্যাত ইংল্যান্ড দলকেই মনেপ্রাণে সমর্থন করছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে : এলজিআরডিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে : এলজিআরডিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সকল তথ্য জানান তিনি। 

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাজেটের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরো জানান, নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেবে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন, বিদ্যমান পাম্প স্টেশন পরিচালনা, ক্যাচপিট ও গ্রেটিংস স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকটি বড় খালের উন্নয়ন কাজ চলছে। জিয়া সরণী ও শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণ এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জিয়া সরণী, কাজলা ও মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন, অতিরিক্ত আউটলেট ও পাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার। তিনি জানান, আধুনিক কেমিক্যাল পদ্ধতিতে পানি পরিশোধনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ থেকে ৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার আধুনিক হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার আধুনিক হচ্ছে : মির্জা ফখরুল
সংগৃহীত ছবি

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো আরো আধুনিক ও কার্যকর সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে জনসেবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩) উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আইসিটি বিভাগের আওতাধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক ও আরো কার্যকর সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে।’

তিনি জানান, ইতিমধ্যে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ডিজিটালভাবে গ্রহণ করতে পারছেন।

মন্ত্রী আরো জানান, ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা দক্ষ ও অনুপ্রাণিত থাকেন।

মন্ত্রী আরো জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী সেবা ডেস্কে কাজ করা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স উত্তোলন ও পুনঃএকত্রীকরণ সেবা পাবেন।

এ ছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘স্কিলস ফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭৭ জন উদ্যোক্তা ডিজিটাল কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, সরকারের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো— প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।