• ই-পেপার

ভোক্তা অধিকারের আশঙ্কা

মসলার দাম ৫০% বেড়েছে, রোজায় আরো ভোগাতে পারে

জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু করবে সরকার। একই সঙ্গে সারা দেশে ‘মিড ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু এবং পাঠদানকে আধুনিক করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

সোমবার (১৫ মে) মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু লেখাপড়া করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিক করে গড়তে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলামের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শিক্ষাব্যবস্থায় গতি ফেরানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সেশনজট কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই স্কুলগুলোতে নতুন পরিমার্জিত ও সংশোধিত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে।’

দেশের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে। এই লক্ষ্যেই বাজেটে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় এবার ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কুইজ, কাবিং ও বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছে ৪০০ জন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়নি : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়নি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি। সে জন্য অবশ্যই বিগত দিনের সরকারগুলোকে এর দায় বহন করা উচিত।’

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডের তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলনকক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস’ স্মরণে ও ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে আয়নায় আমরা চেহারা দেখি, তা যত নিখুঁত হবে, তত বেশি পরিষ্কার চেহারা আমরা দেখতে পাব। গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। গণমাধ্যমকে অবশ্যই নিখুঁত হতে হবে। গণমাধ্যমকে নিখুঁত করে গড়ে তোলা ও নিখুঁত রাখার দায়িত্বও গণমাধ্যমকে পালন করতে হবে। একজন সংবাদপত্র পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, অতীতে এসংক্রান্ত যত যাবতীয় উদ্যোগ কিছুটা ছিল আংশিক। যেহেতু তা কখনো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এবং কোনো কাঠামোবদ্ধ হয়নি, সে কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি। অবশ্যই বিগত দিনের সরকারগুলোকে এর দায় বহন করা উচিত। বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি প্রেস কমিশন গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ কখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে ওই ধরন মাথায় রেখেই সাবেক একজন বিজ্ঞ বিচারপতির নেতৃত্বে এই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই কমিশনে তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সংবাদপত্রগুলোর বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি থাকতে পারেন। এই কমিশন মিডিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দেবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও নির্ধারণ করবে। এই কমিশন নীতি, আইন ও কাঠামো প্রণয়ন করবে। এটি একদিকে যেমন গণমাধ্যমের পেশাগত ও বাণিজ্যিক উভয় দিকের বিকাশের ব্যবস্থা দেখাবে, অন্যদিকে ইথিক্যাল জার্নালিজমকে এগিয়ে নেবে, তেমনি মিডিয়া ও সাংবাদিকদের বিপথগামিতা এবং অপসাংবাদিকতার পথ বন্ধ করবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাকশাল গঠনের পর মাত্র চারটি সরকারি পত্রিকা রেখে দেশের সব সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছিল, যা ছিল সাংবাদিকতার অপমৃত্যুর এক কালো অধ্যায়। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।’

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা মানে নিজের মত প্রকাশ করতে পারা। কেউ দ্বিমত পোষণ করলে লেখার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ হবে, কিন্তু কোনো শক্তি দিয়ে কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের মতো গণহত্যাকে মিডিয়ায় জায়েজ করার চেষ্টা করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস বা ঐক্যের সুযোগ নেই। বরং তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। যেটার মধ্যে কিন্তু সরকারের কোনো নজরদারি নেই। আওয়ামী শাসন আমলে প্রেস ক্লাব সব সময় বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে। কোনো কিছু পায়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে নেওয়া হলো যে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কনফেস্ট করা হবে। এটি একটি প্রাইভেট ক্লাব। সরকারের টাকায় কিন্তু জাতীয় প্রেস ক্লাব চলে না। এক টাকা অনুমোদনও আমরা নিই না। আমাদের সহকর্মী মরহুম ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী আওয়ামী আমলের সেই বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কথামালার রাজনীতি’ সেটার কিন্তু আরো গবেষণা হওয়া উচিত। সেটার আরো এক্সটেনশন হওয়া উচিত। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের যে মিথ্যাচার সেগুলো লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত। সেই সময়কার যে অন্ধকার দিকগুলো সেগুলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য প্রচুর গবেষণা হওয়া দরকার।” 

তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের অভিযাত্রার বিরুদ্ধে, বিপুল ম্যান্ডেট পাওয়া নির্বাচিত সরকারকে নসাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র চলছে, দেশের বাইরে চলছে। সীমান্তে রক্ত ঝরছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্ন এবং ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা খুবই দরকার।’

অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার প্রমুখ।

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন হবে না : পাটমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন হবে না : পাটমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস‌্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সোমবারের প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
 
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।
পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারাভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, ১টি মিলের বিপরীতে দাখিলকৃত এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।  

ইজারাবহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জাতীয় সংসদে সোমবার (১৫ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সংশোধিত বাজেটে বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

সম্পূরক বাজেটের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরকারের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের আহ্বান জানান।

মসলার দাম ৫০% বেড়েছে, রোজায় আরো ভোগাতে পারে | কালের কণ্ঠ