• ই-পেপার

পুনরায় নির্বাচনের দাবি বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিনের

রাতে শাহবাগে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর ‘ক্লিন-আপ ড্রাইভ’, ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাতে শাহবাগে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর ‘ক্লিন-আপ ড্রাইভ’, ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শাহবাগ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংসদ অধিবেশন শেষ করেই রাতের আঁধারে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। অভিযানে দোকানের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার দায়ে ১০ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ৮টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছান। পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন দোকানের সামনে দীর্ঘসময় ধরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজাউদ্দৌলা পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা করেন। একই সঙ্গে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে দোকানের সামনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। এসময় দোকানীদের মাঝে ঝুড়ি ও পলিথিন বিতরণ করেন তিনি। 

এসময় সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেখানেই অপরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী আজিজ আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজাউদ্দৌলা, সচিব জয়নাল আবেদীন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে বিনতে ফেরদৌসসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সময়মতো কর পরিশোধের তাগিদ ভূমিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সময়মতো কর পরিশোধের তাগিদ ভূমিমন্ত্রীর

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার তাগিদ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। দেশকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর ভূমি ভবনে সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে জোর করে কর আদায় করে সাম্রাজ্য বিস্তার করত, সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখত। কিন্তু আধুনিক সভ্যতায় নাগরিকগণ এবং প্রতিষ্ঠান করের মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রাখে। আপনারা জানেন, একটি দেশ পরিচালনা করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আর এই অর্থের জোগানের জন্য ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান যেমনিভাবে কর প্রদান করছে তেমনি আমাদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে থাকে।

ভূমি মন্ত্রী আরো বলেন, গত সপ্তাহে সংসদে যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তা সবার নিকট গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। সরকার কোন কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য বলেন-আপনারা আপনাদের দপ্তরে প্রাপ্ত ভূমি উন্নয়ন কর দ্রুত পরিশোধ করবেন এবং পরবর্তীতে আপনাদের দপ্তরের বাজেট প্রণয়নের সময় ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করবেন।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ আল বাকি বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১ বছর অনুপস্থিত, নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি দু’বছর স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
১ বছর অনুপস্থিত, নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি দু’বছর স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

বিনা অনুমতিতে এক বছর অফিসে অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনের দুই বছর বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিতাদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (১৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইসি সচিব এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অবমুক্ত করার একাধারে প্রায় ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি এবং বর্তমানে তিনি কোনো কর্মস্থলেই কর্মরত নেই। তিনি কর্তৃপক্ষের আইনানুগ আদেশসহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

তার এই কার্যকলাপ শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও বিধি ৩(গ) অনুযায়ী ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগনামায় কারণ দর্শানো হয় বলেও জানিয়ে নির্বাচন কমিশন। এরপর তিনি লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এতে গত ২০ জানুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। শুনানি অন্তে ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

সার্বিক বিবেচনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজ রওশন আরেফিন ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (২০২৬ ও ২০২৭ সালের) স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হলো। তবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতিকাল ১১ মাস ২৫ দিন তার জমা থাকা অর্জিত ছুটি (পূর্ণ গড় বেতনে) হিসেবে মঞ্জুর করা হলো। সেইসঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করায় সাময়িক বরখাস্তকাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

বিবিসি বাংলা
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

বাংলাদেশের একসময়ের আলোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

রবিবার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বক্তৃতা ও বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার একটি আদালত।

২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইজিপির পদ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর বছর দুয়েক পরে ঢাকার একটি পত্রিকায় (কালের কণ্ঠ) তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করে রিপোর্ট প্রকাশ করলে তা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। সেগুলো নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

রবিবার সাবেক আইজিপি বেজনীর আহমেদের আটকের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করার পর দুদকের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সেখানে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং অপর একটি মামলার বিচার চলছে।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরো পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।’

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রমে আরো গতি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম। তার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে।’

যেভাবে গ্রেপ্তার হন দুবাইয়ে

সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যে ছয়টি মামলা ছিল, তার মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির দুটি মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

দুদক জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে জালিয়াতি করে সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এই মর্মে অভিযোগ ছিল এবং একাধিক পাসপোর্ট তিনি গ্রহণ করেছিলেন।

দুদক কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের যে পাঁচটি মামলা হয়েছিল সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেখানে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি টাকারও ওপরে।

তিনি বলেন, এসব মামলায় বেনজীর আহমেদকে হাজির করতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম।

পরে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি।

রবিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।’

দেশে ফেরানো হবে কোন প্রক্রিয়ায়?

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে কবে ফেরানো হবে কিংবা ঠিক কী প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে, সেই বিষয়গুলো সামনে আসছে।

রবিবার দুদকের পক্ষ থেকে যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেও এই প্রশ্নটি এসেছিল সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।

জবাবে দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তারে দুদক ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারকাজ শেষ করা হবে।

তাকে দেশে ফিরিয়ে কি দুদকের কাছেও হস্তান্তর করা হবে কি না জিজ্ঞাসাবাদে, এমন প্রশ্নও উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। তবে এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করেনি দুদক।

তবে কিভাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তার একটি প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে যে, ইউএইএ ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ (২০০৬) অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণের আবেদন) প্রেরণ করতে হবে’।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করেছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করে অতি দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে এবং তাকে দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলোচিত সমালোচিত আইজিপি

পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ।

যদিও তিনি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার’ মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য।

বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তিনি কখনোই ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ টার্মটিকে গ্রহণ করতেন না।

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নানা বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছিল।

র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকার ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি বলেছিলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি সস্তা প্রচারণা। একটি বিশেষ মহল এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধীরা অপরাধ করবে আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা চেয়ে চেয়ে দেখবে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কি অস্ত্র দেওয়া হয়েছে হাডুডু খেলার জন্য?’

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে ঢাকার বোট ক্লাবে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রকাশ হয় যে ওই ক্লাবের সভাপতি তখনকার আইজিপি বেনজীর আহমেদ নিজেই।

২০২১ সালের জুনে ওই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করে এবং ওই ক্লাবের একজন সাবেক সভাপতি পরবর্তীতে আটক হন। তারও পরে জেলে যেতে হয় ওই চিত্রনায়িকাকেও।

কিন্তু ঢাকার আশুলিয়ায় বোট ক্লাবের ছবি ও এর সভাপতি হিসেবে বেনজীর আহমেদের নাম আসার পর তা ঝড় তোলে সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে। এমনকি বিপুল অর্থ দিয়ে কিভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই ধরনের ক্লাবের সদস্য হতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে জাতীয় সংসদেও।

বিশেষ করে একটি বাণিজ্যিক ক্লাবের সভাপতি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আইজিপি থাকতে পারেন কি না, সে প্রশ্নও উঠেছিল তখন।

২০১৩ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনের সড়ক বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। তখন সেখানে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছিল বালুর ট্রাক, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপি নেতারা এ ঘটনার জন্য তখনকার ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের যে অবরোধ কর্মসূচি ছিলো সে সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির কমিশনার ছিলেন বেনজীর আহমেদ।

হেফাজতে ইসলামীর বিশাল সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে তখন আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

পুনরায় নির্বাচনের দাবি বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিনের | কালের কণ্ঠ