তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সবাই এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বলেন বাজেট অনেক বেশি হয়ে গেছে। যদি উন্নয়ন চান, বাজেট বরাদ্দ তো বেশি হতেই হবে। বাসায় আপনি যদি ডাল-ভাতের বাজেট করেন, আর খেতে চান বিরিয়ানি, সেটা তো চলবে না। উন্নয়ন চাইলে বড় বাজেটও মেনে নিতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রস্তাবিত বাজেটকে সময়োপযোগী, মানবিক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে পরিকল্পিতভাবে অর্থনীতি, শিক্ষা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এই বাজেট প্রণয়ন করেছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, সড়ক ও উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়, বর্তমান সরকারের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন, এই সরকারই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড নিয়ে সমালোচনার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান বলেন, যারা একসময় এসব উদ্যোগকে ‘ভুয়া’ বলেছিলেন, তারাই এখন এই সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তার মতে, মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া ৪০ লাখ পরিবার শুধু উপকৃতই হবে না, এই অর্থ গ্রামীণ বাজারে ব্যয় হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, জিয়া পরিবার বিভিন্ন সংকটে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়েছিল, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবারও মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।
নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৪৭ কোটি টাকায় কেনার পর তা বেসরকারি খাতে বিক্রি করে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনা মূল্যেই দেশের মানুষ বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচারস্বত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও তরুণদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে তথ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।



