• ই-পেপার

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা

মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে মামুনুল হকের অতীতের একটি ঘটনা উল্লেখ করলে সরকারি ও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু আশফাক বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার সমালোচনা করেন এবং পরে মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়া হলেও অতীতে আলোচিত কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি মামুনুল হককে ঘিরে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আনা সমীচীন নয়। বিশেষ করে এমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা মন্তব্য করা ঠিক নয়, যার সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা না করাই ভালো।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, মামুনুল হক সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। যেহেতু তিনি সংসদে উপস্থিত নেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নেই, তাই বিষয়টি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে ভুল তথ্য সংসদের রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।

এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় ও অপ্রাসঙ্গিক অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সবার বক্তব্য শোনার পর স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আলোচিত বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে রাখার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিজীবনের বিতর্কিত বিষয় এখানে আলোচিত হোক, তা আমি চাই না। এ ধরনের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা সংসদের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তা জনস্বার্থেও প্রয়োজনীয় নয়।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী শরিয়াহর আলোচনায় অতীতে যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গই বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ ‘জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে দৃঢ় অবস্থানে কোস্ট গার্ড : ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে দৃঢ় অবস্থানে কোস্ট গার্ড : ডিজি

সুন্দরবনে দস্যুতা দমন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়াউল হক বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বনদস্যুতা সম্পূর্ণরূপে দমনে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপনের ফলে দস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় একদল দুর্বৃত্তের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। এটি শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।

ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রভাবিত না হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা : মাহদী আমিন
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এবার ২২ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। সরকারের লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ শিক্ষার্থী যেন পরবর্তী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে সারা দেশব্যাপী ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ এর ভেতরে অংশগ্রহণ করে। 

তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের  ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক গোল্ড ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন, সে অনুযায়ী আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের বাইরেও সৃজনশীল এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলের যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ে তাঁদের মাধ্যমে কিন্তু আমরা একটা বিপ্লব সৃষ্টি করেছি ক্রীড়া ক্ষেত্রে। অনেকেই সেভাবে লক্ষ্য করেননি যে এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লখের বেশি ছাত্রী ৬৫,৩৪২ স্কুল থেকে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রায় ১১ লক্ষের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী, তাঁরা গ্রাম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছেন।

 সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদেরকে আহবান জানাবো এই শিশুদের যে স্পোর্টস পার্টিসিপেশন রয়েছে সেটাকে এনকারেজ করার জন্য।মিডিয়া থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে তাঁদেরকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবেন। শিশুরা যখন দেখবে এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার কারণে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, আপনারা তাঁদেরকে ফিচার করছেন, হাইলাইট করছেন স্বাভাবিকভাবেই তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। প্রথম বছরে আমরা  ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। চলমান এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আমরা এই সংখ্যাটাকে অনেক বাড়াতে পারবো।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী  আমাদের মূল উদ্দেশ্য যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, তাদেরকে যেন বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারি। রিয়েল ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেক্টিভিটি থাকবে। আরো বেশি ইন্টার্নশিপ এবং এপ্রেন্টিসশিপ থাকবে। বিশেষত প্রাইমারি স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ফোর থেকে দুইটা নতুন সাবজেক্ট ইন্ট্রোডিউস করছি। একটা সাবজেক্টের নাম হচ্ছে স্পোর্টস, আরেকটা সাবজেক্ট হচ্ছে কালচার। অর্থাৎ শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া এই তিনের সমন্বয়েই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে তাদের ভেতরে টিম স্কিল ডেভেলপ করবে, ডিসিপ্লিন ডেভেলপ করবে, ইন্টারপার্সোনাল এবং ট্রান্সফারেবল স্কিল ডেভেলপ করবে।

