• ই-পেপার

গৃহকর্মীর মৃত্যু

ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক ও স্ত্রীর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বিমানবাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু, আকাশপথে ছিটানো হবে সীডবল

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু, আকাশপথে ছিটানো হবে সীডবল
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ শুরু করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিমান বাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শনিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ মহাকর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিমান বাহিনী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এ কর্মসূচির আওতায় বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, ইউনিট এবং বিমান বাহিনী পরিচালিত স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গুণসম্পন্ন গাছের চারা রোপণ করা হবে।

এর পাশাপাশি বনায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে ‘সীডবল’ (বীজ সমৃদ্ধ মাটির বল) নিক্ষেপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিমান বাহিনী সূত্র জানায়, এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলে সফলভাবে হেলিকপ্টার থেকে সীডবল নিক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় বিমান সদর দপ্তরের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকল্পের স্কিমগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্নের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকল্পের স্কিমগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্নের নির্দেশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব উন্নয়ন প্রকল্প সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে বলে ‍জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান । তিনি বলেন, ‘একটি স্কিমের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। তাই জনস্বার্থ ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় নীতিমালার আওতায় যথাযথ প্রকল্প নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির প্রকল্প অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সচিব বলেন, বাজেটের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকৃত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করলে কাজের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অসংখ্য আবেদনের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সঠিক স্কিম নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি শহরের কেন্দ্রীয় বাজারে মাছ, মাংস ও সবজি মার্কেট সম্প্রসারণ ও সংস্কার, খাগড়াছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ, খাগড়াছড়ি ইংলিশ ভয়েস স্কুল প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং দুঃস্থ নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গবাদিপশু বিতরণ কর্মসূচি।

বাজার আধুনিকায়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাগড়াছড়ি ইংলিশ ভয়েস স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য। এছাড়া আটটি বৌদ্ধ বিহারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ব্যয় হবে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। দুঃস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে মহিলা সমিতির মাধ্যমে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে গরু, ছাগল ও শুকর বিতরণ করা হবে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, উপসচিব মোহাম্মদ সামছুল হক, উপসচিব মো. সালাহ্উদ্দীন এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পরিকল্পনা বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেন।

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাসস
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : পিএমও

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পরিবেশগত সমস্যা সমাধান এবং প্রকল্পের নকশায় টেকসই জ্বালানি সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়।

সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। 

মোট প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহকে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

তিনি আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।

একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিশোধনের পর শোধিত পানি যেন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা হয়।

তিনি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রকল্প নকশায় কোনো পরিবেশগত ঘাটতি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এছাড়া প্রকল্পে সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনেরও নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এসব পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয় : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয় : স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী বিধি ও সংবিধান অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদেরবাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলার পর স্পিকার রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলার পর স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনাকালে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চলে কার্যপ্রণালী বিধি ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যেরই সমান অধিকার রয়েছে। তবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট আইন-কানুন ও বিধির আওতায়।’

পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার কম গ্রহণ করা হয়, কারণ এ সময় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিতে হয়।’

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের তোলা একটি প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘মুজিবুর রহমান দেখেছেন আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা তার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।’ 

সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি আপনার সেন্টিমেন্টের প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। সুতরাং, ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইল।’

সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার আরো মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল চলমান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।