বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরো বিস্তৃত করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্কিমের আওতায় অবসরের সময় মোট জমার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ গ্র্যাচুইটি বা এককালীন আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাজেটে উপস্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় বেশি।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চারটি স্কিমে ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। মোট তহবিল জমা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা, আর বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকার কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসরকালীন কোনো নিশ্চিত আয়ের আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাঠামোগত নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল।
স্কিমকে আরো কার্যকর ও আকর্ষণীয় করতে কয়েকটি নতুন প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রস্তাবিত প্রগতি স্কিম অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মী উভয়েই চাঁদা দেবেন ৫০-৫০ অনুপাতে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ থাকবে ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া মাসিক চাঁদার ওপর কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন করমুক্ত থাকবে। ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ অর্থ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে উত্তোলনের সুযোগও থাকবে। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালিত হবে।