তিনি বলেন, ক্লাস সিক্স থেকে আমরা আরো দুটি নতুন সাবজেক্ট শুরু করতে চাইছি। আগামী শিক্ষাবর্ষে একটা "লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস" অর্থাৎ একটা আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ক্লাসে জোর করে পড়ানো হবে না। পুথিগত শিক্ষাকে পেরিয়ে একসাথে আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে বিদ্যা অর্জন করবে এবং আরেকটা কোর্স শুরু করতে যাচ্ছি আমরা। সেটা হচ্ছে "টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন"। সেটা এই মুহূর্তে আছে কিন্তু প্রত্যেকের জন্য ম্যান্ডেটরি না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস সিক্স থেকে সবার জন্য প্রাথমিকভাবে থিওরিটিক্যালি এবং এইট অনওয়ার্ড অবশ্যই প্রত্যেকটা স্কুলে যখন ধারাবাহিকভাবে আমরা ল্যাব স্থাপন করতে পারি এবং টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশন বা কারিগরি শিক্ষার যেন সকল শিক্ষার্থী এনজয় করতে পারে, প্রাক্টিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে সে ধরনের একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আরেকটা লক্ষ্য রয়েছে যার প্রতিফলন হিসেবে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েল্ভ পর্যন্ত আমরা স্টার্ট-আপ সাইন্স, প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং এর একটা কম্পিটিশন আয়োজন করছি। ইতিমধ্যে এখানে আমরা দেখেছি ১২,০০০ টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২,০০০ টিমের প্রত্যেকটাতে তিনজন করে স্টুডেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৩৬,০০০ স্টুডেন্ট এবং দুইজন করে টিচার অর্থাৎ প্রায় ২৪,০০০ টিচার এখানে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোক্তামূলক চিন্তাভাবনা কি কি রয়েছে, খুব ভালো বৈজ্ঞানিক কি ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা চেষ্টা করছি যে, কিভাবে কমার্শিয়ালাইজ করতে পারি? ফান্ডিং প্রোভাইড করতে পারি? তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে পারি।

তিনি বলেন, এখানে যে ফাইনাল হবে, সেটা এই মাসের ২৯ তারিখে সে অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। এবং সেখানে ১০০ টি টিম থাকবে এবং ১০০ টি টিমকে উনি পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবেন, স্বীকৃতি দিবেন, বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন। সেই একই অনুষ্ঠানে কিন্তু আমরা একসাথে দেশ জুড়ে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছি এবং আমাদের সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৯,৬৩১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে একটি বড় অংশ ভার্চুয়ালি থাকবে এবং ফিজিক্যালি প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন প্রসঙ্গে তার এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে প্রণীত যে ইশতেহার রয়েছে, সেখানে জাতি বিনির্মাণের জন্য যে ইতিবাচক উদ্যোগগুলো রয়েছে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি, গণশিক্ষা কার্যক্রম, শিশু কিশোরদের পাশে থাকা -এ ধরনের বহুমুখী উদ্যোগে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে সম্পৃক্ত করতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ তোমরাই গড়ে তুলবে সুতরাং আমাদের এই ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা যেন মানবিক, মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং বলিষ্ঠ নৈতিক চরিত্র ছোটবেলা থেকে শিক্ষণ পায়, সেজন্যই শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন গুলো নিয়ে আসছি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম তথা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস, স্পোর্টস এবং কালচারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, শহর এবং গ্রামের মাঝে শিক্ষার যে পার্থক্য, বিভেদ বা বৈষম্য রয়েছে সেটি কমে আসবে।  প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, তিনি সার্টিফিকেট নির্ভর কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যার মাধ্যমে আমাদের শিশু-কিশোর, তরুণ- তরুণীদের মাঝে আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী হিসেবে নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে, সামাজিকতা, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা গড়ে উঠবে। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি চান যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতরে আমরা ডিসিপ্লিন, ইন্টিগ্রিটি, ভ্যালুজ, প্রিন্সিপালস এগুলো তৈরি করতে পারব। যার লক্ষ্য হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি যে দেশের প্রতিটি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এগুলোতে প্রাধান্য দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, একই সাথে দেশজুড়ে স্পোর্টস এবং কালচারের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার মিশ্রণ পাঠাচ্ছি। আমরা একদম তৃণমূলের গ্রামীণ স্কুল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দেশব্যাপী কম্পিটিশন শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য বিতর্ক, সাইন্স ফেস্টিভাল, এন্টারপ্রেনারশীপ বিভিন্ন ধরনের ইনোভেটিভ আইডিয়াকে নিয়ে এবং স্পোর্টসের বিভিন্ন ধারা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেন সে ধরনের সৃজনশীলতা ভূমি প্রকাশ করাতে পারি। স্টুডেন্টদের জন্য আমরা ইতিমধ্যে "নতুন কুঁড়ি" শুরু করেছি স্পোর্টসের জন্য, কালচারের জন্য, সামনে ইনশাল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শুরু হবে।

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা | কালের কণ্ঠ