• ই-পেপার

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেউ গ্রেপ্তার হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার হাজি, ৫৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার হাজি, ৫৪ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

এ বছর সৌদি আরবে হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৫৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। আর হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সবশেষ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত মোট ফিরতি ফ্লাইটের সংখ্যা ১৫২টি। এসব ফ্লাইটে সরকারি মাধ্যমে যাওয়া হাজিদের মধ্যে ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমের ৫৬ হাজার ২৬৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৬টি ফ্লাইটে ২৬ হাজার ৮৬৮ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৪টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৪৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৪ হাজার ৩ জন হাজি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার লোক সৌদি আরবে হজ করতে গেছেন। গত ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

এদিকে, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত যে ৫৪ জন হজযাত্রী ও হাজির মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারীরা। মক্কায় ৩৭ এবং মদিনায় ১৬ এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। মিনা, আরাফা, মুজদালিফা ও জেদ্দায় কোনো হাজির মৃত্যুর তথ্য নেই।

সবশেষ গেল মঙ্গলবার কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা আকলিমা আক্তার মদিনায় অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন। ৪৪ বছর বয়সী আকলিমা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গেল ১৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। আগের বছর হজে গিয়ে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালে হজে গিয়ে ১২১ জন হাজি ও হজযাত্রী মারা যান, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৪১৫ জন হাজি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ জন হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বছর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ৩০টি লিড হজ এজেন্সির আওতায় সরকারি কোটায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি কোটায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী হজের কার্যক্রমে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল সৌদি আরবের উদ্দেশে প্রথম প্রাক হজ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ে এবং শেষ ফ্লাইট পৌঁছায় ২১ মে।

১৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

তীব্র গমের মধ্যেই আষাঢ়ের বৃষ্টিতে নতুন রূপে সাজছে প্রকৃতি। তবে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনো বিরাজ করছে ৩৬ ডিগ্রির ঘরে। এই অবস্থায় শুক্রবার (১৯ জুন) রাতের মধ্যেই ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার মধ্যে ঢাকা ছাড়াও ফরিদপুর, পাবনা, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮৬ মিলিমিটার ছাড়াও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭৪, সাতক্ষীরায় ৭১, খুলনার কয়রায় ৬২, বাগেরহাটের মোংলায় ৬১, নরসিংদী ও নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৫২ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা খাত আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষা খাত আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষা খাত আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। এই আয়োজন অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে।”

এরই অংশ হিসেবে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’

শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই
সংগৃহীত ছবি

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ২টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন কবি আল মুজাহিদী। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান। তিনি এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, ‎প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ‎ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, ‎পাখির পৃথিবী, ‎আলবাট্রাস, ‎ভঙুর গোলাপ, ‎কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও ‎পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।

উপন্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রথম প্রেম, ‎চাঁদ ও চিরকুট, ‎মিলু এট ও স্যোন্যাটা, ‎লাল বাতির হরিণ, ‎রুপোলি রোদ্দুর, ‎আলোর পাখিটা, ‎ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ- ‎প্রপঞ্চের পাখি, ‎বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। এছাড়া শিশুসাহিত্যের মধ্যে রয়েছে- হালুম হুলুম, ‎তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ‎ইস্টিশানে হুইসেল।

এ ছাড়া প্রবন্ধগ্রন্থ- সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। ‎অনুবাদগ্রন্থ- ‎কাইফি আজমির কবিতা, ‎পৃথিবীর কবিতা, ‎আহমদ ফরাজের কবিতা, ‎উর্দু কবিতা, হিন্দি কবিতা ও ‎হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- কালান্তরের যাত্রী।

কবি আল মুজাহিদী জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, ‎কবি জসীম উদ্‌দীন একাডেমি পুরস্কার, ‎মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, ‎জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক লাভ করেন।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেউ গ্রেপ্তার হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | কালের কণ্ঠ